Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৪-২০১২

ঘর না গুছিয়েই মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

ঘর না গুছিয়েই মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ
দল না গুছিয়েই বিরোধী দলকে মোকাবেলায় মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ কারণে সরকারি দলের কর্মসূচিতে কর্মীদের উপস্থিতি কম। এর প্রমাণ পাওয়া যায় গত মঙ্গলবার রাজধানীতে ১৪ দলের মানবপ্রাচীর কর্মসূচিতে। গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন এবং টিভি ক্যামেরার উপস্থিতি ছিল, সেখানে কিছু তৃণমূল নেতাকর্মী দল বেধে অবস্থান করলেও অন্য জায়গা ছিল প্রায় ফাঁকা। সূত্র জানায়, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি ও জোট শরিকরা সরকার পতনের বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে। বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চুপচাপ থাকলেও এখন তারা পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপির গণমিছিলের দিন আওয়ামী লীগ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। সংঘাত এড়াতে পুলিশ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও পরের দিন দু'দলই গণমিছিল ও সমাবেশ করে। বিএনপির গণমিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেলেও তুলনামূলক কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে। এদিকে আগামী মার্চ পর্যন্ত রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য তারা ভবিষ্যৎ কর্মসূচিগুলোতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে কয়েকদিন পরপর বর্ধিত সভা, যৌথসভা করতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগকে। এদিকে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির ৩ বছরের মেয়াদ প্রায় শেষের পথে। এই সময়কালে মাত্র তিনটি জেলার সম্মেলন করতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান কমিটি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়েই দলের আগামী সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও প্রকাশ্যে একাধিকবার এমন ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও কাজ সেভাবে এগোয়নি। সাংগঠনিক কর্মকা-ের অগ্রগতি না হওয়ার কারণ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রী-এমপিদের দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব। এই দ্বন্দ্ব-দূরত্ব কমিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন। এরই মধ্যে তিনি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, যশোর জেলা ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঢাকায় ডেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে দলের সব জেলা শাখার নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমন বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের বিগত কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে প্রভাবশালী নেতাদের ছেঁটে ফেলে সুযোগ দেয়া হয় একঝাঁক নতুন মুখকে। কিন্তু তারা দলের সাংগঠনিক গতি বাড়াতে ৭ পারেননি। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও এখন পর্যন্ত অনেক উপ-কমিটি গঠন হয়নি। ব্যাপক প্রচার চালিয়ে দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন অভিযান শুরু হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই। সদস্য সংগ্রহ অভিযানের পরেই ওয়ার্ড-ইউনিট থেকে সম্মেলন শুরু করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে থানা-উপজেলা ও জেলা কমিটি হওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে নবীন নেতারা সেভাবে দলের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, অন্যদিকে প্রবীণ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তাদের অনুসারী বিপুলসংখ্যক ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী দলের কর্মসূচিতে আগের মতো নিয়মিত থাকছেন না। জানা গেছে, দলের বর্তমান জেলা শাখা কমিটিগুলোর বেশির ভাগেরই সম্মেলন হয়েছে ২০০৬ সালের আগে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ঢাকা বিভাগে গতবছর শুধু ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন হয়। কিন্তু দলের মহানগর শাখার সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৩ সালের ৩ জুন। কয়েক দফায় মহানগর কমিটি ভেঙে দুটি কমিটি করার ব্যাপারে আলোচনা হলেও কোন্দলের কারণে তা হয়নি। সৈয়দ আশরাফের নিজের জেলা কিশোরগঞ্জে সম্মেলন হয়েছে ১৯৯৩ সালে। এছাড়া ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জ, ২০০০ সালে মুন্সীগঞ্জ, ২০০৬ সালে মাদারীপুর, ২০০৪ সালে নরসিংদী, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ, ২০০৩ সালে রাজবাড়ী, জামালপুর, শরীয়তপুর, ২০০৫ সালে শেরপুর, গাজীপুর জেলা শাখায় সম্মেলন হয়। চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৬ সালের ১৬ জুন। সে সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি এবং কাজী এনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। কয়েকজন সদস্যকে কো-অপ্ট করা হয়েছে মাত্র। এদিকে চট্টগ্রাম জেলার উত্তর অংশের সম্মেলন হয় ২০০৪ সালের ১৩ এপ্রিল। দক্ষিণের সম্মেলন হয় ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট। কুমিল্লা জেলায় (উত্তর ও দক্ষিণের) সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৯৯৭ সালে। ২০০৫ সালে চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সম্মেলন হয়। ২০০৪ সালে নোয়াখালী, ২০০৩ সালে লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, কক্সবাজার ২০০২ সালে বান্দরবান জেলায় সম্মেলন হয়। রাজশাহী জেলায় ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। ২০১১ সালের অক্টোবরে এই কমিটি কেন্দ্র দ্বারা অনুমোদিত হয়। জয়পুরহাট, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা জেলা ও মহানগরের সম্মেলন হয়েছে কয়েক বছর আগে। প্রতিটি কমিটির মেয়াদ প্রায় দ্বিগুণ। ২০০৩ সালে কুষ্টিয়ায় এবং ২০০৫ সালে বাগেরহাট ও ঝিনাইদহে সম্মেলন হয়েছে। নড়াইল জেলায় ২০০৬ সালে সম্মেলন হলেও কমিটি হয় ২০০৭ সালে। রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১০ সালে। ২০০৪ সালে দিনাজপুর, লালমনিরহাট, ২০০৬ সালে নীলফামারী, ২০০৫ সালে ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা এবং ২০০৩ সালে পঞ্চগড়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল মহানগর কমিটির সম্মেলন হয় ২০০৩ সালে। বরিশাল জেলা শাখার সম্মেলন হয় ১৯৯৭ সালে। ২০০৬ সালে ঝালকাঠি, ১৯৯৭ সালে পটুয়াখালী, ২০০৩ সালে পিরোজপুর, ২০০৫ সালে বরগুনা ও ভোলা জেলায় সম্মেলন হয়। সিলেট জেলা ও মহানগরের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে কেন্দ্র কমিটি অনুমোদন করে ২০১১ সালে। ১৯৯৭ সালে সুনামগঞ্জ, ২০০৬ সালে মৌলভীবাজার এবং ২০০৩ সালে হবিগঞ্জে সম্মেলন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলনের কথা বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয়নি বছরের পর বছর ধরে। গত কাউন্সিলের আগে কোন্দলের কারণে কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ, ফেনী, বরিশাল জেলা ও মহানগর, পটুয়াখালী এবং সুনামগঞ্জ জেলায় সম্মেলন করা যায়নি। এ ব্যাপারে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জানান, আওয়ামী লীগে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। তৃণমূলে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই সব সম্মেলন শেষ করে জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সব কর্মসূচিতেই সক্রিয় রয়েছেন। নির্ধারিত সময়েই দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। তৃণমূলে সম্মেলন একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা চলতেই থাকবে। আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলে কমবেশি সমস্যা ও জটিলতা থাকতে পারে। এটা বিবেচনায় নিয়ে সবসময় চলা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দলের ও দেশের প্রয়োজনে সব বিভেদ-বিভ্রান্তির ঊধর্ে্ব উঠে কাজ করেন বলে দাবি করেন তিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে