Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (67 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৭-২০১৪

পরিকল্পনাকারী নিজাম হাজারী অর্থের জোগানদাতা আবদুল্লাহ

পরিকল্পনাকারী নিজাম হাজারী অর্থের জোগানদাতা আবদুল্লাহ

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে নৃশংসভাবে হত্যার পর প্রথমেই যার দিকে অভিযোগের তীর ওঠে তিনি হলেন বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী মিনার। এই হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে তাকে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। একরাম হত্যাসহ ফেনীর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর খোলামেলা আলাপ করেন বিএনপির এই নেতা।

এ হত্যার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে মিনার বলেন, একরাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিজাম হাজারী ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম। আর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকার জোগান দেন শেখ আবদুল্লাহ।

সোমবার বিকালে তার গোপন অবস্থান থেকে টেলিফোনে দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেন মিনার। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে দেওয়া হল।

প্রশ্ন
মামলায় আপনাকে কেন আসামি করা হল?

মিনার
নিজাম হাজারী, আলাউদ্দিন নাসিমরা এক ঢিলে দুই পাখি মারার চিন্তা করেন। একরাম আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। নির্বাচনের আগে আমাদের দু’জনের মাঝে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু উত্তেজনাও ছিল। তাদের ধারণা নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র দখল করে আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। কারণ ফুলগাজী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজ নির্বাচনী এলাকা। বিএনপির দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। একরাম হত্যার পরিকল্পনাকারীদের ধারণা- প্রকাশ্যে কেন্দ্র দখল করে একরাম আমার জয় ছিনিয়ে নেয়ায় তার ওপর আমার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষও সেটা বিশ্বাস করবে। এমন একটা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিজেরা বাঁচতে আমাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়। অথচ একরামের ভাই আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে চাননি। নাসিম সাহেব প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেন। তিনি একরামের পরিবারকে জানান, মিনারকে প্রধান আসামি করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। আর যেদিন একরামকে হত্যা করা হয় নিজাম হাজারী সেদিন আলাউদ্দিন নাসিমের বাসায় ছিলেন। কেন তিনি সেখানে ছিলেন। ফুলগাজী এলাকায় আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে নির্বাচন করে থাকেন। অনেক সময় উপ-নির্বাচনে তিনি ওই আসন ছেড়ে দেন। সেক্ষেত্রে আমিই বিএনপির অন্যতম প্রার্থী। কিন্তু আমি রাজনীতির মাঠে থাকলে হয়তো নাসিম সাহেব সুবিধা করতে পারবেন না। কারণ নাসিম সাহেবও ওই এলাকা থেকে ভবিষ্যতে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই যে কোনোভাবে আমাকে রাজনীতির মাঠ থেকে আউট করতে যা যা করার তাই করছেন নাসিম-নিজাম হাজারীরা। এর পেছনে নিজ দল বিএনপির একটি অংশেরও ইন্ধন রয়েছে। ফেনীতে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। এই সুযোগে আমার দলের কেউ কেউ চাচ্ছেন আমাকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে ফেলতে।

প্রশ্ন
একরাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কারা এবং কেন তাকে হত্যা করা হল।

মিনার
একরাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নিজাম হাজারী এমপি এবং তার ভাগ্নিজামাই বলে পরিচয় দেয়া শেখ আবদুল্লাহ। আর এদের বস হিসেবে কাজ করছেন আলাউদ্দিন নাসিম। জয়নাল হাজারীর পতনের পর নিজাম হাজারীর উত্থানে মূল ভূমিকা পালন করে একরাম। বালুমহাল দখল, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে ফেনীর আন্ডারগ্রাউন্ডে নিজাম হাজারীকে পথ দেখিয়েছে একরাম। নিজাম একমাত্র একরামকেই ভয় পেত। তার আশংকা ছিল একরাম হয়তো এক সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। একই আশংকা আলাউদ্দিন নাসিমেরও ছিল। একরাম জীবিত থাকলে শেখ আবদুল্লাহ কখনও ফুলগাজীতে তার অবস্থান তৈরি করতে পারবেন না।

একটি উদাহরণ দিয়ে মিনার বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে যা কিছু বরাদ্দ হতো তার ৭৫ ভাগ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা পেত। বাকি ২৫ ভাগ পেত সংসদ সদস্য। কিন্তু নিজাম হাজারী এমপি হওয়ার পর তিনি নিজে রাখতেন ৭৫ ভাগ। বাকি ২৫ ভাগ উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে বণ্টন করতেন। একমাত্র একরাম এর বিরোধিতা করেছিলেন। এই নিয়ে ফেনী পৌর ভবনে নিজাম ও একরামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।

এছাড়া নিজাম হাজারী ও আলাউদ্দিন নাসিমের কাছে অভিযোগ আসে জয়নাল হাজারীকে ফেনীতে প্রবেশ করাতে একরাম নেপথ্যে কাজ করছে। একরাম এতটাই পাওয়ারফুল ছিল, যদি সে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে জয়নাল হাজারীকে আবারও ফেনীতে উত্থান ঘটাবেন তা হলে সেটা সম্ভব- এমন বিশ্বাস নিজামের মধ্যেও ছিল। একরামের হাত ধরে জয়নাল হাজারী ফেনীতে আবারও আগের রূপে ফিরে এলে নিজাম হাজারীর মসনদ থাকবে না। নাসিমও ফেনীতে গিয়ে নাটাই ঘোরাতে পারবে না। তাই কিভাবে নিজেদের রাজত্ব রক্ষা করা যায় তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তারা। শুরু করেন নানা হিসাব-নিকাশ। সর্বশেষ একরামকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়াই একমাত্র উপায় বলে মনে করেন তারা। শুরু হয় একরামকে মেরে ফেলার নানা ছক। নিজাম হাজারীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড।

প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, আপনি আড়াল থেকে একরাম হত্যায় বিপুল অংকের টাকা দিয়েছেন?

মিনার
একরামকে কারা হত্যা করেছে তা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। একরাম হত্যার সঙ্গে সরাসরি আমাকে জড়াতে না পেরে এখন নতুন কৌশল খুঁজছেন নিজাম হাজারীরা। নানা মাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছেন আমি নাকি এই হত্যাকাণ্ডে টাকা দিয়েছি। একরাম হত্যায় শেখ আবদুল্লাহ টাকার জোগান দিয়েছেন। কিলিং মিশনে অংশ নেয়া থেকে শুরু করে যেখানে যত টাকা লাগে তার জোগান দিয়েছেন তিনি। এখনও একরাম হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করছেন। এর কারণ একরাম নেই ফুলগাজীতে এখন তিনি রাজা। কয়দিন হল একরাম মারা গেছে এখনি আবদুল্লাহ এলাকায় গিয়ে উপনির্বাচন করার মহড়া শুরু করেছেন। আর টাকা দিয়ে যদি একরামকে হত্যা করা যেত তা হলে দেশের সব আওয়ামী লীগ নেতাদের টাকা দিয়ে বিএনপি মেরে ফেলত।

প্রশ্ন
একরামের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?

মিনার
আমি একরামের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, সেও আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নিয়মিতই আমাদের আদালতে দেখা হতো। একরাম কখনও আমার সঙ্গে কোনো বেয়াদবি করেনি। আমার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকলেও একরাম যে ভালো লোক ছিল তা নয়। তিনি নিজেও অনেক লোককে হত্যা করেছেন।

প্রশ্ন
মামলাটি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবেন কিনা?

মিনার
এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। যেহেতু মামলা হয়েছে সেহেতু আইনগতভাবেই আমি তা মোকাবেলা করব। আশা করি আদালতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।

প্রশ্ন
ফেনীর প্রশাসন দলীয়ভাবে কাজ করছে কিনা?

মিনার
আমি আত্মগোপনে আছি। পত্রিকা পড়ে বা টিভির মাধ্যমে কিছুটা খোঁজখবর রাখছি। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চাইলেও পারবে না। কারণ বর্তমান প্রশাসনের ওপর নিজাম হাজারীর প্রভাব রয়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একরাম খুন হয়েছে এটা প্রমাণিত হওয়ার পরও নাসিমসহ কয়েকজন আমাকে হয়রানির চেষ্টা করবে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

প্রশ্ন
ফেনীর পরিস্থিতি উন্নতির জন্য কি করা প্রয়োজন?

মিনার
ফেনীর পরিস্থিতি শান্ত করতে হলে একরাম হত্যার সুষ্ঠুু বিচার করতে হবে। কারণ অতীতে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। হত্যাকাণ্ডসহ নানা অনিয়মের সঠিক বিচার হলেই ফেনী সন্ত্রাসের জনপথ এই দুর্নাম থেকে সরে আসতে পারবে।

প্রশ্ন
জয়নাল হাজারী ও বিএনপি নেতা ভিপি জয়নালের কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

মিনার
ফেনীতে আপাতত ভিপি জয়নালের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। তিনি শারীরিকভাবেও অসুস্থ। আর জয়নাল হাজারীও অনেকটা বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছেন।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে