Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.1/5 (160 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৪-২০১২

টেস্টিং সল্টের নামে বিষ খাচ্ছেন

টেস্টিং সল্টের নামে বিষ খাচ্ছেন

খাবারকে মুখরোচক বা মজাদার করার কাজে আজ স্বাদ লবণ বা টেস্টিং সল্ট নামের একটি রাসায়নিক উপাদান বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি এখন রন্ধনশিল্পের যত না উপকরণ, তারচেয়ে বেশি, রন্ধন-ফ্যাশন।
অথচ এটি ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করলে স্বায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে স্বায়ু-বিষ বলেন। এটার আরেক নাম হচ্ছে ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম’।

 অধ্যাপক ড. এ বি এম ফারুক বলেন, “সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা টেস্টিং সল্ট বা স্বাদ লবণ অধিক পরিমাণে ব্যবহারের কুফল  অনেকে বেশি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কয়েক বছর আগে নতুন একটি অসুখ আবিষ্কার করেছে। তার নাম হলো চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম। এই অসুখে আগে কখনো বিশ্ব ছিলো না। এই অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার দাবার অরুচিকর মনে হয়, তাদের মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস বা লোপ পায়। গভীর মনোযোগের কাজ করতে গেলে স্নায়ুগুলোকে প্রচণ্ড কাজ করতে হয়। টেস্টিং সল্ট খেয়ে খেয়ে এ সব স্নায়ুর ক্ষতি হচ্ছে তাই গভীর মনোযোগের কাজ করা আর স্নায়ুর পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। তার ঘুম কম হয়। আর এরও কারণ হলো টেস্টিং সল্ট দেহে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বিষিয়ে দেয়। ফলে স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।”

যারা ঘন ঘন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খেতে যান তাদের এই মধ্যে এই অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এর জন্য দায়ী হলো, সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা মনো সোডিয়াম গ্লুকোমেট নামের রাসায়নিক উপাদান যা চাইনিজ রান্নায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। তবে এর ব্যবহার কেবল চাইনিজ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং আজকাল ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণ টেস্টিং সল্ট ব্যবহৃত হচ্ছে।

কোনো খাবারে টেস্টিং সল্ট আছে কিনা তা খাওয়ার মুখে দিয়েই বোঝা সম্ভব। কোনো খাবারে ঝাঁঝালো নোনা স্বাদ পাওয়া গেলে বুঝতে হবে তাতে টেস্টিং সল্ট আছে। এ জিনিস আজকাল বাংলাদেশের বাজারে যে সব কথিত পটেটো চিপস বিক্রি হয় তাতে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। ব্যবহার হয় চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে নানা খাদ্যে।

আরও পড়ুন: ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি কতটা কাজে লাগে?

স্নায়ুতে বিষক্রিয়া তৈরি করে এমন এই উপাদানের ব্যবহার আজকের বাংলাদেশে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ভাবে খাদ্য দ্রব্যে বিশেষ করে বাজারে যে সব খাবার বিক্রি হয় তাতে টেস্টিং সল্ট ব্যবহারে মাধ্যমে প্রচুর লাভবান হচ্ছে দোকানদার বা বিক্রেতারা। এসব খাবারের মধ্যে অনেকগুলোই শিশু-কিশোরদের কাছে খুবই লোভনীয়। তারা সুযোগ পেলেই এ সব খাবার খায়। আর কোনো কোনো শিশু-কিশোর নিয়মিত এ সব খাবার চেখে দেখার সুযোগ পায়। ফলে তাদের তাদের কচি স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিয়মিত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হলে বমি ভাব, মাথা ব্যথা, অনিন্দ্রা, খাবারে অরুচি, স্মৃতি শক্তিহ্রাস, দেহের অংশ বিশেষের কাপুনি, বুকে চাপ অনুভব করা, কোনো কারণ ছাড়া দুর্বল লাগা, হাতের তালু বা পায়ের তালুতে জ্বলুনি অনুভব করা, গলায় একইভাবে জ্বলুনি অনুভব করা, সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো শেষ পর্যন্ত পার্কিন্সন্স ডিজিজ বা অ্যালঝেইমার্স ডিজিজের মতো মারাত্মক অসুখ হতে পারে।

আরও পড়ুন: প্রাণঘাতি ক্যান্সার নির্মূল করে যে থেরাপি

টেস্টিং সল্টের ব্যাপক ব্যবহারের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রথমেই যে সব খাবারে এ জাতীয় রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় তার ব্যবহার সীমিত করতে হবে। অর্থাৎ কেনা খাবারের ব্যবহার কমাতে হবে। তবে সীমিত মাত্রায় খাদ্যে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সেটাও হতে হবে অনিয়মিত। সীমিত মাত্রায় নিয়মিত যদি টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয় তবে তাতেও ক্ষতি হবে। টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা বন্ধ করে দিলে জমে থাকা এই স্নায়ুবিষ শরীর ধীরে ধীরে বের করে দেয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। তাই যারা এখনো সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা মনো সোডিয়াম গ্লুকোমেট ব্যবহার করছেন তারা এর ব্যবহার আজ থেকেই বন্ধ করে দিন।

দ্বিতীয়ত বাজারে যে খাবার বিক্রি করা হয় তাতে কি পরিমাণ টেস্টিং সল্ট ব্যবহার হচ্ছে তার উল্লেখ থাকতে হবে। এ কাজটি সরকার আইন করে করতে পারে।

 

গবেষণা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে