Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.8/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০১২

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন হচ্ছে

স্বপন দাশগুপ্ত


অন্তর্বর্তী সরকারের আইন হচ্ছে
প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। প্রস্তাবিত রূপরেখায় সরকারি দলের পাঁচজন এবং বিরোধী দলের পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে। রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ রূপরেখা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নতুন করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই আইন মন্ত্রণালয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পর্কিত সংবিধান সংশোধনীর ব্যাপারে হাত দেবে। আইন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রস্তুত আছে।
জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা সম্পর্কিত সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ প্রস্তাবনার আলোকে সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর খসড়া প্রণয়ন করা হবে। খসড়া প্রণয়নের পর তা আবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এটি বিল আকারে চূড়ান্ত করা হবে। পরে জাতীয় সংসদে এ বিল পাস করা হবে। সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী পাস করার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে তা আইনে পরিণত হবে। তবে কখনোই আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার হচ্ছে না।
সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের জন্য আন্দোলন করছে। এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে ইতিমধ্যেই বিরোধী দল সভা, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, রোডমার্চ ও গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করেছে। আগামী ১২ মার্চ রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করবে বিরোধী দল। এ মহাসমাবেশের প্রধান স্লোগান হচ্ছে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’। সর্বশেষ গণমিছিলের কর্মসূচি পালনকালে দেশের পাঁচটি তরুণ প্রাণ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশী কূটনীতিকরা সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। শেষ পর্যন্ত পর্দার অন্তরালে এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাব মেনে নেন। তিনি প্রকাশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়টি মেনে নিয়ে অতিসম্প্রতি একটি বক্তব্য রাখেন। তবে খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখার বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি পরপর ৩টি নির্বাচন এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হওয়ার প্রস্তাব দেন। সরকারি দলের একাধিক নেতা খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ বলার পর তা আর সংবিধানে থাকতে পারে না।’ তিনি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ব্যাপারে বিরোধী দলের কোন প্রস্তাব থাকলে তা সংসদে এসে উত্থাপনের জন্য বিরোধী দলের প্রতি অনুরোধ জানান। সরকারি দলের একাধিক নেতা প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে সমর্থন করে সংসদে ও সংসদের বাইরে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ভবিষ্যৎ সংসদ নির্বাচন হতে পারে। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী পাসের একদিন পর দৈনিক যুগান্তরে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি সরকারের রূপরেখা সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। কিন্তু বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে অনড় থাকলে এ নিয়ে রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্যের পর রাজনৈতিক সংকট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি রূপরেখা বের হয়ে আসবে। তবে কবে আলোচনা হবে তা নিয়ে সরকারি দল বসে থাকতে পারে না। এ কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করছে সরকারি দল। এরই অংশ হিসেবে আইনের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন করছে আইন মন্ত্রণালয়।ৃ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে