Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.8/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০২-২০১২

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি পায়নি দুদক

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি পায়নি দুদক
ঢাকা, ফেব্র“য়ারি ০২ - পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে এই বিষয়ে তদন্ত শেষের ঘোষণা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান একথা জানান। তবে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডীয় প্রতিষ্ঠান তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

গোলাম রহমান বলেন, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পের প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠান করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

দেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প পদ্মা সেতুর অর্থ যোগানদাতা বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত অক্টোবরে তাদের অর্থায়ন স্থগিত করলে বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর কাজ আটকে যায়।

সরকার বলছে, মূল সেতুর নির্মাণ কাজের ঠিকাদারদের প্রাক-যোগ্যতা মূল্যায়ন স¤পর্কে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ তোলে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে বলে কমিশন মনে করে না। তাই এটা নিয়ে অনুসন্ধান আর সামনের দিকে অগ্রসর হবে না।”

তিনি বলেন, “প্রাকযোগ্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বলেছে, চুক্তি মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পার্সেনটেজ প্রদানের শর্তে যোগাযোগমন্ত্রী (তৎকালীন) সৈয়দ আবুল হোসেনের পক্ষে তাদের কাছে কেউ কোনো প্রকার অর্থ বা কমিশন দাবি করেনি।”

“চায়না রেলওয়ে ব্যুরো গ্র“প কর্পোরেশনের ওভারসিজ প্রোজেক্ট ইনচার্জ উ জিয়াংদং সাঁকোর কথিত ২০১০ সালের ২৮ জুলাই তারিখের চিঠি পাওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন,” বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগের তীর সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের দিকে হলেও তিনি বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবুল হোসেন বলেছেন, তদন্তেই তার নির্দোষিতা প্রমাণিত হবে।

দুদক কর্মকর্তারা তদন্তে সেতুর পরামর্শক নিয়োগে জামিলুর রেজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন প্রাকযোগ্যতা মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

গোলাম রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করেই মূল্যায়নের কথা দুদককে বলেছেন কমিটির সদস্যরা।

অনুসন্ধানের সারমর্ম সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে বৃহস্পতিবারই জানানো হয়েছে বলে জানান গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, “যদি বিশ্বব্যাংক এই বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে এবং তা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তা যাচাই করে দেখা হবে।”

অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাংককে জানানোর কথা জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ নিয়ে সংস্থাটি কোনো আপত্তি তোলেনি।

সেতু নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি কানাডীয় কোম্পানি নীতিবহির্ভূত কাজ করেছে বলে বিশ্বব্যাংকের তদন্তে উঠে আসার পরই প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করে সংস্থাটি।

পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “এই বিষয়ে তথ্য চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে আমরা কানাডাকে চিঠি পাঠিয়েছি। এর জবাব এখনো আসেনি। এর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।”

২৯০ কোটি ডলারে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা। এছাড়াও এডিবি, জাইকা এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিতের পর বহু প্রতীক্ষিত এই নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া। প্রকল্পের মূল কাজ আটকে গেলেও অন্য সব কার্যক্রম যেমন জমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রাক যোগ্যতা নির্ধারণ ও দরপত্র মূল্যায়ন

পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। নিউজিল্যান্ডের ডিজাইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইকম-মানসেল দরপত্র মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। সেতু কর্তৃপক্ষ তা পাঠায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন করে সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়। পরে সেতু কর্তৃপক্ষ তা বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠায়।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাক যোগ্যতা প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা, বার্ষিক গড় নির্মাণ, টার্নওভার, সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতা, সুনির্দিষ্ট নির্মাণ অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞ জনবল ও যন্ত্রপাতি- এই নির্ণায়কগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।

২০১০ সালের ১১ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনে প্রাক যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে ৪০টি আবেদনপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে।

১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূল্যায়ন কমিটি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করার সুপারিশ করে এবং অন্য ছয় প্রতিষ্ঠান অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

গোলাম রহমান জানান, এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য ২০১০ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়। কিন্তু মূল সেতুর নকশায় আংশিক পরিবর্তন হওয়ায় একই বছরের ১০ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে বলে।

২০১০ সালের ১১ অক্টোবর পুনরায় প্রাক যোগ্যতার আবেদন আহ্বান করা হলে ৪২টি আবেদনপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে ১০ প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে।

“বিশ্বব্যাংকের নির্ণায়ক অনুসরণ করে প্রথমবার যোগ্য বিবেচিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই যোগ্য বিবেচিত হয়। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি সেতু কর্তৃপক্ষ সম্মতির জন্য তা বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠায়,” বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

চীনা কোম্পানির জন্য বিশ্বব্যাংকের অনুরোধ

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অযোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে প্রাকযোগ্য বিবেচনা করার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংক ২০১১ সালের ২৯ মার্চ সেতু কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ
করে।

তবে ডিজাইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ওই প্রতিষ্ঠানের কাজগপত্র পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনা করা যায় না জানিয়ে ২০১১ সালের ৩০ মার্চ বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রতিবেদন পাঠায় বলে জানান তিনি।

গোলাম রহমান বলেন, ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাংক সেতু কর্তৃপক্ষকে ওই কোম্পানিকে বিবেচনা করতে পুনরায় অনুরোধ জানায়।

কিন্তু ওই কোম্পানিকে বিবেচনা না করার কারণ ব্যাখ্যা করে পুনরায় প্রতিবেদন পাঠানো হলেও ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল পুনরায় বিশ্বব্যাংকের অনুরোধ আসে বলে কমিশনের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “বিশ্বব্যাংকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই কোম্পানির অভিজ্ঞতার তথ্য চাওয়া হলে তারা জালিয়াতি করে অন্য প্রতিষ্ঠানের করা ব্রিজের ছবি পরিবর্তন করে তাদের নিজেদের নামে দেখায়। ২০১১ সালের ৭ মে ডিজাইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে ওই কোম্পানির মিথ্যা তথ্য দাখিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।”

এরপর ২০১১ সালের ৯ মে চায়না রেলওয়ে কোম্পানি সেতু কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে সেতুর প্রাক যোগ্যতার আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাদের স্থানীয় এজেন্ট ভেনচার ইন্টারন্যাশনালের এজেন্সিশিপ বাতিল করে, যা বিশ্বব্যাংককে ২০১১ সালের ১১ মে জানানো হয়।

২০১১ সালের ১২ মে বিশ্বব্যাংক মূল সেতু নির্মাণের প্রাক যোগ্যতার হাল নাগাদ মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সেতু কর্তৃপক্ষকে বললে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্যসহ প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য ২০১১ সালের ১৮ মে বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়।

১ জুলাই বিশ্বব্যাংক প্রস্তাবিত প্রাক যোগ্যতা মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সম্মতি দেয় বলে দুদক জানায়।

দুর্নীতির অভিযোগ

গোলাম রহমান বলেন, “প্রাপ্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, সৈয়দ আবুল হোসেন এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাঁকোর প্রতিনিধি কর্তৃক একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে সাঁকোর সাইলেন্ট এজেন্ট নিয়োগের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।”

“তবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বলেছে, সাঁকোর কোনো প্রতিনিধি কখনো তাদের অফিস পরিদর্শন করেনি। আবুল হোসেনের পক্ষে কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর কোনো পারসেন্টেজ দাবি করা হয়নি,” বলেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অযোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন এবং এর সহযোগী অপর অযোগ্য প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্র“প কর্পোরেশন উভয়ের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ দুটি প্রতিষ্ঠানই অভিজ্ঞতার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করেছিল।

সাকোর কথিত চিঠি

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অযোগ্য ঘোষিত চায়না রেলওয়ে ব্যুরো কর্পোরেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. হেলাল উদ্দিন ২০১০ সালের ৩ অগাস্ট পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন।

ওই আবেদনের সঙ্গে সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক (উন্নয়ন) খন্দকার এম এন ইসলাম কর্তৃক চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্র“প কর্পোরেশনকে ২০১০ সালের ২৭ জুলাই দেওয়া একটি চিঠি সংযুক্ত করা হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্র“প কর্পোরেশনকে পদ্মা সেতুর অন্যান্য প্যাকেজের কার্যাদেশ পেতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

গোলাম রহমান বলেন, “এম এন ইসলাম বলেছেন, ওই চিঠিটি তিনি লেখেননি, স্বাক্ষরও তার নয়। স্বাক্ষরটি কারসাজি (সুপার ইম্পোজ) করে বসানো হয়েছে। সাঁকোর ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হকও ওই চিঠির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।”

“এবিষয়ে হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, তিনি চিঠিটি মেইলের মাধ্যমে পেয়েছেন। তার কাছে এর মূল কপি নেই,” বলেন তিনি।

অনুসন্ধানে আবুল হোসেনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা।

কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “আবুল হোসেন বলেছেন, মন্ত্রিত্ব নেওয়ার আগে ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি সাঁকো থেকে পদত্যাগ করেন। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রাক যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে তিনি কাউকে কোনোভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি এবং নিজেও প্রভাবিত হননি।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে