Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (46 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-০৬-২০১৪

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে আসামে বিক্ষোভ

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে আসামে বিক্ষোভ

গৌহাটি, ০৬ জুন- আসামের বরাক উপত্যকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

কুশিয়ারা নদীর তীরে করিমগঞ্জ শহরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জরিপের কাজ শুরু হতেই এই প্রতিবাদ চলছে কয়েকদিন ধরে। সীমান্ত থেকে ১৫০ মিটার দূরে বেড়া দেওয়া হলে শহরের অনেক আবাসিক বাড়ি, দোকান বেড়ার বাইরে চলে যাবে। তাই পুনর্বাসনের দাবি করছেন স্থানীয় মানুষ।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশিরভাগ এলাকাতেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হয়ে গেলেও অবস্থানগত সমস্যা বা স্থানীয় মানুষদের প্রতিবাদের কারণে কিছু জায়গায় এখনও বেড়ার কাজই শুরু করা যায় নি। এরকমই একটা অংশ রয়েছে আসামের বরাক উপত্যকার শহর করিমগঞ্জে।

কুশিয়ারা নদীর তীরের এই শহরে কয়েকদিন আগে বেড়া দেওয়ার জন্য জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন মানুষ।

সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ মিটার ছেড়ে বেড়া দিতে হলে করিমগঞ্জ শহরের অনেক বসতবাড়ী আর দোকান বেড়ার বাইরে চলে যাবে।

এরই বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তার অন্যতম নেতা তাপস পুরকায়স্থ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া তো দিতেই হবে দেশের কথা চিন্তা করে। কিন্তু শহরের চারটি ওয়ার্ড বেড়ার বাইরে চলে যাবে। সেখানকার মানুষদের কী হবে – বিশেষ করে সাধারণ গরীব মানুষ যারা?”

মি. পুরকায়স্থর কথায়, ওই অংশটা বাঁচিয়ে, সাধারণ মানুষদের ঘর-দোকান বাঁচিয়ে যাতে বেড়া দেওয়া হয়, সেটাই দাবি তাদের।

এর আগেও বেড়া দেওয়ার কাজে বাধা দিয়েছেন করিমগঞ্জের মানুষ।

সীমান্তের দেড়শো মিটার দূরে বেড়া দিলে তা যেমন করিমগঞ্জ শহরের একটা অংশের মধ্যে দিয়ে চলে যাবে, তেমনই যদি কুশিয়ারা নদীর তীর বরাবর বেড়া দেওয়া হয়, তাহলেও সমস্যা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ করিমগঞ্জ একটি নদী বন্দর আর আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র। নদীর ধারেই রয়েছে জেটি, গুদাম প্রভৃতি।

কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে তৈরি হওয়া এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে আজ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রতিবাদীরা।

করিমগঞ্জের জেলা প্রশাসক সঞ্জীব গোঁহাই বড়ুয়া বলছেন এটা খুব বড় কোনো সমস্যা না।

তিনি বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া দিতে গেলে কিছু বসত বাড়ি বা দোকানের হয়ত ক্ষয়ক্ষতি হবে। কত বাড়ি বা দোকান বেড়ার বাইরে পড়বে, সেটা জরিপ করানো হবে। আগামী সপ্তাহে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জরিপ শুরু হবে। সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি যাতে খুব কম হয়, আমরা তার চেষ্টা করব।”

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অনেক রাজ্যেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল আগে।

ত্রিপুরা, মেঘালয় আর পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে বেড়ার বাইরে যাঁদের ঘর পড়ে গিয়েছে, তারা কাজে বাধা দিয়েছিলেন।

কিন্তু মূলত আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই পুনর্বাসন দিয়েই সব জায়গায় সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলে বিএসএফের সূত্রগুলি জানিয়েছে।

তবে কোনো ক্ষেত্রেই করিমগঞ্জের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় নি, যেখানে একটা শহরের কিছুটা অংশ বেড়ার বাইরে চলে যাবে।

তবে কোনো গ্রাম বা জনবসতি বেড়ার বাইরের ১৫০ মিটারের মধ্যে পড়ে গেলে মানুষের যাতায়াতের জন্য লোহার দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিচয়পত্র দেখিয়ে সেখান দিয়ে সকাল সন্ধ্যে যাতায়াত করতে পারেন ভারতীয়রা।

তবে সন্ধ্যায় দরজা বন্ধ হওয়ার পরে কোনো কারণে বেড়া পেরতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা হেনস্থা করেন বলেও অনেক সময়ে অভিযোগ ওঠে। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সেই অভিযোগগুলি সবসময়ে স্বীকার করে না।

সীমান্তে বেড়া দেওয়ার বেশির ভাগ কাজই শেষ হয়ে গেছে আর যে জায়গায় বেড়া দেওয়া বাকি রয়েছে, সেটাও এবছরের মধ্যেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলি বলছে, যে জায়গায় বেড়া দেওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব হবে না, সেই জায়গায় সীমান্তের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। কেউ সীমান্ত পেরতে গেলেই যাতে চিহ্নিত করা যায়।

আসাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে