Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৪-২০১২

কূটনৈতিক উদ্যোগে তোলপাড় : দুই নেত্রীর সবুজ সংকেত পেলে চলতি মাসেই সংলাপ

নজমূল হক সরকার


কূটনৈতিক উদ্যোগে তোলপাড় : দুই নেত্রীর সবুজ সংকেত পেলে চলতি মাসেই সংলাপ
ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোট মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী সমাজ -
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ইসুতে ১৬ বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধীদলীয় জোট মুখোমুখি। দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। আশঙ্কা করা সংঘাতের। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে ব্যবসায়ী সমাজসহ দেশবাসী। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। দুই নেত্রীর সবুজ সংকেত পেলেই চলতি মাসে কূটনৈতিক পর্যায়ে সংলাপের উদ্যোগ নেয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নে বাংলাদেশে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রাথমিক এ উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। তিনি নির্বাচনকালীন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে সরকার ও বিরোধীদল থেকে ৫ জন অন্তবর্তী সরকারের মন্ত্রী করার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন। এ উদ্যোগকে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, ভারত, চীনসহ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকরা কৌশলে চাপ দিচ্ছেন দুই জোটের শীর্ষ নেতাদের। এ প্রক্রিয়ায় জড়িত আছেন বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কয়েকজন শীষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

প্রাথমিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্র’য়ারি আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্ল্যাক। তিনি এ বিষয়ের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী জোটের প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র মতে, সমঝোতার উদ্যোগ সফল করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করছে একটি মহল। এর আগে চলতি মাসে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রনব মুখার্জি ঢাকা সফরকালে দুই দেশের বিরাজমান সমস্যার পাশাপশি রাজনৈতিক সংকট আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এছাড়া ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

কয়েকটি সূত্র জানায়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ব্যবসায়ী সমাজ চাচ্ছে না। ব্যবসায়ীর আশঙ্কা করছেন, দুই নেত্রীর মধ্যে সমঝোতা না হলে দেশে সংকট ঘনীভুত হবে। আবারও ওয়ান ইলেভেন ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে বিকল্প অন্তবর্তীকালীন নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষে। তবে খালেদা জিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেবে না। আবার যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকরা বলেছেন, সব দলের অংশ গ্রহণ ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

এ ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দলের কেউ কূটনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতার প্রাথমিক উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলছেন। তবে দুই একজন নীতিনির্ধারক জানলেও তারা মুখ খুলছেন না-এমন গুঞ্জন রয়েছে।

অপরদিকে, বিরোধীদলের গণমিছিলের কর্মসূচিকে ঘিরে ৫টি লাশ পড়েছে। সরকার পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধীদলীয় জোট ১২ মার্চ ‘চলো চলো ঢাকায় চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান করার প্রচেষ্টা চালাবে। এ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এ কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ঢাকার রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত আমাদেও সময়কে জানান, অভ্যুত্থান কাকে বলে খালেদা জিয়া বুঝেন না। গণঅভ্যুত্থান হয়েছেন ১৯৬৯ সালে এবং ’৯৬ সালে। জনগণ ছাড়া অভ্যুত্থান হয় না। জনগণকে ছাড়াই সামরিক অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নে রাজপথে দাবি তুলে লাভ হবে না। বিষয়টি সংসদের, তাই সংসদে এসে প্রস্তাব দিতে হবে। সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে?

এদিকে, বাংলা নিউজকে বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র লবির নেতা ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক সংলাপের প্রস্তাব সম্পর্কে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ভালোমন্দ নিয়ে ভাবি, যুক্তরাষ্ট্রও তেমনি আমাদের ভালোমন্দ নিয়ে ভাবে। তবে বাইরের লোক কোনো উদ্যোগ নিয়ে সংলাপ করবে এটা ঠিক না। আমাদের সমস্যা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকেই সমাধান করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারি দল আওয়ামীলীগ যা করছে, তাতে সংলাপের কোনো পরিবেশ নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, গুলি করে হত্যা ও গুম করে গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়ায় সকল আলোচনার পথ সরকারই বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’ খালেদা জিয়ার কাছে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরকম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছেকি-না তা জানি না। তবে বিএনপি চেয়ারপার্সন ব্যাপারে সবসময়ই উদার। তিনি কোনো সমস্যা চান না। তিনি চান সমাধান।’ তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিকদের মধ্যে অনেক কিছু নিয়ে অনেক সময় আলোচনা হয়। এগুলো বাইরে বলা ঠিক হবে না।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসমান ফারুক বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক সংকটই নয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট খুব প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে। এই সংকট দূর করতে শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না, সব সমস্যা নিয়েই আলোচনা করতে হবে।’

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’ যদি এ রকম কোনো সংলাপের উদ্যোগ নিয়েই থাকে, সে ক্ষেত্রে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কোনো মতামত নেই। এটা দলীয় বিষয়। যদি মার্কিন রাষ্ট্রদূত এমন কোনো প্রস্তাব দেয় তবে দলীয় ফোরামে তা আলোচনা হবে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বিষয়টি ভালো না মন্দ, উচিত না অনুচিত।’

মজিনার মধ্যস্থতায় যে সংলাপের কথা শোনা যাচ্ছে তা সমর্থন করেন কি-না, এর মাধ্যমে সমাধান সম্ভব কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের মজলিসে সুরা সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি-না জানি না, তবে যদি নিয়ে থাকে তবে তাকে আমি স্বাগত জানাই।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে