Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০ , ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৫-২০১১

আসন দিয়ে বিএনপিকে বিবেচনা করা ঠিক হবে না

আসন দিয়ে বিএনপিকে বিবেচনা করা ঠিক হবে না
হবে, আর হবে না?এর আতঙ্কে দেশবাসী। প্রশ্ন উঠেছে, আবার একটি রাজনৈতিক সংঘাত কী অবশ্যম্ভাবী। নির্বাচন কমিশন কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। সরকারই বা কীভাবে চলছে। এসব প্রশ্নে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ ওবায়দুল কাদের।
প্রথম আলো: বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন হবেই। এই বৈপরীত্যের সমাধান কোথায়?
ওবায়দুল কাদের: খালেদা জিয়া যে দুটি দাবি করেছেন, তার সমাধান সংসদ ছাড়া অন্য কোথাও নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা হবে। গ্রহণযোগ্য উপায়ে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন তৈরি করতে হলে সংসদে যেতে হবে বিএনপিকে। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল হয়েছে আদালতের নির্দেশে, আওয়ামী লীগ এই প্রচারণা ভালোভাবে চালাতে পারেনি। বরং আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করেছে?এই অপপ্রচারটা বিএনপি ভালোভাবে করতে পেরেছে। কিন্তু এক-এগারোর অভিজ্ঞতার কারণে আমরা তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির বাতিল চেয়েছি। আমরা অন্য কোনো আদলের তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি চাই। যাতে কেউ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে না পারে। কিন্তু সে জন্য তো বিএনপিকে সংসদে যেতে হবে। বরং সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিরোধী দল এখন পর্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

প্রথম আলো: কারও কারও মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা ছিল অতি উৎসাহী।
ওবায়দুল কাদের: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এবং এক-এগারোর ঘটনাবলির পর যদি শেখ হাসিনা কিছুটা আবেগে আচ্ছন্ন থাকেন, তা অযৌক্তিক হবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যথাসময়ে হলে জিয়ার মৃত্যু হতো না। কিন্তু জিয়া উল্টো স্বঘোষিত হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করতে চান। কিন্তু সে জন্য সরকারি দল এককভাবে দায় নেবে না। বিরোধী দলকে সংসদে গিয়ে ভূমিকা রাখতে হবে এবং বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে হবে।

প্রথম আলো: নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে বিরোধী দলের পরামর্শ নেওয়া হবে?
ওবায়দুল কাদের: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সংসদের হবিগঞ্জের নির্বাচন দিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এটি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো নেতাও বলতে বাধ্য হয়েছেন। তার পরও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির অনুপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা হবে। কিন্তু সেই একই কথা। বিরোধী দল তো সংসদে যাচ্ছে না। এসব বিষয়ে তো এক তরফাভাবে আইন করা সম্ভব নয়। আসলে সব রাষ্ট্রেরই অভিন্ন কিছু সমস্যা থাকে। আর এসব সমস্যার সমাধানে সব দলকে অভিন্ন কর্মসূচি নিতে হয়।

প্রথম আলো: সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে কতটা সফল হয়েছে বলে মনে করেন?
ওবায়দুল কাদের: এ দেশের জনগণ দ্রুত ফল চায়। সে জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দলগুলোকে সতর্ক হতে হবে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত দূরবর্তী স্বপ্নগুলো মুলতবি রেখে মানুষের প্রতিদিনের সমস্যাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দিলে মানুষ অনেক বেশি সন্তুষ্ট হবে। একই সঙ্গে সরকারকে বিরোধী দলের শক্তি সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। সংসদের আসন দিয়ে বিএনপিকে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এটা করলে সরকার ভুল করবে। বিএনপিকে মূল্যায়ন করতে হবে তাদের পাওয়া ভোটের শতকরা হার দিয়ে। আওয়ামী লীগ-বিরোধীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল খালেদা জিয়া?এই বিষয়টিও আওয়ামী লীগকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রথম আলো: রাজনীতিতে ব্যবসায়ী নেতাদের ক্রমান্বয়ে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক?
ওবায়দুল কাদের: রাজনীতি দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। দলগুলো যোগ্য ও সৎ লোকদের রাজনীতিতে টানতে পারছে না। ব্যয়বহুল নির্বাচন সত্ প্রার্থীদের রাজনীতিতে অযোগ্য করে তুলছে। টাকা না থাকলে কর্মীরা মাঠে নামে না। যে কারণে সত্ নেতাদের পক্ষে আত্মসম্মান রক্ষা করে কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নেতৃত্বে দেবে টাকার মালিকেরা। আমার জানা মতে, গত নির্বাচনে ৫০টির মতো আসনে প্রার্থীরা পাঁচ থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। উত্তরের জেলাগুলোতে এখনো নির্বাচনী ব্যয়ের অঙ্ক লাখ টাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সম্ভব হবে না। আজকাল ব্যবসায়ীরা দলকে চাঁদা দেওয়ার চেয়ে সরাসরি প্রার্থী হতে বেশি পছন্দ করেন। কারণ তিনি জানেন, টাকা খরচ করলে নির্বাচনে জেতা যায়।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে