Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (57 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৯-২০১৪

সিরিয়াল ধর্ষক নই, আমি সিরিয়াল কিলার

সিরিয়াল ধর্ষক নই, আমি সিরিয়াল কিলার

ওয়াশিংটন, ২৯ মে- ‘আমি কোনো সিরিয়াল ধর্ষক নই, আমি একজন সিরিয়াল কিলার’ উক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার গ্রে লিওন রিগওয়ের। সরকারি হিসেবে কমপক্ষে ৪৯ জন নারীকে হত্যার অভিযোগে রিগওয়েকে অভিযুক্ত করা হয়। তথ্য-প্রমাণাদির ভিত্তিতে এই সিরিয়াল কিলারকে ওয়াশিংটনের এক বিজ্ঞ আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

১৯৪৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনের সল্ট লেক সিটির একটি নিম্ন আয়ের পরিবারে জন্মান এই সিরিয়াল কিলার। বাবা থমাস নিউটন রিগওয়ে ছিলেন পেশায় একজন বাসচালক এবং মা মারি রিটা ছিলেন গৃহিনী। ছোটোবেলা থেকেই পোষা জীবজন্তুকে নৃশংস কায়দায় হত্যায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন রিগওয়ে। তিনি প্রতিবেশী পরিবারের একটি বিড়ালকে হত্যা করে ফ্রিজের ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছিলেন যখন তার বয়স মাত্র ১৪। সেই বয়সে অবশ্য শুধু বিড়াল হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত দেননি রিগওয়ে। ছয় বছর বয়সী এক বাচ্চাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করেন সেই সময়। কৈশোর পেরোনোর আগেই তিনি প্রথম মানুষ হত্যা করেন।

রিগওয়েকে যখন আদালতে নেয়া হয় তখন তিনি তার প্রথম খুনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন এভাবে- ‘আমার যখন ১৮ বছর বয়স তখন প্রতিবেশী এক বাচ্চাকে তার পা-হাত বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়েছিলাম।’ এরপর থেকেই মূলত রিগওয়ে একের পর এক মানুষ খুন করতে শুরু করেন। কারণ তার কাছে মানুষ খুন করা একটা শিল্পের মতো মনে হতো। যদিও পরবর্তী জীবনে বেশ কয়েকজন মনোচিকিৎসক জানান, রিগওয়ে ছোটোবেলা থেকেই মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ এবং যৌনকর্মীদের সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক তার প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত করে। যে প্রভাব থেকে পরবর্তী জীবনে বের হতে পারেননি রিগওয়ে।’

যৌবনের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ক্লডিয়া ব্যারোস নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়ার জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

১৯৭৩ সালে মার্সিয়া উইনস্লো নামের এক নারীর সঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সময়টায় হঠ্যাৎ করেই তিনি বেশ ধার্মিক হয়ে ওঠেন এবং নিয়মিত বাইবেল পড়া শুরু করেন। শুধু তাই নয় নিয়মিত চার্চে পাদ্রীর সামনে নিজের কৃতকর্মের জন্য কান্নাকাটিও করতেন তিনি। কিন্তু কথায় আছে- বদ স্বভাব হাজার ধুলেও যায় না। তেমনি নিজের বিকৃত যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য তিনি গোপনে যৌনপল্লীতে যাতায়াত করতেন। আর এই খবর জানতে পেরে তার স্ত্রী মার্সিয়া তাকে ছেড়ে চলে যান। ১৯৮২ সালের গোড়ার দিকে যৌনকর্মীর ছদ্মবেশে থাকা এক পুলিশ অফিসারকে হত্যা চেষ্টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আবার তিনি কারাগার থেকে ছাড়াও পান।
 
১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী তার হাতে খুন হন। তবে ১৯৮৪ সালের শেষের দিকে রিগওয়ে একটি অপরাধ চক্রের সঙ্গে ভিড়ে যান। এই অপরাধ চক্রে থাকাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনপল্লীতে তিনি যাতায়াত করেন এবং প্রায় প্রতিটি যৌনপল্লীতেই তিনি হত্যা করেন। হত্যায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও চাতুর্যতার আশ্রয় নেয়ার কারণে পুলিশের পক্ষে খুব একটা সহজ ছিল না রিগওয়েকে ধরা। তবে ২০০১ সালের দিকে ওপাল মিলস, মার্সিয়া চ্যাপম্যান, ক্যারণ ক্রিস্টিনসেন এবং সিনথিয়া হিন্দসের ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে রিগওয়ের হাতেই তারা নিহত হয়েছেন। আদালতের দেয়া তথ্যানুযায়ী গ্রে রিগওয়ে তার জীবনে মোট ৪৯ জন মানুষকে খুন করেছেন। কিন্তু আদালতের কাছে রিগওয়ে স্বীকার করেন যে তিনি মোট ৭১ জনকে হত্যা করেছেন। তবে তার সমসাময়িক অনেকেরই দাবি যে রিগওয়ের হাতে শুধুমাত্র ৯০ জন নারীই খুন হয়েছেন।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে