Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৫-২০১২

ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ব্যয়

আব্দুল্লাহ আল মামুন


ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ব্যয়
ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি: টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির লাগাম কোনো ভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফিতির চাপ ক্রমান্নয়ে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে চলতি অর্থ বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে তার আগের বছরের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১৬.৯১ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ৪১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জুলাই-ডিসেম্বর’ ১০-১১র তুলনায় আমদানি ব্যয় অর্থবছর’ ১১-১২ এর জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ১৬.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েব সাইড অনুসারে, ১ ফেব্রয়ারিতে ইউএস ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৪.৪৩ টাকায়। যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭১.১৫ টাকা। এ হিসাবে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩.২৮ টাকা। যেহেতু আমাদের দেশের আমদানিকৃত পন্যের মূল্য ডলারে পরিশোধ করতে হয় এজন্য আমদানি ব্যয় বেশি হচ্ছে। আমদানি ব্যয় বাড়লে স্বাভাবিক ভাবে মূল্যস্ফিতি বেড়ে যাবে।  

আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিসেহারা সাধারণ মানুষ। টাকার বিপরীতে ডলার দর না কমলে ভোগ্য পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। একই সঙ্গে শিল্পের কাচাঁমালের আমদানি ব্যায় বাড়ার কারণে দেশী শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। বাড়বে বেকারত্ব।

এমনিতেই মূল্যস্ফিতি নিয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। এ  অবস্থায় আমদানি ব্যয় অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফিতি বাড়বে লাগামহীনভাবে। আমদানি ব্যয় কমানোর জন্য ডলারের দর কমানো উচিৎ মন্তব্য করে এ বিষয়ে সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের তড়িৎ বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে সরকারের সার্বিক মূল্যস্ফিতি সাত শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে ডিসেম্বর ২০১১ তে গড় মূল্যস্ফিতির হার দাঁড়িয়েছে ১০.৭ শতাংশে। যদি শহর এবং গ্রাম ভিত্তিক পর্যালোচনা করা হয় তবে শহরের তুলনায় গ্রামে এর হার আরো বেশি।

পেট্রোলিয়ামের আমদানি মূল্য ১০৩.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে এ পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ঋণপত্র নিষ্পত্তি ভিত্তিক আমদানি ১৬.০৯ শতাংশ  বৃদ্ধি পেয়েছে।  আলোচ্য সময়ে খাতওয়ারী ঋণপত্র নিষ্পত্তির তথ্য পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় ভোগ্যপণ্যের আমদানি মূল্য ৩১.৫৮% হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে মূলধন পণ্য ২৩.৩২ শতাংশ শিল্পের কাঁচামাল ১৩.৪৩ শতাংশ এবং পেট্রোলিয়ামের আমদানি মূল্য ৬৭.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে রেমিটেন্স প্রবাহে ভাটা, রিজার্ভ কমে যাওয়া, আমদানি ব্যায়ের বিপরীতে রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে অনূরূপ প্রবৃদ্ধি না থাকা ডলারের দর বৃদ্ধির পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। একইসঙ্গে বিশ্ব মন্দা দীর্ঘায়িত হওয়া, বাণিজ্য ঘাটতি, দাতা সংস্থার বিভিন্ন শর্ত ও অবকাঠামো খাতে বৈদেশীক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় দেশের মূদ্রা বাজারে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করছে বলে ধারণা করছেন বিশিষ্টজনরা। এ অবস্থা খেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারকেও উদ্যোগি হতে হবে বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং স্বর্ণমূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কিছুটা অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। ফলশ্রুতিতে সাম্প্রতিক সময়ে টাকার বিপরীতে ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে রেমিটেন্সের প্রবাহ বেড়েছে। রিজার্ভ নিয়েও সতর্ক অবস্থায় আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে