Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (142 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৪

বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে পাটচাষি

বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে পাটচাষি

মেহেরপুর, ২৯ মে- বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের চাষিরা। বৈশাখ পার হয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহেও মেহেরপুরে দেখা মেলেনি বৃষ্টির।

রোদের তাপে পুড়ে যাচ্ছে পাটের চারা গাছ। বাড়তি খরচ করে জমিতে সেচ দিয়েও বৃষ্টির পানির অভাব দূর হচ্ছে না বলে হতাশায় ভুগছেন জেলার পাটচাষিরা।

পাট উৎপাদন খ্যাত জেলা মেহেরপুর। পাটের ফলন ও দাম পাওয়ার ওপর ভাগ্য বদলায় এ জেলার চাষিদের। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর জেলার কৃষকদের মাথায় হাত উঠেছে। লাভের মুখ দেখা হবে না জেনেও খরচ তুলতে তারা এখনো বৃষ্টির পানির দিকে তাকিয়ে আছেন। এখন তাদের সব আশা ফুরিয়ে যেতে বসেছে।
    
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাবমতে, এ বছর জেলায় ২৩ হাজার ৩১৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। চাষ হয়েছে ২৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগের মতে, এ বছরও পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আবহাওয়া বিরূপ হওয়ায় চাষিরা ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত জমিতে পাটের চাষ করেননি।

কৃষি বিভাগ জানায়, বৃষ্টির অভাবে শুধু খেতের পাটই পুড়ছে না, খেতের চিচিংগা, পুঁইশাক, পটোল, ঢ্যাঁড়স, পেঁপেসহ মৌসুমি ফসল পুড়ছে। খেতের ফসল নিয়ে চাষিদের পাশাপাশি কৃষি বিভাগও উদ্বিগ্ন।

মেহেরপুরের দীঘিরপাড়া গ্রামের পাটচাষি ইরেজ জানান, বৃষ্টির অভাবে খেতের পাট পুড়ে যাচ্ছে। পাটে পোকা লেগেছে। জমিতে সেচ ও কীটনাশক দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। অন্যান্য বছরে এ সময় অনেকে আউশ ধানের চাষ করে থাকেন। কিন্তু বৃষ্টির অভারে এ বছর তাও হচ্ছে না।

একই গ্রামের পাটচাষি আকছার আলী জানান, বৃষ্টির অভাবে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ সেচ দিতে হচ্ছে। পাটখেতে সপ্তাহে একবার সেচ দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সপ্তাহে দুবারও সেচ দিতে হচ্ছে।

শহরের নতুনপাড়ার সজল জানান, তিনি নিজে, তার বাবা ও চাচা মিলে আট বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় তারা চিন্তিত। বৈশাখ মাসে তারা খেতে চারবার সেচ দিয়েছেন। আর পোকা দমনে দুবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন।

সজল জানান, নিজের শ্যালো মেশিন দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে খরচ হয় ৪০০ টাকা। আর অন্যের শ্যালো মেশিন দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে ৫০০ টাকা খরচ করতে হয়। এ ছাড়া, এক বিঘা জমিতে একবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে খরচ হয় সাড়ে ৪০০ টাকা।
    
অনেকে বলেন, বৃষ্টির অভাবে এবার পাট তাদের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। চাষিরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের উঠে দাঁড়াতে বেগ পেতে হবে মনে করেন তারা।

মেহেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে