Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (66 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৪-২০১৪

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি নেতাদের: লক্ষ্মীপুরে সাড়ে পাঁচ মাসে ৩৪ খুন

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি নেতাদের:
লক্ষ্মীপুরে সাড়ে পাঁচ মাসে ৩৪ খুন

লক্ষ্মীপুর, ২৪ মে- রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন বাহিনী, উপবাহিনীর মধ্যে প্রায়ই বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। হচ্ছে খুনোখুনি৷ এমন পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলায় গত সাড়ে পাঁচ মাসে ৩৪ জন খুন হয়েছেন৷ প্রশাসন থেকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অব্যাহত খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান গতকাল শুক্রবার বলেন, লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসীদের ২০ থেকে ২২টি বাহিনী-উপবাহিনী রয়েছে৷ এই বাহিনীগুলো রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছে৷ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তারা মানুষ হত্যা করছে৷
গত সপ্তাহেই দুই দলের চার নেতা খুন হন৷ সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে গলা কেটে ও রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে।
এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবু নোমানকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এর জের ধরে আধা ঘণ্টা পর সন্ত্রাসীরা ওই ইউনিয়নের যুবদলের কর্মী জাহাঙ্গীরকে গুলি করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে চলতি মে মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে লক্ষ্মীপুরে খুন হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ২২ জন, রামগঞ্জে সাত ও রায়পুরে পাঁচজন হত্যার শিকার হন। নিহত নয়জনের পরিবারের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তাদের পরিচয়ে সরকারদলীয় কর্মীদের হাতে খুন হন তাঁদের স্বজনেরা। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের পেট্রলবোমা হামলায় রামগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল ইমান উদ্দিন মারা যান। অন্য ২৪ জন নিহত হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, তিনজন জামায়াত-শিবিরের, পাঁচজন বিএনপির নেতা-কর্মী ও চারজন পারিবারিক বিরোধে খুন হন।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় হত্যার ঘটনা ঘটছে। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে অহরহ অস্ত্র থাকায় লক্ষ্মীপুরে একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কাছে প্রচুর অস্ত্র আছে। তারাই খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছি।’
২৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম সোলায়মানকে র্যাব পরিচয়ে ঢাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২৭ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
২১ এপ্রিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে বিএনপি-সমর্থিত সলেমান উদ্দিন জিসান বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নাসির বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে নাসির বাহিনীর সন্ত্রাসীরা মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে ঘরে আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে তাঁর নাতি এসএসসি পরীক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন মারা যায়। এর কিছুক্ষণ পর দেওপাড়া গ্রামে প্রতাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রবিউল আউয়ালকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ফরহাদ হত্যার ঘটনায় জিসান বাহিনীর সন্ত্রাসীদের দায়ী করে তার পরিবার।
১২ ডিসেম্বর সকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবুর বাসা ঘেরাও করে র্যাব। বাসার সামনে রাখা তাঁদের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে র্যাব সাবুর পায়ে গুলি করে। ওই সময় শহরে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে র্যাবের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় র্যাবের গুলিতে চারজন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।
গত ১৪ ডিসেম্বর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফয়েজ আহম্মেদের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। পরিবারের অভিযোগ, র৵াবের সঙ্গে আসা লোকজন ফয়েজ আহম্মদকে গুলি করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে৷ পরদিন ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলামকে (২৭) সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ভাঁটের মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ১৭ ডিসেম্বর রাতে উত্তর রায়পুর গ্রামের যুবলীগের নেতা কিরণ পাঠানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। কিরণ চরমোহনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
২৮ এপ্রিল করপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলামকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এর আগে ২০ মার্চ করপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেনকে তাঁর বাড়ির সামনে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ২৮ মার্চ রায়পুরের জেনারেটর ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান নিখোঁজ হন। পরে ৩১ মার্চ চরবংশী থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় অধিকাংশ খুনের ঘটনা ঘটে। এখানে রয়েছে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী। গত সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচটি দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তাির পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আটক করবে। তিনি বলেন, ‘আশা রাখি, অচিরেই হত্যাকারীরা ধরা পড়বে।’

 

 

 

 

 

লক্ষীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে