Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ১ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (49 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৪-২০১১

'রাজ্য' রেখে ক্রিকেট মাঠে

'রাজ্য' রেখে ক্রিকেট মাঠে
পতৌদির দুই নবাব
কদিন আগেই পরপারে চলে গেছেন নবাব মনসুর আলী খান পতৌদি। তাঁর ফিল্ডিংয়ের ক্ষিপ্রতা, এক চোখে ব্যাটিং আর অসাধারণ রসবোধ এখন শুধুই স্মৃতি। তাঁর বাবা ইফতিখার আলী খান পতৌদি ভারত এবং ইংল্যান্ড_দুই দলের হয়েই খেলেছেন টেস্ট ক্রিকেট। ক্যারিয়ারের ৬ টেস্টের ৩টি খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, আর ৩টি খেলেছেন ভারতের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অভিষেক টেস্টেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। পরের টেস্টে ডগলাস জার্ডিনের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল ইফতিখার পতৌদিকে। কিন্তু পরের দুই বছরে (১৯৩৩-৩৪) উরস্টারশায়ারের হয়ে দারুণ ব্যাট করা পতৌদির নবাব আবারও ডাক পেয়েছিলেন ইংল্যান্ড দলে। ভিনদেশিদের দলে সেটিই ছিল তাঁর শেষ টেস্ট। এক যুগ পর আবারও ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় তাঁকে, সেবার ভারতীয় দলের অধিনায়কের ভূমিকায়। কিন্তু তত দিনে সোনালি সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন ইফতিখার, তিন টেস্টে তাই তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২২। যদিও নটিংহামশায়ার আর সাসেঙ্রে বিপক্ষে ট্যুর ম্যাচে দুটো সেঞ্চুরি মনে করিয়ে দিয়েছিল যৌবনের 'বড়ে নবাব'কে। বছর পাঁচেক পর একমাত্র ছেলের জন্মদিনে পোলো খেলতে গিয়ে মারা যান তিনি। জন্মদিনে ঘোড়ার পিঠে বাবার লাশ দেখেছেন মনসুর আলী খান পতৌদি। এরপর করদরাজ্যটির নবম নবাব হিসেবে তাঁর অভিষেক। ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিষেকটাও দুর্ঘটনার জের ধরে। ১৯৬২ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের এক প্রস্তুতি ম্যাচে চার্লি গ্রিফিথের একটি শর্ট বলে মাথা সরিয়ে নিতে পারেননি ভারতীয় দলের সে সময়কার অধিনায়ক নরি কন্ট্রাকটর। খুলির পেছনে লাগে বল, আঘাতে ৬ দিন অচেতন ছিলেন কন্ট্রাকটর। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনেরও সেখানেই সমাপ্তি। নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে ২১ বছর ৭৭ দিন বয়সী 'ম্যাক' পতৌদিকেই করা হয়েছিল অধিনায়ক। পরে তাঁর অধিনায়কত্বেই প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত।

কুমার রঞ্জিত সিং
ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয়েছে কাঁথিওয়ারের মহারাজা রঞ্জিত সিংজির নামে। অথচ রঞ্জি কিন্তু কখনোই ভারতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেননি! লেগগ্ল্যান্স, লেট কাট ও ব্যাকফুট ডিফেন্সের জন্য আধুনিক ক্রিকেট তাঁর কাছে ঋণী হয়েই থাকবে। নিজে ছিলেন অসাধারণ একজন ব্যাটসম্যান, খেলেছেন ইংল্যান্ড এবং ভারত দুই দলের হয়েই। টেস্ট অভিষেকের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি আর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি। ক্রিকেটে কবজির মোচড়ে শট খেলাকে রঞ্জি নিয়ে গিয়েছিলেন শিল্পের কাতারে। তাই ১৫ টেস্টে ৯৮৯ রানের পরিসংখ্যানের সাধ্য কী এই রাজপুরুষের মহিমা বোঝার! রঞ্জি পরিবারের আরো অনেকেই অবশ্য অনুসরণ করেছেন তাঁর পদাঙ্ক। তাঁর ভাইয়ের ছেলে দুলিপ সিংও খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে। এ ছাড়াও নবনগড়ের রাজপরিবারের সদস্য কুমার ইন্দ্রসিংজি ও অজয় জাদেজাও খেলেছেন ভারতের হয়ে।

প্রিন্স ক্রিস্টিয়ান ভিক্টর
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ব্রিটিশ রাজপরিবারের একমাত্র সদস্য। মহারানি ভিক্টোরিয়ার দৌহিত্রদের একজন ছিলেন প্রিন্স ক্রিস্টিয়ান। ডাবি্লউ জি গ্রেসের নেতৃত্বে জেন্টলম্যান অব ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। রাজপরিবারের ঐতিহ্য মেনে যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে, তার পরও ক্রিকেটের জন্য অনেকটা সময় বের করে নিতেন এই রাজপুত্র। দক্ষিণ আফ্রিকায় বোয়ার যুদ্ধের সময় জ্বরে ভুগে মারা যান প্রিন্স ভিক্টর।

যযুর্বেন্দ্র সিং
গুজরাটের বিলখা রাজপরিবারের এই সদস্য খেলেছিলেন মাত্র ৪ টেস্টে। তাতেই দুই দুইটি বিশ্বরেকর্ডের দখল নিয়ে নিয়েছেন যযুর্বেন্দ্র সিং। ব্যাট কিংবা বল হাতে নয়, স্রেফ হাত দিয়েই তাঁর বিশ্বরেকর্ড! (ফিল্ডার হিসেবে) এক ইনিংসে পাঁচ ও ম্যাচে সাতটি ক্যাচ নিয়ে তিনি ইনিংস ও ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডটা ভাগাভাগি করছেন অস্ট্রেলিয়ার ভিক রিচার্ডসন এবং তাঁর নাতি গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে।

হনুমন্ত সিং
রাজস্থানের বানসারার রাজপুত্র হনুমন্ত সিং ভারতের হয়ে খেলেছেন ১৪টি টেস্ট। অভিষেকেই তাঁর সেঞ্চুরি আছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অভিষেক ম্যাচে এবং বাকি ১৩ টেস্টেও তাঁর সঙ্গে 'ছোটে নবাব' মনসুর আলী খান পতৌদির জুড়িটা মাঠে এবং মাঠের বাইরেও বেশ জমেছে।

রাজা ষষ্ঠ জর্জ
যদিও রাজকার্যের বাইরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার খুব একটা সময় হতো না তাঁর, তবে উইন্ডসর দুর্গের মাঠে রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই ক্রিকেট খেলতেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং উইজডেনের ভাষ্যমতে, বেশ ভালোই খেলতেন তিনি! বাঁ হাতে বল করে একবার হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। তাঁর পরপর তিন বলে তিন শিকারের নামগুলো হচ্ছে_রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড, রাজা পঞ্চম জর্জ আর সে সময়কার ডিউক অব উইন্ডসর!

প্রিন্স অ্যান্ড্রু
ইংল্যান্ডের বর্তমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপের তৃতীয় সন্তান প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ক্রিকেট দক্ষতার কথাও জানা যায় তাঁর স্কুল জীবন থেকে। গর্ডনসটাউন স্কুলের হয়ে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি আর করেছিলেন ২১২ রান। যদিও উইজডেন বলছে, 'স্কুলের ক্রিকেট দলটা ছিল আসলে মাঝারি মানের।' অ্যান্ড্রুর বাবা এবং ইংল্যান্ডের রানির স্বামী, প্রিন্স ফিলিপও নাকি একসময়ে ভালো অফস্পিন করতেন! তার প্রমাণ না পাওয়া গেলেও প্রিন্স ফিলিপ তাঁর ক্রিকেটপ্রেমের প্রমাণ রেখেছেন দুবার মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হয়ে।

পরবান্দারের মহারাজা
ভারতীয় দলের প্রথম ইংল্যান্ড সফরে অধিনায়ক হতে হবে একজন রাজকুমারকে! এমন উদ্ভট দাবিই পরবান্দারের মহারাজাকে বানিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় দলের অধিনায়ক। চারটি ট্যুর ম্যাচে তিনি ছিলেন অধিনায়কের দায়িত্বে আর করেছিলেন সাকুল্যে ২ রান! তাই নিজেই সরে দাঁড়ান দায়িত্ব থেকে আর অধিনায়ক হয়ে যান সিকে নাইডু। বলা হয়, পরবান্দারের মহারাজার রানের চেয়ে নাকি তাঁর রোলস রয়েসই ছিল বেশি!

বিজয়নগরের মহারাজা
ভারতের প্রথম ইংল্যান্ড সফরের চার বছর পরের কথা। ১৯৩৬ সালে দ্বিতীয় বিলাত সফরে অনেক তদবির করে, উপঢৌকন দিয়ে অধিনায়ক হয়ে যান বিজয়নগরের রাজকুমার গজপতি রাজু। আকারেও ছিলেন 'গজ' অর্থাৎ হাতির মতো! ক্রিকেটের জন্য খরচ করেছেন দেদারসে। ভারতের ক্রিকেট ঐতিহাসিক মিহির বোস তাঁর 'হিস্টরি অব ইন্ডিয়ান ক্রিকেট' বইতে লিখেছেন, 'তার মধ্যে শ্রদ্ধাভাজন ক্রিকেট প্রশাসক হওয়ার সব লক্ষণই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে তিনি খেলোয়াড় হতে চেয়েছিলেন!' আগের সফর থেকে শিক্ষা না নেওয়া 'ভিজ্জি' তিন টেস্টেই ছিলেন অধিনায়ক। পুরো সফরে করেছিলেন মাত্র ৩৩ রান! এমন পারফরম্যান্সের জন্যই (!) বোধ হয় তাঁকে 'নাইট' উপাধি দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার! জানা যায়, পরবর্তী সময়ে ধারাভাষ্যকার হিসেবেও নাকি শ্রোতাদের যথেষ্ট বিরক্ত করেছেন তিনি! একবার এই রাজকুমার বাঘ শিকারের গল্প করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোহান কানহাইয়ের কাছে। মাঝপথেই কানহাই বলেছিলেন, 'ও এভাবে? আমি ভেবেছি তোমার ধারাভাষ্য রেডিওতে চলছিল আর তা শুনেই বাঘটা বিরক্ত হয়ে মরে গেছে!' ক্রিকইনফো

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে