Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৬-২০১২

১২ই মার্চ ঘিরে উত্তাপ

১২ই মার্চ ঘিরে উত্তাপ
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সরব আলোচনা ১২ই মার্চ নিয়ে। এদিন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা। চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সরকারি দলের নেতারা বলছেন তাদের কর্মসূচির কারণে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা এদিন ঢাকায় প্রবেশ করতেই সাহস পাবে না। আর বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, তাদের কর্মসূচিতে আর কোন বাধা তারা মানবেন না। মার্চ মাসজুড়ে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কর্মসূচি থাকলেও ১২ই মার্চ তাদের কোন কর্মসূচি নেই। তবে আলোচনা আছে এদিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সমাবেশ করবে। তবে এ পর্যন্ত সংসদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি। গতকাল আইন প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা এডভোকেট কামরুল ইসলাম এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ১২ই মার্চ বিরোধী দল ঢাকা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। এদিন এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যে, তারা ঢাকায় প্রবেশেরই সাহস পাবে না। তবে অন্য এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, আইন প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য দিলে তাকেই ১২ই মার্চের আগে ঢাকা ছাড়তে হবে। অন্য এক অনুষ্ঠানে বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতা এম কে আনোয়ার বলেছেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে আর কোন বাধা মেনে নেয়া হবে না। এদিকে প্রধান দু’দলের কর্মসূচি নিয়ে পাল্টাপাল্টির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিলে তাতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সুজন সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার। সেখানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে একে অন্যের বাধা হয়ে দাঁড়ালে সামনে সংঘাত আরও বাড়বে। একই কথা বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কর্মসূচি শুভ লক্ষণ নয়। এ ধরনের কর্মসূচির কারণে দলগুলোর মধ্যে বিভেদ আরও বাড়বে। নতুন সমস্যারও সৃষ্টি হবে। এর আগে গত ২৯শে জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপির গণমিছিলের দিনে মহানগর আওয়ামী লীগ সমাবেশের ঘোষণা দিলে ঢাকায় এদিন ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ। এ নিয়ে রাজনীতি উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে বিএনপি তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি পরের দিন পিছিয়ে নেয়। মহানগর আওয়ামী লীগও ওইদিন সমাবেশ করে। তবে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। বিরোধী দলের এ গণমিছিল কর্মসূচিতে ঢাকায় কোন অঘটন না ঘটলেও এটিকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে ৫ জন মারা যায়। নিহতরা বিএনপি ও জামায়াতকর্মী। কর্মী হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো এখন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
মহাজোটের কর্মসূচি নেই
১২ই মার্চ বিএনপির কর্মসূচির দিনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের কোন কর্মসূচি দেয়া হয়নি। দলীয়ভাবে কর্মসূচি দেয়া হলে তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামসমূহে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে দলের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বা জোটের পক্ষ থেকে পাল্টা কোন কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান এ পর্যন্ত যে সব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলোই পালন করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কর্মসূচির আগে ও পরে আমাদের কর্মসূচি থাকতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছেন, ১২ই মার্চ কোন কর্মসূচি নেই। তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলছে। দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী দলের কর্মসূচির আগের দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীতে শো-ডাউন করা হতে পারে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আগামী ৭ই মার্চ রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মানববন্ধন করবে ১৪ দল। এটি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি। এছাড়া পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী থানা ও ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি চলছে। এছাড়া ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি ঠিক করতে শনিবার দলের কার্যানির্বাহী সংসদের বৈঠক হয়েছে। এতে দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে ১২ই মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কর্সসূচি ঘোষণা দেয়া হয়নি। এদিকে আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে- গত ২৯শে জানুয়ারি একই দিন পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঢাকায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরের দিন বড় দু’দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন এ সমালোচনাকে আরও জোরালো করে। এ কারণে বিএনপির ১২ই মার্চের দিনে নতুন কোন কর্মসূচি দিতে চাইছেন না দলটির নেতারা।
তারা ঢাকায় ঢুকতেই পারবে
না- আইন প্রতিমন্ত্রী
দলীয় ফোরাম, ১৪ দল বা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১২ই মার্চ কোন কর্মসূচি না দিলেও আইন প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট কামরুল ইসলাম বিরোধী দলের কর্মসূচির দিনে পাল্টা কর্মসূচি দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ই মার্চ বিএনপিসহ চারদল ঢাকা দখলের কর্মসূচি দিয়েছে। এসব কর্মসূচি আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার জন্য। তবে একই দিনে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দল এমন কর্মসূচি দেবে যে তারা ঢাকা দখল দূরের কথা, ঢাকায় ঢুকতেই পারবে না। তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের মূল কারণ যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা। গতকাল সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এডভোকেট কামরুল বলেন, খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের লাগাতার কর্মসূচি আসছে। আমরা মাঠে রয়েছি, মাঠ ছাড়বো না। তিনি বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিচ্ছে- যাতে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য বলেছেন। মওদুদ বলেছে ট্রাইবুন্যাল বন্ধ করতে। এর আগে বিএনপি রোড মার্চ এবং বিভিন্ন সভার নামে যে সব রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছে সেগুলো জামায়াতেরই কর্মসূচি। বিএনপির পেটে জামায়াত ঢুকে গেছে। বিএনপি এখন জামায়াতের আদর্শ নিয়ে চলে। বিএনপির কার্যক্রমে জামায়াতের নেতাকর্মীর উপস্থিতিই বেশি থাকে।
আইন প্রতিমন্ত্রীকে ঢাকা
 ছাড়তে হবে- ফারুক
এদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। গতকাল জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি আইন প্রতিমন্ত্রীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আপনি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কথা বন্ধ করুন। এ ধরনের কথা বললে আগামী ১২ই মার্চের আগে আপনাকেই ঢাকা ছাড়তে হবে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকার বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নির্মূল করতে চাইছে। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগে কিছু নতুন মন্ত্রী ও এমপি এসেছেন যাদের কোন রাজনৈতিক শিষ্টাচার নেই। বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তাদের অশালীন বক্তব্য দেখলে মনে হয় তাদের দলে রাজনৈতিক বেয়াদবের আবির্ভাব ঘটেছে।
কর্মসূচিতে বাধা আর সহ্য করা
হবে না- এম কে আনোয়ার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেছেন, বিএনপির বৈধ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়া আর সহ্য করা হবে না। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সাহস থাকলে পুলিশ-র‌্যাব বাদ দিয়ে মাঠে আসুন। তখন কারা মাঠে থাকবে সেটা দেখা যাবে। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের গণমিছিলে লোক সমাগম দেখে সরকার ভীত হয়েছে। ১২ই মার্চ মহাসমাবেশে যাতে লোক সমাগম কম হয় সেজন্য সরকারের কয়েক জন মন্ত্রী রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে