Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০১২

ভারত জুড়ে যুবির জন্য প্রার্থনা

ভারত জুড়ে যুবির জন্য প্রার্থনা
চণ্ডীগড় থেকে বোস্টন। লালগড় থেকে লন্ডন। যুবরাজের দ্রুত আরোগ্য কামনা শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থনায় বসছেন অনেকে, কেউ আবার কায়মনবাক্যে চাইছেন, আমেরিকা থেকে ফিরে এসে দেশেই চিকিৎসা করুক যুবি। ওকে আমাদের দরকার। দেশের বিভিন্ন স্কুলে খুদে পড়ুয়ারা ক্লাস শুরুর আগে যুবির ফটো সাজিয়ে প্রার্থনার ডালি সাজিয়ে বসেছিল। একটাই আর্তি, যুবি দয়া করে ফিরে এসো, এখানেই তুমি সুস্থ হয়ে যাবে।

অসম্ভব মনের জোর যুবরাজের। বিশ্বকাপ চলাকালীন বোঝাও যায়নি তিনি এমন মারণ রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। অধিকাংশ ম্যাচেই তিনি সেরা হয়েছেন। খেলা শেষে যখন সাংবাদিকদের সামনে আসতেন, কেমন যেন উদ্ধত ভাব। মাঝেমধ্যে পানীয়তে মুখ ভিজিয়ে নিতেন। মাথা এলিয়ে পড়ছে, প্রচারমাধ্যমের উত্তর দিতে গিয়ে কেমন ক্লান্ত, অবসন্ন লাগছে, অনেকে রসিকতাও করেছেন, “যুবি আপনি তো টুর্নামেন্টের নায়ক? দারুণ বাজার আপনার!” কেমন যেন নিষ্পৃহভাব, ইচ্ছে থাকলেও কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। খেলাতেই নিজের অ্যাড্রিনালিনের শেষটা খরচ করে আসছেন, তারপর আর এনার্জির কীই বা থাকতে পারে?

ফুসফুসে টিউমার, তা থেকেই ক্যান্সার। তার মা শবনমই প্রথম বলেছিলেন, এই টিউমার ম্যালিগন্যান্ট নয়, দ্রুত সেরে ছেলে মাঠে ফিরবে। কিন্তু তার ফিজিও জানিয়ে দিয়েছেন, যুবি ভুগছে ‘এক্সটাগোনোডাল সেমিনোমা’তে। এই ধরনের ক্যান্সার ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সেরে যায়। আমেরিকার বোস্টন শহরে যে ক্লিনিকে যুবি রয়েছেন, তার চিকিৎসক বলেছেন, দশ সপ্তাহের মধ্যেই যুবি মাঠে ফিরতে পারবেন। তার কেমোথেরাপি চলছে। সেই চিকিৎসক আরো জানিয়েছেন, দিন আটেক আগে যখন যুবি এখানে প্রথম এসেছিলেন, সেইসময় তার যা চোখমুখ ছিল, এখন অনেক সুস্থ লাগছে তাকে। ভিডিও দেখছেন, ক্লিনিকের স্টাফদের সঙ্গে রসিকতা করছেন। এমনকি ভারতের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার যে চুপচাপ বসে থাকার ছেলে নন, তা ট্যুইটার দেখলেই পরিষ্কার। চার-পাঁচ ঘণ্টার তফাতে তিনি ট্যুইট করছেন। এমনকি এই অসুস্থতার মধ্যে বন্ধু অভিষেক বচ্চনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেননি।

মা শবনম সঙ্গেই রয়েছেন। বাবা যোগরাজ সিং চণ্ডীগড়ে। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ পাঞ্জাবী এই সিনেমার শুটিং চলছে, সেই কারণে যোগরাজ ছেলের কাছে যেতে পারেননি। যুবি নিজেও নিষেধ করেছেন বাবাকে আমেরিকায় না যেতে। এরমধ্যে ছেলের সঙ্গে কথাও হয়েছে, সেই কথা জানিয়ে যোগরাজ সোমবার বলেছেন, “যুবি নিজেই বলেছে, ও সুস্থ হয়ে আমার কাছে ফিরবে। আমি যেতে চেয়েছিলাম, ও আমাকে নিষেধ করেছে।”

 

তারপরেই এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, “আমার ছেলে সিংহ হৃদয়ের, ল্যান্স আমস্ট্রং যেমন ক্যান্সার দূরে সরিয়ে মাঠে ফিরে এসেছিলেন, যুবিও চ্যাম্পিয়নের মতো ফিরবে, হয়তো আরো শক্তিশালী হয়ে।”

৩০ বছরের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকার এই রোগ যে বংশগত, নিজের মুখেই জানিয়েছেন তার বাবা। যোগরাজ বলেছেন, “আমারও এই সমস্যা ছিল, আমি রীতিমতো ওষুধ খাই, কিন্তু যুবি যখন প্রথম এই সমস্যায় ভোগে, আমি ওকে সতর্ক করেছিলাম, নজর দেয়ার। আমার কথা শোনেইনি। আমার বাবা, আমার দাদারও এই একই সমস্যা ছিল। আমি জানি এটা আমাদের জিনগত রোগ। সেই কারণেই যুবিকে সতর্ক করি।”

 

আগে থেকে যদি তার ছেলের চিকিৎসা শুরু হতো, তাহলে যে রোগটা ক্যান্সার হতো না, সেই কথাও বলছেন যোগরাজ। যদিও ভারতীয় বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যুবরাজের বাবার মন্তব্য, “বোর্ড কর্তাদের ধন্যবাদ জানাবো, তারা কিন্তু ছেলেকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর কথা প্রথম থেকেই বলেছেন।”

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে