Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১০-২০১২

জামায়াত-হিযবুত একীভূত হচ্ছে : ২শ’ কোটি টাকার ইমার্জেন্সি ফান্ড

শম্পা হাসান


জামায়াত-হিযবুত একীভূত হচ্ছে : ২শ’ কোটি টাকার ইমার্জেন্সি ফান্ড
যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের চেষ্টায় জামায়াত-হিযবুত একিভূত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দলের গ্রেফতার হওয়া শীর্ষ নেতাদের রক্ষা করতে জামায়াতে ইসলামী কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে প্রায় দু’শ কোটি টাকার একটি ইর্মাজেন্সি ফান্ড গঠন করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশে নাশকতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন হিযবুত তাহরীরের দশ শীর্ষ নেতা। র‌্যাব ও গোয়েন্দারা এদের গতিবিধি নজরদারি করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পরই এদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত ১১ জানুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম। এর আগে গ্রেফতার করা হয় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদিকে। এছাড়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাগারে আটক রয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতারা আটক হওয়ার পর দিশেহারা হয়ে পড়েছে জামায়াত। তারা একেক সময় একেক কৌশল অবলম্বন করছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে জামায়াতকর্মী রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার, সহযোগির সংখ্যা এক কোটি, অগ্রসরকর্মী রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার, রোকন সদস্য ৪০ হাজার, মজলিশে সূরা সদস্য ২৫০ জন এবং কর্মপরিষদ সদস্য রয়েছে একশ জন। জামায়াত ও অগ্রসরকর্মীরা ২ হাজার টাকা এবং রোকন সদস্যরা এক মাসের বেতন বা সম পরিমাণ টাকা দিয়ে ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন করেছে। এ ফান্ড দেশের বিশ্বস্ত নেতাদের কাছে রয়েছে। যা দলের শীর্ষ নেতাদের রক্ষায় ব্যবহার করা হবে। গোলাম আযমকে গ্রেফতারের পর থেকে মরণ কামড় দিতে চাচ্ছে জামায়াত। গোলাম আযমকে গ্রেফতারের দিন জামায়াত-শিবির পল্টনে জঙ্গি মিছিল করে। পরের দিন ১২ জানুয়ারি দৈনিক বাংলা মোড়ে অতর্কিত হামলা করে এক পুলিশ অফিসারকে রক্তাক্ত করা হয়। এসব ঘটনায় জামায়াত শিবিরের সঙ্গে হিযবুত সদস্যরা সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে। জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে হিযবুত তাহরীরের দশ শীর্ষ নেতা তাদের নানা দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, এ দশ শীর্ষনেতা রাজধানীর নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের একটি স্কুল ও মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন। মূলত এ কারণেই এদেরকে গ্রেফতারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। র‌্যাবের তালিকাভুক্ত শীর্ষ হিযবুত নেতারা হলেন-বাড্ডা এলাকার একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুলের শিক্ষক কাওসার শাহনেওয়াজ, আন্তর্জাতিক মানের দুটি হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল আজিজ ও মোশাররফ হোসেন, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসিম মুনির ও জিতু জামান, নারায়ণগঞ্জের একটি মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, তেজগাঁও এলাকার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কেফায়েত উল্লাহ, মহাখালী এলাকার এক ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ আলী ও রামপুরা এলাকার এক ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ। এছাড়া হিযবুত তাহরীরের মহিলা শাখার প্রধান ফারিয়া আফসানা মুনমুন, নেত্রী হোমায়রা, লোনা ও ফাহমিদা খানমসহ ২০জন মহিলা নেত্রী আত্মগোপন করেছেন। তাদেরকে গ্রেফতারে র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। র‌্যাব সূত্র জানায়, অতীতে নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সত্যতা পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। হিযবুতের এ দশ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও সত্যতা পাওয়ার পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। র‌্যাবের অপর একটি সূত্র জানায়, র‌্যাব এ পর্যন্ত আড়াই শতাধিক হিযবুত সদস্যকে আটক করেছে। এর মধ্যে ১৩০ জনের বেশি জামিনে ছাড়া পেয়েছে। তাদের সংগঠিত করার কাজ করছেন ওই দশ শীর্ষ নেতা। জামায়াত শিবিরের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে হিযবুতকর্মীদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে গোয়েন্দারা সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। গত বছরের মার্চে এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কেবল বিরোধী দল নয়, খোদ সরকারের মধ্যেও একটি অংশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার তৎপরতা চালাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, পররাষ্ট্র সচিব মিরাজুল কায়েস ও আইন সচিব শহিদুল করিমকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। ‘মানবতা বিরোধী বিচার স্বাধীনভাবে করা প্রসঙ্গে’ শিরোনামের গোপন ওই প্রতিবেদনে ১৭টি পরামর্শ দেয়া হয়। তার একটিতে বলা হয়েছে, বিএনপি’র একটি অংশ, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্ররা অনেক আগে থেকেই কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা এ বিচারের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে জনমত সৃষ্টির জন্য ১৯টি বই প্রকাশ করেছে। ৮টি বই প্রকাশের অপেক্ষায়। ২টি আরবীতে ও ৪টি ইংরেজী পান্ডুলিপি তৈরির কাজ চলছে। বিচার শুরু হওয়ার আগে-পরে বড় ধরনের নাশকতার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, দুস্কৃতিকারীরা আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের বিমান ছিনতাই করে যাত্রীদের জিম্মি করে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের জন্য নিরাপদ দেশ হতে পারে মালয়েশিয়া কিংম্বা মধ্য প্রাচ্যের যে কোন দেশ। এ বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা নজরদারিসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পাইলটসহ বিমান ক্রুদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, পারিবারিক ইতিহাস খতিয়ে দেখারও তাগিদ রয়েছে প্রতিবেদনে। র‌্যাবের মিডিয়া এন্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মাদ সোহায়েল জানান, হিযবুত তাহরীরের তালিকাভুক্ত নেতাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক গোলাম হায়দার রসুল গ্রেফতারের পর অন্য নেতারা তাদের অবস্থান বার বার পরিবর্তন করছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে