Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৩-২০১২

সাংবাদিক দম্পতি খুন : তদন্তে অগ্রগতি

তোহুর আহমদ


সাংবাদিক দম্পতি খুন : তদন্তে অগ্রগতি
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির খুনের ঘটনা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুনিদের শনাক্ত করতে পেরেছে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাগর ও রুনির পুত্র মেঘের বক্তব্য ও পুলিশের উদ্ধার করা নানা আলামত আসামি শনাক্ত করতে সহায়ক হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পিকনিকের ভিডিও ফুটেজও মেঘকে দেখানো হয়েছে। যা তদন্ত কাজকে এগিয়ে নিয়েছে। সন্দেহভাজনরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতেই রয়েছে। তারা মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বলে নানা মহলে জোর আলোচনাও রয়েছে। তাদের উপস্থাপনের কৌশল ও বক্তব্য প্রকাশের পদ্ধতি কি হবে তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্তারা একাধিক বৈঠকও করেছেন। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গত রাত ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। আজ দুপুরে সদর দপ্তরে পুলিশ প্রধানের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। এতে পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করবেন- এমনটাই ভাবা হচ্ছে।
তবে সাগর ও রুনির হত্যাকারী কে? কেনই বা এমন নৃশংসভাবে তাদের খুন করা হলো? হত্যাকারী কি আগে থেকেই ফ্ল্যাটে ছিল? তারা বের হলো কিভাবে? গতকাল এসব প্রশ্নই ছিল মুখে মুখে। তবে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র গত রাতে জানিয়েছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করেছেন। তবে মূলত ৩টি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম। এগুলো হলো ব্যক্তিগত বিরোধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও সংবাদ প্রকাশের জের। ওদিকে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে।
ওদিকে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর গতকাল হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেরেবাংলানগর থানায় মামলাটি করেছেন মেহেরুন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান। মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাগর-রুনি খুনের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী শিশু সন্তান মাহিন সরওয়ার মেঘকে দিয়ে মহড়া দেয়ানো হয়েছে। সকাল দশটার দিকে মেহেরুন রুনির মা, রুনির ছেলে মেঘ ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমানকে নিয়ে সেখানে যান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মারুফ হাসান, ডিসি (ডিবি) উত্তর মাহবুবুর রহমান, ডিসি (তেজগাঁও) ইমাম হাসান ও এডিসি (ডিবি) উত্তর মনিরুজ্জামান। মহড়া শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মারুফ হাসান বলেন, আমরা নিশ্চিত হতে চাইছি খুনি ক’জন ছিল। সে জন্যই নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল বাসাটি সিল করে দেয়া হয়েছে। বাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই সব কিছু বলা যাচ্ছে না।
জিজ্ঞাসাবাদ: এখন পর্যন্ত পুলিশ শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই ভবনের প্রায় সবগুলো ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মেহেরুন রুনির দুই ভাইকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এমন কথা শোনা যাচ্ছিল রুনির দুই ভাই মাদকাসক্ত। তারা নেশার টাকা না পেয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করেনি। তারা বলছে, রুনির দুই ভাই নেশাগ্রস্ত এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
মুখ খুলছে না দারোয়ান: শনিবার সকালেই আটক করা হয়েছে সেদিন দায়িত্বপালনরত দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে। কিন্তু সে প্রথম থেকে একই কথা বলছে। সাগর-রুনির ফ্ল্যাট এ-৪ নম্বরে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখেনি সে। পুলিশ বলছে, সে কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। খুনি অবশ্যই মূল ফটক দিয়ে বেরিয়েছে। কিন্তু কোন কারণে তা গোপন করছে দারোয়ান। গতকাল ওই ভবনের সিকিউরিটি ম্যানেজার আবু তাহের ও আরেক দারোয়ান হুমায়ুনকে আটক করে পলাশের মুখোমুখি করা হয়েছে। কিন্তু এতেও তেমন কোন তথ্য মেলেনি। শেরেবাংলানগর থানার ওসি জাকির হোসেন জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। নানা কৌশলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি, পলাশ জানে কে ঢুকেছিল।
কে এই তৌফিক: ভবনের নিচে রাখা অতিথি নিবন্ধন খাতা অনুযায়ী সর্বশেষ অতিথি হিসেবে সাগর-রুনির এ-৪ ফ্ল্যাটে ঢুকেছিল তৌফিক নামের এক ব্যক্তি। ঠিকানা হিসেবে লেখা হয়েছে কমলাপুর। তবে তিনি কখন বের হয়ে গেছেন তা লেখা হয়নি। এই তৌফিককে চিনতে পারেনি সাগর-রুনির পরিবারের সদস্যরা।
সাগরের মায়ের আহাজারি থামছে না: গতকাল সাগর সরওয়ার পৈতৃক বাড়ি পুরনো ঢাকার ৬ নবাবপুর রোডে গেলে দেখা যায়, আহাজারি করছেন শয্যাশায়ী মা সালেহা মনি। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন স্বজনেরা। সাংবাদিক এসেছে শুনে মা বলেন, আমার মানিক জোড়কে হারিয়ে ফেলেছি। তোমরা সাবধানে থাকো। তিনি রুনিকে উদ্দেশ্য করে বিলাপ করছিলেন, ও আমার ছেলের বউ ছিল না। ছিল আমার মা। ক’দিন আগে রুনি আমাকে বলেছিল, মা তোমার পা দু’টো অনেক সুন্দর। তোমাকে একজোড়া সুন্দর জুতো কিনে দিবো। কিন্তু আমার মাকে কেন মেরে ফেললো। সাগরের মেজ বোন মঞ্জু আরার সঙ্গে থাকেন তিনি। বিয়ের পর এখানেই থাকতেন সাগর। কিন্তু পুরনো ঢাকার জ্যাম ঠেলে অফিস যেতে অসুবিধা হতো, তাই আলাদা বাসা নিয়েছিলেন।
কবরে মেঘের ফুল: সাগর-মেহেরুন রুনির একমাত্র সন্তান মাহিন সরওয়ার মেঘ গতকাল মামাদের সঙ্গে গিয়েছিল বাবা-মায়ের কবরে। সেখানে গিয়ে অনেক কান্নাকাটি করে সে। বলে, আমি আব্বু-আম্মুর কাছে যাবো। আমাকে আব্বুর কাছে নিয়ে চলো। এসময় কবরের নিস্তব্ধ পরিবেশে আরও নিস্তব্ধতা নেমে আসে। কিন্তু মেঘের এসব প্রশ্নের কোন উত্তর কেউ দিতে পারেনি। রুনির নানা হারুনুর রশিদ বলেন, ঘাতকরা কেন এত নির্মমভাবে সাগর-রুনিকে মারলো? ওদের বড় শত্রু আছে তা কখনও শুনিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে