Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৬-২০১২

মানবপাচার করলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে

মানবপাচার করলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে
ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি: মানবপাচার কোনো দেশের একক একক সমস্যা নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক সমস্যা। তাই মানবপাচারের অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিল-২০১২’ নামের বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন  সংসদে উত্থাপন করেন। পরে হ্যাঁ-না ভোটে জয়ী হয়ে ১০ দিনের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

মানবপাচারের সংজ্ঞায় বিলে বলা হয়েছে, “ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করে প্রতারণা করে বা অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা লেনদেনপূর্বক উক্ত ব্যক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমন ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে যৌনশোষণ বা নিপীড়ন বা শ্রম শোষণ বা অন্য কোনো শোষণ বা নিপীড়ণের উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা ক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকিয়ে রাখা বা আশ্রয় দেয়া।”

বিলের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়, “মানব পাচার এবং এ সম্পর্কিত অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর একাধিক সদস্য গোষ্ঠীর সকল সদস্যের সাধারণ অভিপ্রায় সাধনের উদ্দেশ্যে কোনো আর্থিক বা অন্য কোনো বস্তুগত বা অবস্তুগত মুনাফা অর্জনের জন্য এ আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করলে ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত হবে।”

অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি মৃত্যুদণে।ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং ন্যুনতম ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।”

৮(১) ধারায় বলা  হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি মানবপাচারের ষড়যন্ত্র করলে শাস্তি হিসেবে  সর্বোচ্চ ৭ বছর ও সর্বনিম্ন ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজারা টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।”

বিলের ৯ নম্বর ধারায়  বলা হয়েছে “কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করাতে বাধ্য করলে বা ঋণদাস করে রাখলে কিংবা হুমকি দিয়ে শ্রম ও সেবা আদায় তিনি অপরাধী বলে বিবেচিত হবে। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের সর্বনিম্ন ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পতিতালয় স্থাপন ও পরিচালনাকেও এ আইনের ১১ নম্বর ধারায় অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পতিতালয় স্থাপন বা পরিচালনা করলে অথবা তা স্থাপন বা পরিচালনা করতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা বা অংশ নিলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।

 এ অপরাধের  শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ বছরের এবং সর্বনিম্ন ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনূন্য ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি এ আইনের অধীন মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে মামলাকারীকে অপরাধী হিসেবে ধরা হবে বলে বিলে বলা হয়েছে। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর ও সর্বনিম্ন ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১৬ নম্বর ধারায় মানবপাচারের অভিযোগকে আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য এবং আপসহীন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

বিলের ৪র্থ অধ্যায়ে মানবপাচার অপরাধের বিচার সম্পর্কে বর্ণণা করা হয়েছে। এর ২১ দফায় বলা হয়েছে, “এ আইনের অধীনে অপরাধগুলো দ্রুতবিচারের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দায়রা জজ বা অতিরিক্তি দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে যেকোনো মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল গঠন করতে পারবে।

২১ (২) দফায় বলা হয়েছে, ট্রাইবুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রত্যেক জেলার নারী ও শিশুদমন ট্রাইবুনালকে ওই জেলার মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।

বিলের ২২ দফায় ট্রাইবুনালের ক্ষমতার সম্পর্কে বলা হয়েছে, “এ আইনের বিধান অনুযায়ী ট্রাইবুনালের দায়রা আদালতের সব ক্ষমতা  থাকবে। বিচারের স্বার্থে কোনো সুরক্ষামূলক আদেশসহ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার অধীনে থাকা প্রতিবেদন, দলিল ট্রাইবুনালে উত্থাপন করা নির্দেশ দিতে পারবে।”

বিলে বলা হয়েছে, “এ আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।”

ট্রাইবুনালের রায়, আদেশ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে ৩০দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলেও বিলে বলা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, “কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অন্য কোনো দেশে মানব পাচারের শিকার হলে বাংলাদেশ সরকার ওই দেশের দূতাবাসের এবং প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।”

পাচারের শিকার ব্যক্তির পুনর্বাসন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, “পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা সেবা, পুনর্বাসন ও পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার সারাদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে।”

বিলে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে অথবা বাংলাদেশের কোনো জাহাজ বা বিমানে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এ আইনের আওতাধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করলে এ আনের বিধান কার্যকর হবে।”

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, “মানবপাচার কোনো দেশের একক সমস্যা নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে মানবপাচার রোধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেসব কর্মী প্রতিবছর বাইরে যায় তাদের কর্মসংস্থান এবং অন্যবিধ সুযোগের বিষয়ে পাচারকারীদের মিথ্যা প্রলোভনের ফলে সেসব মানুষ হয়রানির শিকার হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ আইন প্রণয়ণের উদ্যোগ নেয়।”

উল্লেখ্য, গতবছরের ৬ জুলাই বিলটি মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পায়। ১২ ডিসেম্বর বিলটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়, “বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেসব কর্মী গমন করে তাদের কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুযোগ দেয়ার কথা বলে পাচারকারীরা মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে মানুষকে হয়রানির শিকার করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানব পাচার প্রতিরোধের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে