Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (109 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৩-২০১৪

ফেসবুক মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবে না: শেরিল

ফেসবুক মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবে না: শেরিল

ক্যালিফোর্নিয়া, ০৩ জুলাই- ফেসবুক মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবে না বলেই সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ। দিন কয়েক আগে ভারত সফরে এসেছেন ফেসবুকের এই নারী কর্মকর্তা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে শেরিল স্বীকার করেছেন, ফেসবুকের বিতর্কিত পরীক্ষার সময় ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ব্যবহারকারীদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে শেরিল জোর দিয়ে বলেছেন, ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসির বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেয় ফেসবুক।

শেরিল বলেন, ‘আবেগ নিয়ে গবেষণা করার সময় আমাদের যোগাযোগের ধরন ছিল জঘন্য। আমরা আশা করছি, ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসির বিষয়টিকে আমরা যে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি, সেটা তাঁরা বুঝবেন। আমরা স্বচ্ছ থাকতে চাই এবং ব্যবহারকারীদের কাছেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিতে চাই।’

ফেসবুকের এই পরীক্ষা সম্পর্কে শেরিল বলেন, ‘পরীক্ষা ছিল খুব সামান্য আর এর ব্যাপ্তি ছিল মাত্র এক সপ্তাহ। প্রাইভেসি সুরক্ষায় যেভাবে পরীক্ষা করা হয়, এ ক্ষেত্রেও সে রকম পরীক্ষা করা হয়েছে।’

২০১২ সালে ব্যবহারকারীদের না জানিয়ে তাঁদের তথ্য নিয়ে ফেসবুকের আবেগ নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত গবেষণার জন্য বর্তমানে সমালোচনা করছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। সম্প্রতি এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি দেশের প্রাইভেসিবিষয়ক কর্মী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিড পরিবর্তন করে দিয়ে মানুষের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। শেরিল স্যান্ডবার্গ এ বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে না, কখনো করবেও না।’

ব্যবহারকারীদের আবেগ নিয়ে গবেষণা করায় যুক্তরাজ্যে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছে ফেসবুক। ২০১২ সালে চালানো ওই গবেষণায় ফেসবুক তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের তথ্য সুরক্ষাবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইনফরমেশন কমিশনারস অফিস (আইসিও) জানিয়েছে, ‘গবেষণা প্রসঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করছে তারা।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকের এই গবেষণায় প্রায় সাত লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর হোমপেজের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। এই গবেষণা করতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর নিউজ ফিড ফিল্টার করে তাতে মানুষের মন্তব্য, ভিডিও, ছবি ওয়েব লিংক শেয়ার করার বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বড় ধরনের আবেগ-সংক্রান্ত বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে কোনো বন্ধুর অনলাইনে প্রকাশ করা আবেগের বিষয়টি অন্যদের প্রভাবিত করতে দেখা যায়।
স্যান্ডবার্গ বলেছেন, ফেসবুকের গবেষণা বিষয়ে যেসব দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখোমুখি হতে হবে, তাদের সঙ্গে ফেসবুকের কর্মকর্তারা আলোচনা করবেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত সেবা দিতেই এই গবেষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ফেসবুকের কর্মকর্তারা।

অবশ্য, প্রযুক্তির বিশ্বে সমালোচকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভোটের রাজনীতিতেও কাজে লাগানো হতে পারে ফেসবুকের গোপন গবেষণার ফল।

শেরিল তাঁর সাক্ষাত্কারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে বলেছেন, বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মধ্যে ফেসবুকে দ্বিতীয় জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্ব ও ফেসবুকে তাঁর জনপ্রিয় পোস্টগুলো সম্পর্কেও জানান তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে