Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (43 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৫-২০১২

মঈন-ফখরুদ্দীনের শাস্তির সুপারিশ আসছে সংসদে

মঈন-ফখরুদ্দীনের শাস্তির সুপারিশ আসছে সংসদে
২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা-ছাত্র সংঘর্ষ ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ও সাবেক সেনা প্রধানসহ পাঁচ জনকে প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন আগামী সোমবার জাতীয় সংসদে উস্থাপন করা হচ্ছে। সংসদ সচিবালয়  সূত্র এ বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থাস্থী কমিটির প্রতিবেদন কার্যপ্রণালী বিধির ২০৮ বিধি অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপন করবেন কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ১২অধিবেশনের গত বৃহস্পতিবার দিনের কার্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভ?ুক্ত করার জন্য কমিটি শাখায় জমা দেয়া হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা সূত্রে জানা গেছে, দিনের কার্যসূচিতে কোন কোন বিষয় থাকবে তার চুড়ান্ত  সিদ্ধান্ত নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। সে হিসেবে আগামী সোমবার প্রতিবেদন উপস্থাপনের বিষয়টি দিনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সূত্র জানায়, ওই দিন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে কি না সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র- সেনা সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও জেনারেল মইন উ আহমেদ ছাড়াও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা  নেয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এরই মধ্যে গত বুধবার ৩৮৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। ৬শ’ কপি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান, সেনা প্রধান, পুলিশ প্রধানের বিচারের বিষয়টিও সংসদে অনুমোদনের পর সরকারের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হবে। প্রথম ২৯ পৃষ্ঠা কমিটির মূল প্রতিবেদন। এগারোটি পর্যবেক্ষণ ছাড়াও তেরোটি সুপারিশ রয়েছে এতে। বাকি পৃষ্ঠাগুলোয় সাব-কমিটি সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে ৪২টি বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয়গুলোর মধ্যে বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং, বিবিসি ও ভয়েস অব আরেরিকাসহ বাংলাদেশ বেতারের প্রতিবেদনের লিখিত রূপ, কমিটির কাছে সাক্ষ্য  দেয়া ছাত্র-শিক্ষকদের বক্তব্য রয়েছে। তাছাড়া ওই সময় দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট আরো অনেকের বক্তব্য এবং সাব-কমিটির ১১টি বৈঠকের কার্যপত্র সংযুক্ত হয়েছে। বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোয় সে সময় প্রচারিত সংবাদের একটি সিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে। সাব-কমিটি গত ৮ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মূল কমিটি তা অনুমোদন করে। এর আগে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই পাঁচ জন বিশিষ্ট নাগরিকের আবেদনের  প্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত সাব-কমিটি গঠিত হয়। সূত্র জানায়, কমিটিতে বিরোধী দলীয় সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ প্রথম দিকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিলেও শেষে দিকে তিনি কোনো  বৈঠকে আসেননি। সে কারণে এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্য নেই। এরই মধ্যে ছাপা হওয়া প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে সাব-কমিটি বলছে, ছাত্র-সেনা সংঘর্ষ পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৎকালীর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইচ্ছাকৃত নির্লিপ্ত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদ, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ, সে সময় আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দুই পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী; ডিজিএফআই’র কর্নেল শামসুল আলম খানের (কর্নেল শামস) বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে বিচার শুরু করতে বলেছে। সংসদীয় কমিটি এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার দিন সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, কমিটি মনে করে ডিজিএফআই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে। তারা নিজেদের দায়িত্বের বাইরে সীমা লংঘন করেছে। একই সঙ্গে তখনকার পুলিশের মহাপরিদর্শক নূর-মোহাম্মদ কমিটির আহবানে সাড়া না দিয়ে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনের রাজনৈতিক বিষয়ে ডিজিএফআইয়ের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা থাকতে পারে। কিন্তু তা কোনো অবস্থায়  বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া ওই প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে বিষয়ে পদক্ষেপ  নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। গতকাল এ ব্যাপারে  কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপনের পর এ বিষয়টি নিয়ে সাধারণ আলোচনার জন্য সংসদে প্রস্তাব করা হবে। বৃহস্পতিবার স্পিকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি সংসদ নেতা ও চিফ হুইপের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আমি নিজেও বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপের সঙ্গে আলোচনা করবো। মেনন বলেন, প্রতিবেদন নিয়ে সাধারণ আলোচনার  রেওয়াজ নেই ঠিক, তবে স্পিকার চাইলে সুযোগ দিতে পারেন। আর সরকার দলীয় অনেক সদস্যও এ বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে