Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০১২

আকাশ ছুঁয়েছে মূল্যস্ফীতি

আকাশ ছুঁয়েছে মূল্যস্ফীতি
জানুয়ারি মাসে আকাশ ছুঁয়েছে মূল্যস্ফীতি। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা ছিল ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সোমবার মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, প্রধানত চাল, ডাল, মাছ, ডিম, ফল, ভোজ্যতেল ও প্যাকেটজাত দুধের দাম বৃদ্ধি খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির কারণ হিসেবে বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ব্যয়, পরিধেয় বস্ত্র এবং গৃহস্থালি ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে শনাক্ত করেছে বিবিএস। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জানুয়ারিতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হার ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। জানুয়ারিতে গ্রামে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। গ্রামে জানুয়ারিতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূতখাতে ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। জানুয়ারিতে শহরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ। শহরে জানুয়ারিতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত খাতে তা ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। গত এক বছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি অনেক ধরেই দুই অঙ্কের কোঠায় রয়েছে। দেশের অর্থনীতি সঙ্কটে নেই বলে অর্থমন্ত্রী দাবি করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাটাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন তিনিও। ৬ এদিকে সাত শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় স্পষ্ট করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি অর্থ বছরে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্ট ২০১০-১১ এ এই সংশয় প্রকাশ করা হয়। সোমবার ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন। প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, বৈদেশিক ঝুঁকি বাড়লে চলতি অর্থবছরে (২০১১-১২) সরকারের ঘোষিত ৭ শতাংশ জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি অর্থবছর ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০-২০১১ অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি (পয়েন্ট-পয়েন্ট ভিত্তিতে) গিয়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ২ শতাংশ। যা এর আগের বছরে ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক অতিরিক্ত মদ্রা সরবরাহের বিষয়ে সর্তক থাকার পরেও চলতি অর্থ বছরে তা এক অংকে নামিয়ে আনা কঠিন হবে। আমদানি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশে নেমে আসবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, অর্থবছর ১১-তে কয়েক বছরের বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দার কারণে নিম্নমুখী প্রবণতা পরে আমদানি ও রপ্তানি উভয়ের ৪০ শতাংশের বেশি উচ্চ প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির পর্যালোচনা শীর্ষক এ প্রতিবেদন ২০১০-২০১১ অর্থ বছরের সার্বিক অর্থনৈতিক সূচকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বিগত বছরের বাংলাদেশের অর্থনীতি, দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি, শিল্পখাত, বৈদেশিক চাহিদা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতিসহ মুদ্রা সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। এর বাইওে দেশের মুদ্রা ও ঋণ সরবরাহ পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের কার্যদক্ষতা, কৃষি ঋণ, সরকারের অর্থায়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা মুনাফা এবং দেশের আর্থিকখাতের সার্বিক তথ্য তুলে ধরা হয়। শ্রম বাজার বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে শ্রম বাজার অভিবাসী শ্রমিকদের চাহিদার বড় ধরনের পরিবর্তন না আসায় ২০১২ অর্থবছরে এই খাতের প্রবৃদ্ধি বিগত বছরের মতো এক অংকে অপরিবর্তিত থাকবে। এতে বলা হয়, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী জনশক্তির চাহিদা হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধির অর্থনীতির দেশগুলোতে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান করা জরুরি। চলতি অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঘাটতির দিকে যাবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন তথ্য অনুসারে, আর্থিক খাতের নিট ভারসাম্য ঋণাত্বক থাকবে। একইভাবে টাকার বিনিময় হার কিছুটা চাপে থাকবে এবং অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা চাপে থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। যা ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রেণীকৃত ঋণ কমেছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। আর বিগত বছরে দাঁড়ায় ৭ দশমিক এক শতাংশ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে