Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৪-২০১২

বিদায়বেলায় হুদা, রাজনৈতিক দলের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব

বিদায়বেলায় হুদা, রাজনৈতিক দলের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব
বিদায় ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা আবারও বললেন, রাজনৈতিক দলের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। বর্তমান অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে সারাদেশে একই দিনে নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচন হতে হবে আলাদা আলাদা দিনে। কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে ৭ বিভাগে মাসব্যাপী নির্বাচন করতে পারলে স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন সম্ভব। পাশাপাশি ভোটগ্রহণে অবশ্যই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ব্যবহার হতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এনইসি অডিটরিয়ামে বিদায় অনুষ্ঠানে গতকাল এসব মন্তব্য করেন তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানা মহলের সংশয়ের বিষয়ে বলতে গিয়ে ড. হুদা বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকেরই সংশয় ছিল। এমনকি আমার স্ত্রীও ২০০৯-এর ১০ বা ১২ই ডিসেম্বর আমার কাছে জানতে চান- নির্বাচন কি সত্যিই হচ্ছে? বলেছিলাম, নির্বাচন নিয়ে বাইরে অনেক প্রশ্নের মুখে আছি। এখন ঘরের তুমিও যদি এই প্রশ্ন করো, আমাকে সমর্থন না জানাও- তাহলে তো হবে না! ৫ বছরের সাফল্য-ব্যর্থতা সম্পর্কে সিইসি বলেন, খুবই শুভকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মেয়াদ শেষ করছি। দেশের জন্য কিছু ভাল কাজ করে গেলাম। কিছু ভাল কাজ রেখেও গেলাম। আগামী কমিশনকে গত ৫ বছরে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে আস্থা সৃষ্টি করে গেলাম সেই আস্থার জায়গাটা ধরে রেখে কমিশনকে আরও উপরে নিয়ে যেতে হবে। ৫ বছরের কর্মকাণ্ড স্মরণ করতে গিয়ে বক্তব্যের এক পর্যায়ে সিইসি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কমিশন সচিব ড. মুহাম্মদ সাদিকের সভাপতিত্বে বিদায়ী অনুষ্ঠানে সিইসি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনে আস্থার সঙ্কট চলছিল। এ সঙ্কট থেকে বের হতে আমাদের অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। আশা করি আগামী দিনে যারাই কমিশনে আসবেন সবাই মিলে আস্থার জায়গাটা ধরে রাখবেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানে সব সময়ই শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহতের জন্য দরকার শক্তি ও সাহস। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে ড. হুদা বলেন, এদেশে কিছু লোক সব সময়ই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে চায়। তবে বেশির ভাগ লোকই দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করতে চায়। এ কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্ন উঠে। গত ৫ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদায়ী সিইসি বলেন, আপনারা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। রিটার্নিং অফিসারদের অনেক বেশি কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। আপনারা সুষ্ঠুভাবে কাজ পরিচালনা করেছেন বিধায় সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আশা করি এই ধারাবাহিকতা আগামী দিনেও বজায় রাখবেন। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে জনগণের করের টাকায় কমিশন চলে। এ জন্য আপনাদের জনগণের সর্বোত্তম সেবা দিয়ে যেতে হবে। যদি মনে করেন কমিশন স্বাধীন হয়েছে, কাজ শেষ- তাহলেই আপনারা মহাবিপদে পড়বেন। সরকার-প্রশাসন-সুশীল সমাজ-মিডিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আপনাদের কাজ করে যেতে হবে। কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আগামী দিনে এতো বেশি কাজ রয়েছে যে, আপনাদের পরিবারকে ভুলে যেতে হবে। কেউ নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাবেন না। মার্চ মাস থেকে সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হবে। এরপর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন বর্তমান কমিশনের বিরাট অর্জন। এটা আমাদের রেখে যাওয়া আমানত। এটাকে ধরে রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কখনও সরকার দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। আমরা শতভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। মাটিতে নেমে যাওয়া একটা প্রতিষ্ঠানকে আমরা গত পাঁচ বছরে টেনে অনেক উপরে তুলেছি। তিনি বলেন, আমরা জাতিকে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চেষ্টা করেছি। আমাদের কাজই মূল্যায়ন করবে আমরা নিরপেক্ষ ছিলাম কি-না! গত ৫ বছরে কমিশনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ছহুল  হোসাইন বলেন, সঙ্কটকালে দায়িত্ব গ্রহণের পর ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ ১৮ মাসে সঠিকভাবে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে পারা ইসি’র সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ এর ফলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, শপথ নেয়ার পর থেকে যে কাজ হাতে নিয়েছিলাম তা হচ্ছে, কি কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না বা অবাধ হয় না- সেটা চিহ্নিত করা। প্রথমেই তিনটি কারণ চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছিলাম। আমরা দেখলাম সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা প্রয়োজন, প্রয়োজন নির্বাচনকে কালোটাকার প্রভাব মুক্ত করা এবং পেশীশক্তির ব্যবহার বন্ধ করা। এসব কাজ করতে গিয়ে কখনও কারো কাছ থেকে কোন ধরনের চাপ পাইনি। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আমরা যেটা সঠিক মনে করেছি সেটাই করেছি। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো জায়গায় কমিশনার হয়ে আসবো এটা কখনও কল্পনাও করিনি। সৈনিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কখন যে ৩০টি বছর সামরিক বাহিনীতে কেটে গেছে টের পায়নি। এরপর আরও একটি বিদায়ের জন্য অপেক্ষায় আছি। নির্বাচন কমিশনে এসে ব্যক্তিগত অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি কমিশনে এসে। লিখেছি ৩টি বই। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে কমিশনারদের মতবিরোধ থাকলেও চূড়ান্তভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল থাকায় নির্বাচনের আগে আমাকেই ভোটার তালিকা প্রণয়নের সার্বিক দেখভাল করতে হয়েছে। যত বাধাই আসুুক- কমিশন চাইলে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব উল্লেখ করে সাখাওয়াত বলেন, নিজেরা সতর্ক থাকলে কেউ অবৈধ কাজ করতে পারবে না। তিনি বলেন, মিছিল-মিটিং বন্ধ করতে আমি প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলাম। অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার পর কমিশনের অন্যতম সফলতা এটি। সর্বশেষে তিনি বলেন, সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানে যারাই কমিশনার হিসেবে আসুুক সবাই তাদের সহযোগিতা করবেন। কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী বক্তব্য রাখেন কম্পিউটার অপারেটর আবু নাসের মুহাম্মদ হেল্লাজ। ‘পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত পরিকল্পনা ও দ্বিবার্ষিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বিদায়ী কমিশনের দিক-নির্দেশনামূলক অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন ড. এটিএম শামসুল হুদা। একই দিন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। এরপর ১৪ই ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান অপর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। সিইসি ড. হুদা ও ছহুল হোসাইন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন গতকাল। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এম সাখাওয়াত হোসেনের।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে