Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০১২

ছাত্র-সেনা সংঘর্ষের ঘটনায় মইন-ফখরুদ্দীনের বিচারের সুপারিশ

ছাত্র-সেনা সংঘর্ষের ঘটনায় মইন-ফখরুদ্দীনের বিচারের সুপারিশ
ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি: ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক  প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমদ, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারী ও কর্নেল শামসুল আলমকে দায়ী করে প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় দায়ীদের প্রচলিত আইনের আওতায় এনে বিচারের সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সপ্তম কার্যদিবসে শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক উত্থাপিত বিশেষ প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংসদে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়, “কমিটি মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত সহিংস ঘটনায় ছাত্র- শিক্ষকদের উপর যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে তার জন্য ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও জেনারেল মইন উ আহমেদ, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারী ও কর্নেল শামসুল আলম প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে দায়ী। ভবিষ্যতে এ জাতীয় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না হয় সে জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।”

তদন্ত কমিটি একইভাবে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “ডিজিএফআইয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে অনাকাঙ্খিত এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডিজিএফআই তার দায়িত্ব বহির্ভূত কাজ করেছে। ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের বাড়াবাড়িও লক্ষ্যণীয়। ওই ঘটনায় ডিজিএফআই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে। সিভিল প্রশাসনকে উপেক্ষা করে ডিজিএফআই যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে তা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে অনিবার্য প্রতিক্রিয়া হিসাবে ছাত্ররা সেদিনের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছিল।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্র-শিক্ষকদের মামলা প্রত্যাহার ও দণ্ড মওকুফ না করায় তাদের অনেকের চাকরি ও বিদেশ গমনে ভিসা প্রাপ্তিতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের দণ্ড মওকুফে সরকারিভাবে আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।”

প্রতিবেদনে ঘটনায় নির্যাতিতদের সরকারিভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো সেনা ক্যাম্প স্থাপন করতে হলে সিন্ডিকেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহত রিকসা চালকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিবার্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা, মামলা প্রত্যাহার হলেও ভবিষ্যতে হয়রানি আশংকা রুখে দেয়া, ৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্ত্বশাসন আইন যুগোপযোগী করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দক্ষ প্রক্টোরিয়াল বডি গঠন, বেসামরকি বিষয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) এর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, টিএফআই ও যৌথ বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ সেল বন্ধ, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়া ও যে কোনো বিষয়ে জাতীয় সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে সবাইকে বাধ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।”

সাব-কমিটি ঘটনা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত ৩৮৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ঘটনার পেছনের কারণ হিসাবে ১১টি পর্যবেক্ষণ ও ১৩টি সুপারিশ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ, প্রধান উপদেষ্টা ড.ফখরুদ্দীন আহমদের মতামত, মইন উ আহমেদের লিখিত বক্তব্য ও টেলিকনফারেন্স, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার, আটক ও নির্যাতিত শিক্ষার্থী- শিক্ষক ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের বক্তব্য, সেই সময়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারী বিভিন্ন বৈঠক, সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা, ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিষয়ে তথ্য এবং ভিডিও ফুটেজের একটি সিডি প্রতিবেদনের সঙ্গে দেয়া হয়েছে।

রাশেদ খান মেনকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, মির্জা আজম, বীরেন শিকদার, শেখ আব্দল ওহাব, মো. শাহ আলম, মু. জিয়াউর রহমান, কাজী ফারুক কাদেরকে সদস্য করে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। ৮ জুলাই ২০০৯ সালে একই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে মওদুদ আহমেদ ও মমতাজ বেগমকে যোগ করে এ কমিটি পুনর্গঠন করা করা হয়।

সংঘটিত ঘটনার বিবরণে বলা হয়, “২০০৭ সালের ২০ আগস্ট একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মূলত এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেদিন বিকেলে চারটার সময় বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সঙ্গে লোক প্রশাসন বিভাগের খেলা চলছিল। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র মেহেদী মোহাম্মদ ছাতা মাথায় দিয়ে খেলা দেখছিল। নিজ বিভাগের খেলা হওয়ায় খেলার উত্তেজনা সম্পর্কে উৎসাহের ঘাটতি ছিল না তার। এ সময় তার পেছনে খেলা দেখছিল মোস্তফা কামালসহ বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য। খেলায় বুদ থাকা মেহেদী মোহাম্মদের স্বভাবতই খেয়াল ছিল না পেছনে কে খেলা দেখছে। খেলার শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে পেছনে বসে থাকা সেনা সদস্য মোস্তফা কামাল মেহেদী মোহাম্মদকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে ছাতা সরিয়ে নিতে বলেন। এক পর্যায়ে ঘটনা হাতাহাতিতে গড়ায়।  এ নিয়ে উত্তেজনার এক পর্যায়ে খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা ওই সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের আহবায়ক ড. সিরাজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ও লে. কর্নেল নুরুল হুদা সেনা সদস্যদের পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়। পরে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কয়েকজন সেনা সদস্য গ্যালারির উপর থেকে ভিডিওচিত্র ধারণ করা শুরু করলে ঘটনা ক্রমান্বয়ে বড় আকার ধারণ করে।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘প্রতিবেদনটি প্রস্তুতকালে কোনো ধরনের আবেগকে প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। আইন প্রণয়নে প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘জাতীয় জীবনে এটি একটি কলংকজনক ঘটনা। আগামীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে না কামনা করি। স্থায়ী কমিটি আশা করি সুপারিশই গ্রহণ করবে এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবে।’’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে