Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৬-২০১২

মানুষের রক্ত সংবহন নিয়ে গবেষণা

মানুষের রক্ত সংবহন নিয়ে গবেষণা
রক্ত নিয়ে বিজ্ঞানীরা পুরোনো তথ্যের সাথে নতুন তথ্যের সমন্বয় সাধনে কাজ করে যাচ্ছেন। রক্ত হচ্ছে তরল যোজক কলা। রক্ত রক্তসংবহনতন্ত্রের প্রধান উপাদান। বিভিন্ন কোষ হতে নানা পদার্থ রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে থাকে। যত উপাদান রক্তে আসুক না কেন, রক্তে একটি নির্দিষ্ট ঘনমাত্রা বজায় থাকে। এ ঘনমাত্রা রসায়নবিদরা একটি রাশির সাহায্যে অত্যন্ত সহজে প্রকাশ করে থাকেন। রাশিটি বেশ সুপরিচিত। অত্যন্ত কার্যকরী এ রাশিটি হচ্ছে ঢ়ঐ(ঢ়ঐ=-ষড়ম[ঐ+]) রক্তের ঢ়ঐ মোটামুটি ৭.২-৭.৪। অর্থাৎ এটি মৃদু ক্ষারীয়। রক্তে বিভিন্ন কোষ থেকে নানা ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হওয়া সত্ত্বেও এর (ঢ়ঐ) এতটা সুনির্দিষ্ট থাকে কীভাবে? যারা রসায়নবিদ তারা এ ধরনের প্রশ্ন শুনে হাসবেন, তবে যারা অন্য শাস্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য প্রশ্নটি ভাবিয়ে তোলার মতো। প্রশ্নটির জবাব হচ্ছে বাফার দ্রবণ। রক্তে নানা পদার্থ নিঃসৃত হলেও রক্ত বাফার হিসেবে ক্রিয়া করে, নিজের ঢ়ঐ ঠিক রাখে। হরমোন এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র রক্তের বাফার ক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে থাকে। মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে খাবার বা পুষ্টি উপাদান পেঁৗছানো দরকার। কোষে চলমান প্রক্রিয়ার দরুন সৃষ্ট দূষিত পদার্থগুলোকেও কোষকে পরিত্যাগ করতে হয়। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ উপাদানে যথোপযুক্ত জায়গায় পেঁৗছানো। এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পাদনের জন্য মানুষের শরীরে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে এ পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে হৃৎপি-, ফুসফুস, শিরা, ধমনি, কৈশিক জালিকা, রক্ত এবং লসিকা (খুসঢ়য) নিয়ে। রক্ত সচরাচর আমরা দেখি না। রক্ত তখনই দেখি যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। তাই রক্ত আমাদের মধ্যে প্রায়ই ভয় এবং উৎকণ্ঠার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তবে এটি সবসময় সত্য নয়। রক্ত সবসময় আবেগজনিত আচরণ এর উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে না। এটি নির্ভর করে কোনো ঘটনায় আমরা রক্ত পর্যবেক্ষণ করলাম তার ওপর। তাছাড়া যারা অহরহ রক্ত নিয়ে কাজ করেন, তারা রক্ত দেখলেই ভয়ে অাঁতকে ওঠেন না। তারা বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দেখান এবং কার্যাবলী সম্পাদন করেন। যারা রক্ত দেখলে খুব ভয় পান, তাদের মধ্যে সাহস গড়ে তোলার জন্য কেউ কেউ এভাবে বলেন, 'যে বস্তু ছাড়া জীবন চলে না, জীবনের জন্য যেটি এত প্রয়োজনীয় তাকে ভয় পাওয়ার কি আছে!' আসলেই রক্ত ছাড়া উন্নত বহুকোষীয় জীব বাঁচতে পারে না। বিভিন্ন কোষের মধ্যে পুষ্টি সরবরাহ করা, শক্তি সরবরাহ করা, দূষিত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী উপাদান বের করে নিয়ে আসা প্রভৃতি অত্যাবশ্যকীয় কার্যাবলী রক্তের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে। অন্তঃক্ষরাতন্ত্র, প্রতিরক্ষাতন্ত্র, শ্বসনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র মোট কথা জীবদেহের সকলতন্ত্র রক্ত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বহুকোষীয় জীবে কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পদার্থের সঠিক স্থানে পেঁৗছানো অত্যন্ত জরুরি। এ কাজগুলো রক্তসংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয়ে থাকে। রক্তের মধ্যে পানির পরিমাণ সব থেকে বেশি। এখানে শতকরা আশি ভাগেরও বেশি হচ্ছে পানি। এ পানিতে নানারমক দ্রব দ্রবীভূত থাকে। দ্রব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রক্তকোষ বা রক্তকণিকা এবং বিভিন্ন কোষ নিঃসৃত জৈব এবং অজৈব পদার্থ। জৈব পদার্থের মধ্যে প্রোটনের পরিমাণ সব থেকে বেশি এবং অজৈব পদার্থের মধ্যে লবণের পরিমাণ বেশি। রক্তে লোহিত রক্তকণিকার অক্সিজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করার জন্য হিমোগ্লোবিন জাতীয় প্রোটিন নিঃসৃত করে থাকে। এটি শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ করে শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। অণুচক্রিয়া কোথাও কেটে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং বহির্শত্রুর বিরুদ্ধে শ্বেতকণিকার আক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। পুরো অনাক্রমন্যতন্ত্র বা প্রতিরক্ষাতন্ত্র শ্বেতরক্তকণিকা কর্তৃক পরিচালিত হয়। অন্তঃক্ষরাতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত হরমোনগুলো রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে প্রয়োজনীয় কোষগুলোয় পেঁৗছায়। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে হৃৎপি- সবসময় সঙ্কুচিত এবং প্রসারিত হচ্ছে। এ সঙ্কোচন প্রসারণের ফলে শিরা আর ধনী দিয়ে রক্ত শরীরের নানা জায়গায় প্রবাহিত হচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দূষিত রক্ত শিরা দিয়ে হৃৎপি-ে পেঁৗছায় এবং বিশুদ্ধ রক্ত হৃৎপি- হতে ধমনি দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গে পেঁৗছায়। ফুসফুস রক্ত বিশুদ্ধকরণের কাজ করে। হৃৎপি- হতে ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে দূষিত রক্ত যায়, তারপর যেখান থেকে ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে বিশুদ্ধ রক্ত হৃৎপি-ে পেঁৗছায়। কোনো বিশেষ আবেগের কারণে বা ঘুমের কারণে হৃৎপি-ের সঙ্কোচন প্রসারণ করতে পারে বা বাড়তে পারে। ফলে শরীরের মধ্যে রক্তপ্রবাহের হারও কমতে পারে বা বাড়তে পারে। এভাবে স্নায়ুতন্ত্র রক্তসংবহনতন্ত্রে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। রক্তসংবহন তন্ত্রের সঙ্গে লসিকার যোগাযোগ রয়েছে। ধমনিগুলোর প্রান্ত বা শিরাগুলোর উৎস হচ্ছে জালিকাকার অসংখ্য নালীকা। তাদের কৈশিক নালীকা (ঈধঢ়রষষধৎু ঞঁনব) বলা হয়। কৈশিক নালীকার ধমনি অংশে রক্তের গতি বেশি থাকে। এখান থেকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন কোষে পেঁৗছায় অন্যদিকে শিরায় রক্তের গতিশীলতা কম থাকে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে