Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১২-২০১২

এখন আগে ‍মন্ত্রী, পরে দলের কর্মী হয়: তোফায়েল

এখন আগে ‍মন্ত্রী, পরে দলের কর্মী হয়: তোফায়েল
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ছাত্র লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আজ পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন হয় না। আগে রাজনীতিতে দলের কর্মী, তারপর নেতা, তারপর মন্ত্রী হতো। আজ আগে মন্ত্রী হয়, তারপর দলের কর্মী হয়।’

শনিবার ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি সদ্য প্রয়াত মাজহারুল হক বাকির শোকসভায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন এ শোকসভার আয়োজন করে।

এসময় তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া ক্ষমতা নিয়ে বলেছিল আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দিয়ে যাবো। আজ সত্যিই রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে রাজনীতিতে দলের কর্মী, তারপর নেতা, তারপর মন্ত্রী হতো। আজ আগে মন্ত্রী হয়, তারপর দলের কর্মী হয়।’

অতীত রাজনীতিতে সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘আমরা ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল করেছি। কিন্তু এক টেবিলে বসে আমাদের বিতর্ক হয়েছে। একসঙ্গে উঠা বসা করেছি। আজ একই দল করেও একে অপরকে হত্যা করে। আমরা পরিবার, মা-বাবার কাছ থেকে ১৫০ টাকা নিলে ১০০ টাকা নিজের জন্য ৫০ টাকা দলের জন্য খরচ করতাম।’

তিনি এক উদাহরণ টেনে বলেন, ‘দলীয় অফিসের ভাড়া বাকি থাকায় বাড়ির মালিক আব্দুর রাজ্জাককে আটকে রাখে এবং বলে ভাড়া পরিশোধ না করলে যেতে পারবেন না। এরপর রাজ্জাক কয়েক দিনের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করে। এ ঘটনা যদি আজকে হতো তাহলে হয়ত বাড়িওয়ালার ঘর ভাঙচুর ও শারীরিকভাবে মারধর করা হতো।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয় তবে আজকের পরিস্থিতি হতো না। বঙ্গবন্ধু কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করতেন। আজ পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। যে কর্মী মাঠে কাজ করে তার কোনো জায়গা নেই।’

তিনি শিক্ষক রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘আজ শিক্ষকরা হয় আওয়ামী লীগের, নয়তো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা রাজনৈতিক সভা সমাবেশের সামনে গিয়ে বসে থাকে।’

‘এ অবস্থা হলে ছাত্ররা কেন শিক্ষকদের সম্মান করবে। শিক্ষকদের এমনটা করা উচিত হচ্ছে না।’

নবগঠিত নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসি গঠন করা হয়েছে কিন্তু বিএনপি বলছে এ ইসি মানবে না। তারা সংসদে আসে না, দায়িত্ব পালন করে না। এখন তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা বলছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা বলতে হলে সংসদে এসে প্রস্তাব দিন। নাম জমা দিন। তারা সংসদে আসছে না, জনগণের দেওয়া দায়িত্বও পালন করছে না। আমরা যারা সংসদে যাই তারা সামনের কাতারে বসে ঝিমাই। কি করবো? বিরোধী দল তো নেই। দুই একটি কথা বলি। তাও দল ও সরকার রক্ষা করে বলতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘মাজহারুল হক বাকি আমার নেতা ছিলেন। রাজনীতিতে তার যে জায়গায় যাওয়ার কথা সেই জায়গায় হয়ত তাকে পৌছুতে দেখিনি। কিন্তু ছাত্রলীগের, স্বাধীনতার সংগ্রামের তিনি একজন পরিপূর্ণ নিবেদিত প্রাণ ছিলেন।’

শোকসভায় আব্দুল জলিল বলেন, ‘মাজহারুল হক বাকি মৃত্যূর পর যে ধরনের সম্মান পাওয়ার কথা ছিল হয়ত তা তিনি পাননি। আব্দুর রাজ্জাককেও আমরা জাতীয়ভাবে সম্মান দেখাতে পারিনি। কিন্তু জাতি তাকে যথাযথ সম্মান দেখিয়েছে। জাতীয় বীরদের আমরা সম্মান দেখাতে পারছি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা, দৈন্য। হয়ত আমরাও যখন বিদায় নেব, আমাদেরও এভাবে দূরে ফেলে দেওয়া হবে।’

জলিল বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণে আমরা জাতীয় স্মরণ সভা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখানে সমস্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকবেন।’

জাতীয় চার নেতাসহ প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করা প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘শুধু তাদের জন্যে বড় বড় শোকসভা, স্মরণসভা করে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও আমাদের কর্তব্য শেষ হবে না। তারা যে উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন, প্রয়োজনে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরাও জীবন দেব। এই মানসিকতা ধারণ করতে হবে। তবেই তাদের যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে। সুষ্ঠু রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠার জন্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খালেদ মোহাম্মদ আলী, আবুল হাসান চৌধুরী, শেখ শহিদুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসীন মন্টু, পীর হাবিবুর রহমান, নুরুল ফজল বুলবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে