নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, “বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতামত ছাড়া নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে আগুনে হাত দেবেন না।”
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক সংসদের আয়োজনে ‘সার্চ কমিটির নাম প্রস্তাব, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং বাস্তব প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন খালেদা ইয়াসমিন।
দেড়মাস আগে ঘোষিত আগামী ১২ মার্চে বিএনপির কর্মসূচি অবশ্যই পালিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পুলিশকে ঘরে বসিয়ে রাখুন এবং আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করুন। এরপর আপনারা মাঠে নেমে দেখুন মাঠ কার দখলে থাকে।”
সরকারের প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন, “দয়া করে দেশের সব প্রশাসনকে বলে দিন যাতে ১২ মার্চের কর্মসূচিতে আসতে আমাদের নেতাকর্মীদের কোনো বাধা না দেয়। আর যদি বাধা দিয়ে একটি ঢিলা মারা হয় তার উত্তরে দশটা ঢিলা মারা হবে।”
গুলি চালিয়েও আন্দোলন দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। মুখ্য হলো দেশ বাঁচানো, সীমান্ত ও স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।”
সিইসি আগেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পেরেছে কি না প্রশ্ন রেখে ফারুক বলেন, “শামসুল হুদা বিএনপিকে খুশি করার জন্য যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন সেগুলোতে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাকে যদি এই সরকার পুনর্নিয়োগ করে তাহলে আমরা বুঝবো মঈন-ফখরুদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করেই তিনি তাদের ক্ষমতায় এনেছেন।”
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে জয়নুল ফারুক বলেন, “বিএনপি ও জামায়াতের মতামত ছাড়া নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে আগুনে হাত দেবেন না।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নাকি রাজনৈতিক দলের অধীনে হবে সেটি আগে নির্বধারণ করুন। তারপর নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা।”
ফারুক বলেন, “ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আগামীতে জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারবে না-বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর এমন তথ্য সরকার ইতিমধ্যেই জেনেছে। আর এজন্যই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে আবার ক্ষমতায় যেতে এসব ষড়যন্ত্র করছে।”
বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ফারুক বলেন, “যারা ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিন ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতাও রাখে না আপনি তাদের দিয়ে এসব কথা বলাচ্ছেন।”
খালেদা জিয়াকে অশালীন বক্তব্য শেখাচ্ছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন তিনি।
তিনি বলেন, “মরণপ্রাণ যুদ্ধ করবো। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির এখন মাথা ব্যাথা নেই। সব রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রপতি আহবান করেছেন কিন্তু জামায়ত কী অপরাধ করেছে। আপনি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে অপমান করেছেন। যদি আইন হাতে তুলে নেন আমাকেও বাঁচার জন্য লড়াই করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।