Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০১২

প্রধানমন্ত্রীর বড় ভুল অনভিজ্ঞ মন্ত্রীসভা অর্থহীন উপদেষ্টা -এরশাদ

পীর হাবিবুর রহমান


প্রধানমন্ত্রীর বড় ভুল অনভিজ্ঞ মন্ত্রীসভা অর্থহীন উপদেষ্টা -এরশাদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি, মহাজোট সরকারের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ আফসোস করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় দুই ভুলের একটি হলো অনভিজ্ঞদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন ও অর্থহীন উপদেষ্টা নিয়োগ। তার মতে, রাষ্ট্রপরিচালনার মতো কঠিন কাজে মন্ত্রিসভার সিলেকশনে অভিজ্ঞরা বাদ পড়েছেন অদক্ষরা ঠাঁই পেয়েছেন। যারা সেদিন চমক বলে বাহবা পেয়েছিলেন এখন তারাই বলছেন, শুরুতেই মন্ত্রিসভার সিলেকশনে ভুল হয়েছে। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে একদল উপদেষ্টা নিয়োগ করা সঠিক হয়নি। তিন বছর পর সব মহল থেকেই বলা হচ্ছে, এই উপদেষ্টারা সরকারের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছে। জনবিচ্ছিন্ন উপদেষ্টারা নিজেরা ভালো করতে না পারলেও অনবিজ্ঞ মন্ত্রীরা যে শিখে কাজ করবেন তাদের দাপটে সে সুযোগটাও নির্বাসিত হয়েছে। আগামী দেড়-দুই বছরে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে সব সমস্যার সমাধান করে সরকারের জনপ্রিয়তায় নেমে আসা ধস থেকে তার সরকারকে উদ্ধার করবেন তা তাকেই ভাবতে হবে। রবিবার রাতে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে একান্ত আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


মহাজোটের চিত্র, সরকারের অবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা সব মিলিয়ে এরশাদ খোলামেলা আলোচনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, যে জনসমর্থন নিয়ে মহাজোট ক্ষমতায় এসেছিল তাতে মানুষের প্রত্যাশা পূরণসহ দেশের কল্যাণে অনেক কিছু করা যেত। কিন্তু শুরুতেই জীবনবাজি রেখে মহাজোটে যাওয়া আমার জাতীয় পার্টিকে সরকার আস্থায় নেয়নি। দুঃখের সঙ্গে বলতেই হয়, আস্থায় নেওয়া দূরে থাক উল্টো হিসেবের খাতায় না নিয়ে পাপুসের মতো ব্যবহার করে ক্ষমতার প্রাসাদে আওয়ামী লীগ একাই প্রবেশ করেছে। সেখানেও তার দলের অভিজ্ঞ জনপ্রিয় নেতারা দর্শক সারিতেও ঠাঁই পাননি। আজ জাতীয় পার্টি মহাজোট সরকারের ক্ষুব্ধ-হতাশ ও ব্যথিত পার্টনার। আক্ষেপ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বললেন, দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। মানুষের ভাগ্য বদলের সঙ্গে সঙ্গে দেশটির চেহারা বদলাতে অনেক উন্নয়ন করেছেন। দেশের উন্নয়নে মহাজোট তাকে কাজে লাগায়নি এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ, হতাশ হয়েছে জনগণ। তার দাবি, সরকার তাকে কাজে লাগালে মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিমা দুনিয়ার বন্ধুদের তিনি কাজে লাগাতেন দেশের উন্নয়নে। সেই সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি। গণঅভুত্থানে পতিত সেনা শাসকরা পৃথিবীর কোনো দেশে রাজনীতির মঞ্চে ফিরতে না পারলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাবেক সেনাশাসক এরশাদের ইতিহাস চমকপ্রদ ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে ও তার দলের মন্ত্রী-নেতাদের জেলে পুরে দমননীতির মুখে রাখলেও নির্বাচনে এরশাদের দল থেকে ৩৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। দুই-দুইবার জেলে বসে এরশাদ ৫টি আসনে বিজয়ী হন। মামলার শৃঙ্খলে হাত-পা বেঁধে তাকে সাতার কাঁটতে দিলেও প্রতিটি নির্বাচনে তিনিই তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে তার ক্যারিশমা দেখান। ইতিহাসের চাকাকে উল্টে দিয়ে আগামী নির্বাচনে মেজরিটি নিতে প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন দেখছেন এরশাদ। খোলামেলা আড্ডা ও আলোচনায় তিনি বললেন, একদিন যারা তার দিকে দুর্নীতির অভিযোগ আনতেন, স্বৈরাচার বলে গালি দিতেন এখন তারা লজ্জা পান। গত ২১ বছর দেশের পরিস্থিতি তাদেরকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মহাজোট কখন ছাড়বেন তা নিশ্চিত না করলেও বেশ উচ্ছল প্রাণবন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বললেন, জন রায় নিয়েই সামনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছে এবং বলছে তার আমলেই নাকি উন্নয়নের স্বর্ণযুগ রচিত হয়েছে। দুই দলকে মানুষ এতটাই যাচাই-বাছাই করেছে যে, সামনে তারা জাতীয় পার্টিকেই বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় পার্টির সংগঠন কোথায়, প্রার্থী কোথায়? এমন প্রশ্নে জবাবে এরশাদ বলেন, '৭০ সালে সব আসনে মানুষ প্রার্থী না দেখে বঙ্গবন্ধুকে নৌকায় ভোট দিয়েছিল। আগামী নির্বাচনে মানুষ প্রার্থী দেখবে না প্রতি আসনে এরশাদ আমলই ভালো ছিল এই চিন্তা থেকে জাতীয় পার্টিকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেবে। এরশাদ পরিষ্কার বললেন, আর কোনো দলের সঙ্গে তিনি জোট করবেন না। একক নির্বাচনই করবেন। ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। আরও ১০০ প্রার্থী খুঁজছেন। বললেন, হয়ে যাবে। তিনি এবং তার নেতারা পরিশ্রম করছেন। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দক্ষিণে জাপা প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদকে ভোট দিয়ে মানুষ জাপাকে প্রতীকী রায় দেবে। এই নির্বাচনে তার পার্টি মরণ কামড় দিয়ে নামবে। আলোচনার ফাঁকে ব্যথিত চিত্তে এরশাদ বারবার বলছিলেন, শুরু থেকেই সরকার জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাসের বদলে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখেছে। সারা দেশে কত রাজনৈতিক নিয়োগ হলো জাপা নেতা-কর্মীরা কোথাও সুযোগ পেল না। ডানপন্থি ভোটাররা বিগত জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সঙ্গে থাকায় আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল। সে ভোটারদের সমর্থন এখন সরকারের প্রতি নেই। এরশাদ বলেন, মানুষ দেশকে ভালোবেসে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। বিএনপিতে সবাই ক্ষমা পেয়ে গেলেও আওয়ামী লীগে তা ঘটেনি। দুঃখ লাগে তোফায়েল আহমেদের মতো জনপ্রিয়, আমির হোসেন আমুর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত নয়। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের মতো রাজনীতিবিদরা রাজনীতি থেকে নির্বাসিত। মাহমুদুর রহমান মান্না উত্তরে ভোট করলে ভালো করবেন। এদের মতো নেতা আমার দলে পেলে দল অনেক এগিয়ে যেত। আওয়ামী লীগ অভিজ্ঞ নেতাদের কাজে না লাগিয়ে অনবিজ্ঞদের মন্ত্রিসভায় আর ব্যক্তিগত ঋণে কতগুলো উপদেষ্টা রাখা আওয়ামী লীগের নিঃপ্রয়োজন ছিল। এরশাদ বলেন, মহাজোটকে মানুষ ভোট দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের অভিশপ্ত শাসনামল থেকে মুক্ত করার জন্য। কিন্তু যেদিকেই যাই মানুষ আজ প্রশ্ন করেন, উন্নয়ন হয় না কেন। প্রশাসনে কেন দলীয়করণ, রাস্তাঘাটের কেন বেহাল চিত্র? পাবলিক সার্ভিস কমিশন কারা চালায়? শেয়ারবাজারের এতবড় লুটপাট এ নিয়ে সরকারের শক্ত পদক্ষেপ নেই কেন? দেশ দলীয়করণের অভিশাপমুক্ত হয়নি। আজকাল আলোচনায়, আড্ডায় আমার সেই সময়ের সমালোচকরা বলেন, গত ২০ বছরে যে দুর্নীতি হয়েছে তা না কি আমার আমলে ভাবাই যেত না। এরশাদ বলেন, ড. আকবর আলি বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির ক্ষতি পোষাতে ২০ বছর সময় লাগবে। এই কারণে অর্থনীতি আজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। মানুষের বদ্ধমূল ধারণা অর্থনীতি আজ এসব কারণে দুর্যোগের মুখে। মানুষজন বলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই শেয়ারবাজারে ধস নামে। '৯৬ সালের বদনাম মানুষ ভুলতে না ভুলতেই এবার সব রেকর্ড ভঙ্গ করে শেয়ার কেলেঙ্ককারি হয়েছে। এখানে সরকার টাকা লুণ্ঠনকারী চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষেরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। আজ মানুষ শেয়ারবাজারে রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে আত্দহননের পথ বেছে নিয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের কৃষি, শিক্ষাক্ষেত্রে সফলতা কথা উল্লেখ করলেও বলেন, ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হতে থাকলে দু-একটি খাতের উজ্জ্বলতাও চোখে পড়ে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এখনো অনেক সচল, বুদ্ধিদিপ্ত, আত্দপ্রত্যায়ী চোখ-কান খোলা রাখা সজাগ মানুষ। এখনো অবসরে রোমান্টিক চিরতরুণ এরশাদের একাকিত্দ নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কাটাতে মোবাইলে বাজে তৃষ্ণার্ত রমণীদের ফোন। এখনো দেশের নানান জায়গা থেকে প্রেমপত্র আসে এই সাবেক প্রেমিক শাসকের কাছে। অবসর কেমন কাটে জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ অর্ধ সত্য শুনালেন। বললেন, এরিককে নিয়েই নাকি কাটে তার সময়। বললেন, এক অনুষ্ঠানে তার সরকারের গুড মিনিস্টার আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পেয়ে বলেছেন, আমি আপনার প্রশংসা করি আর আপনি এত সমালোচনা করেন কেন? হেসেছেন মঞ্জু উত্তর দেননি।

পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের গ্রেফতার দাবি : দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচএম এরশাদ বলেছেন, কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। গতকাল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়ে এরশাদ আরও বলেন, পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা এবং বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি হারানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুজন বিনিয়োগকারী স্ত্রী-সন্তানদের মায়া ত্যাগ করে আত্দহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে কোনো সচেতন বিবেক স্থির থাকতে পারে না।

এরশাদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের অনশন কর্মসূচিতে একাত্দতা প্রকাশ করে হোতাদের গ্রেফতার, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো দুটি জীবন আমরা হারাতাম না। আত্দহত্যাকারী বিনিয়োগকারীর আত্দার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে দোষীদের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করতে হবে। তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় কয়েকটা মানুষের কাছে আমরা জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারি না। এ বিষয়ে সরকার কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে তা গোটা জাতির কাছে বোধগম্য নয়। আশা করি, সরকার অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে