Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১২-২০১২

'নানু, আমার আব্বু-আম্মু মারা গেছে'

'নানু, আমার আব্বু-আম্মু মারা গেছে'
পাঁচ বছরের ফুটফুটে শিশু মেঘ। দুরন্ত আর প্রাণচঞ্চল। বাবা-মা আর নানির আদরে বর্ণিল আনন্দে কাটছিল তার দিনগুলো। হঠাৎ যেন দুঃস্বপ্নের মতো কালো মেঘ এলো তার জীবনে। বিভীষিকাময় এক রাত তার জন্য বয়ে আনল জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ। গতকাল শনিবার সকালে বাবা-মা'র ঘরে গিয়ে সে দেখল, ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে দু'জনের। তার জীবন থেকে মুছে গেছে সবচেয়ে প্রিয় দু'জন মানুষ। আর কখনও মায়ের কোলে, বাবার বুকে মিলবে না তার নিরাপদ আশ্রয়। ভয়ঙ্কর এ দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে ছোট্ট মেঘ। ফুঁপিয়ে কাঁদে কিছু সময়। তারপর মায়ের মোবাইল ফোন থেকে নানিকে কল করে বলে, 'নানু, আমার আব্বু-আম্মু মারা গেছে।'
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনীর একমাত্র সন্তান মাহিন সরওয়ার মেঘ। ঘটনার পর সেই প্রথম তার নানি (রুনীর মা) নুরুন্নাহার মির্জাকে ফোন করে হত্যার বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনরা পেঁৗছে তাকে বাবা-মার লাশের কাছ থেকে সরিয়ে একই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।
রাজধানীর ইন্দিরা রোডের বউবাজার গলির ৪৪/এফ নম্বর ভবনের (মির্জা ভবন) দোতলায় গতকাল দুপুরে মাহিন সরওয়ার মেঘের সঙ্গে কথা হয়। দুরন্ত ও প্রাণোচ্ছ্বল মেঘ এ সময় ছিল ভীত-বিপর্যস্ত। কথা গুছিয়ে বলতে পারছিল না। তার বক্তব্যে কিছু অসংলগ্নতাও ছিল। জানতে চাইলে সে বলে, 'ওরা দু'জন এসেছিল। ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খেয়েছিল।' তাদের পরনে লাল-সাদা স্ট্রাইপের শার্ট ছিল এবং এর আগে 'পিকনিকে' তাদের দেখেছিল বলেও জানায় মেঘ। প্রসঙ্গত শুক্রবার মেঘের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম কেরি স্কুলের বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার সময় তুমি কোথায় ছিলে? এ প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, 'ওরা আমাকে ঘরে লক করে রেখেছিল। পরে যাওয়ার সময় লক খুলে দিয়েছে।'
মেঘের মামি নাহিদা পারভীন যূঁথী সমকালকে বলেন, মেঘ মাঝে মধ্যে ফোন করে এটা-সেটা বলত। এ কারণে শুরুতে আমরা গুরুত্ব দেইনি। আম্মা (রুনির মা) ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করেন। তবুও আমরা ভেবেছি, হয়তো মেঘের বাবা-মার মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। ৮টার দিকে ও বাসায় পেঁৗছে দেখি, দু'জনের লাশ পড়ে আছে।
ঘটনাস্থল রশিদ লজ ভবনের সি-২ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা তানজিনা সুলতানা বলেন, সকাল ৮টার দিকে মেহেরুন রুনীর এক ভাই মেঘকে তাদের কাছে রেখে যান। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাদের কাছেই ছিল মেঘ। এ সময় সে নিজের শরীরে লেগে থাকা রক্তের দাগ দেখিয়ে তানজিনাকে বলে, 'এই যে দ্যাখো, এটা আমার আম্মুর রক্ত, আর এটা আব্বুর রক্ত। ওরা আমার আব্বু-আম্মুকে মেরে ফেলেছে।' তানজিনা মেঘের শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন। পরে স্বজনরা তাকে ইন্দিরা রোডে রুনির নানির বাড়িতে নিয়ে যায়।
মেঘের বর্ণনা অনুযায়ী, তার বাবা-মাকে হত্যার পর দু'জন লোক ঘরের দরজা দিয়েই বেরিয়ে যায়। একবার মেঘ বলেছিল, তারা গ্রিল কেটে বেরিয়ে যায়। ওই বাসার রান্নাঘরের পাশের বারান্দার গ্রিলের একটি অংশ কাটা ছিল। ওই সামান্য ফাঁক দিয়ে কোনো মানুষের বের হওয়া সম্ভব নয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। এদিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেঘ বলেছে, 'তাদের হাতে ছুরি ছিল, পিস্তল ছিল। আমাকে গুলি করতে চেয়েছিল।'

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে