Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৮-২০১৪

রামগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম, অসহায় মানুষ

রামগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম, অসহায় মানুষ

লক্ষ্মীপুর, ২৮ মে- জেলার রামগঞ্জ পৌর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও  ঘুষ বানিজ্যের ফলে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একটি মহলের সহযোগিতায় বর্তমানে রামগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি পরিণত হয়েছে ঘুষের আখড়ায়।

দলিল লেখকদের কাছ থেকে সাব-রেজিস্টার মো. আশ্রাফ উজ জামান ভূইয়ার নির্দেশ মতো নকল নবিশ জহির জহিরুল ইসলাম কমিশনের নামে এ ঘুষ আদায় করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কোনো লেখক ঘুষ কম দিতে চাইলে সাব-রেজিস্টার উক্ত লেখকের দলিল রেজিস্ট্রি করতে কৌশলে নানান ত্রুটি ও সংকট সৃষ্টি করে সেই দলিল রেজিস্ট্রি না করে লেখককে ভোগান্তিতে ফেলেন। এমনকি লেখকের সনদ বাতিলের হুমকি দেন।

তাই অনিয়ম প্রকাশে কোনো লেখক ভয়ে প্রতিবাদ করছে না। সাব কবলা, হেবার ঘোষণাপত্র, বায়নানামা, অংশনামা, এওয়াজনামা, আমোক্তারনামাসহ সব ধরনের দলিলে মৌজার মূল্য হিসাব করে মোট টাকার ওপর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেয়া হয়, এবং সবধরনের দলিলে মৌজার মূল্য হিসাব করে মোট মূল্যের উপর সাব রেজিস্ট্রারের কমিশন হিসাব করে শতকরা দশমিক সাত টাকা হারে আদায় করা হয়।

সাব কবলা দলিলে শতকরা ১০ টাকা ব্যাংকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়। সাব রেজিস্ট্রারের ছত্র ছায়ায় দলিল লেখক সমিতি কোনো ধরনের সই, স্বাক্ষর ও সীলবিহীন একটি তালিকার মাধ্যমে শতকরা পনের টাকা থেকে বিশ টাকা পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে দলিল লেখকদের মাধ্যমে আদায় করাচ্ছেন।

কোনো দলিল লেখক যদি সই, স্বাক্ষর ও সীলবিহীন তালিকার থেকে কম টাকা গ্রহণ করে তাহলে ওই লেখকের কম গ্রহণকৃত টাকার দ্বিগুন পরিমাণ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।  

২০ মে থেকে এ পর্যন্ত দলিল লেখক জাহিদ হোসেন, জাকির হোসেনসহ আটজন লেখকের নিকট থেকে তালিকার হিসাব থেকে কম টাকা গ্রহণ করায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এবং জরিমানাকৃত টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হিসাব মতে ২০১৪ ইং সনের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত তিন হাজার পাঁচশত দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ কয়েক কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করা  হয়েছে।

নকল নবিশ জহির জহিরুল ইসলাম ১৯৭৬ সাল থেকে রামগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত থেকে এ ঘুষ আদায় করে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে রামগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করতে এলে জহিরুল ইসলাম তদন্তকারী দলের কাছে ঘুষ আদায় করেন না মর্মে লিখিত দেন এবং সাব-রেজিস্টার ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অবগত নয় বলে যানান।

এই প্রতিবেদকের কাছে নকল নবিশ জহিরুল ইসলাম কমিশনের নামে ঘুষ আদায়ের কথা স্বীকার করে সাব-রেজিস্টারের নির্দেশ পালন করছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্টার মো. আশ্রাফ উজ জামান ভূইয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য নন বলে জানিয়ে কথা শেষ বলে চলে যান।

তার বক্তব্য নেয়ার কিছুক্ষণ পর পরই স্থানীয় একটি মহল উক্ত রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে জানান, পত্রিকায় লিখলে কিছই হবে না। তার চেয়ে ভালো উনার সাথে (সাব রেজিস্টিার) সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, আপনিও লাভবান হবেন।

 

লক্ষীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে