Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০২-২০১২

শেকড় সন্ধানে তাগিদ শেখ হাসিনার

শেকড় সন্ধানে তাগিদ শেখ হাসিনার
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০১ - বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে নবীন প্রজন্মের ইতিহাস চর্চার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার মাসব্যাপী একুশের বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি নবীনদের ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু করতে লেখক ও প্রকাশকদের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। একুশে ফেব্র“য়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি হুমকির মুখে থাকা অনেক ভাষাকে লুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কবি উইলিয়াম র‌্যাডিচে ২৭ মিনিট বক্তব্য রাখেন, যার পুরোটাই বাংলায়। বাংলা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইতিহাস, সংগ্রাম, বিজয় এসব তথ্য যেন তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়। তাদের জানার অধিকার আছে। সত্যিকার অর্থে তাদের শেকড়টা কোথায়, তা যেন তারা বুঝতে পারে, অনুভব করতে পারে এবং জানতে পারে। তাহলেই তারা আগামী দিনে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে পারবে।”

বইমেলার সঙ্গে নিজের আবেগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটা সময় নিয়মিত বই মেলায় আসতাম, ঘুরতাম। এখনো বই কিনি। বই কেনার জন্য আমার বিশেষ লোভ রয়েছে।”

বইয়ের গুণগত মান বাড়াতে প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “বইমেলায় যারা লিখছেন, যারা প্রকাশ করেছেন, তাদের মানুষের চাহিদার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।”

বই লেখা, প্রকাশে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেন শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যবই ইন্টারনেটে পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিতে লেখকের অধিকার সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কপিরাইট গ্রহণ ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।

অসা¤প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু আমাদের শত্র“র অভাব নেই। যখনই গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখনই কিছু মহল যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যাদের পছন্দ নয়, তারা অঘটন ঘটানোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে বাংলার মানুষ সচেতন রয়েছে।”

শেখ হাসিনা জানান, অবসরে যাওয়ার পর বই পড়েই সময় কাটাবেন তিনি। এ জন্য তিনি বই জমিয়েও রেখেছেন।

বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে উচ্ছ্বসিত উইলিয়াম র‌্যাডিচে বলেন, “আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না, আমি এখানে আছি এবং বক্তৃতা করছি। নিমন্ত্রণ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।”

বইমেলার কথা বলতে গিয়ে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন তিনি। এই কবি জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাংলা শেখার সিদ্ধান্ত নেন এবং তখন যুদ্ধের খবরগুলো তিনি কেটে কেটে গুছিয়ে রাখতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন কবিতার অর্থ ও দৃষ্টিভঙ্গীর বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন র‌্যাডিচে। তবে সেই সঙ্গে স্বীকার করেন, বাংলা সাহিত্যের অনেক কিছু এখনো তার অজানা।

র‌্যাডিচে জানান, তার দাদা কর্মসূত্রে এক সময় বাংলাদেশে ছিলেন। “দাদাকে না দেখলেও বাবার কাছে বাংলাদেশের গল্প শুনেছি। শুনেছি দাদাও বাংলাদেশকে অনেক ভালোবাসতেন,” বলেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ।

গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন র‌্যাডিচে।

বাংলায় র‌্যাডিচের বক্তব্য শুনে তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাঙালিরা যে অন্যকে আপন করে নিতে পারে, তা তার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন। বাঙালি সাহিত্যের ভাই হিসেবে আমরা তাকে বরণ করে নিলাম।

এই মেলার পরিসর বাড়াতে প্রকাশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, এই দিকটি চিন্তা করতে হবে।

বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সেমিনারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো রেখে মেলার স্টল অন্য জায়গায় খোলার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলা একাডেমীর ছোট পরিসরে মেলার ঠাঁই হচ্ছে না। এজন্য কী করা যেতে পারে সবাই মিলে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

“মেলা এ প্রাঙ্গণে না হলেও কষ্ট লাগে। দুটোকে মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মেলার কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন ঘোষণার পরই মাসব্যাপী গ্রন্থমেলা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছিলেন শুধু আমন্ত্রিতরা।

অধিবর্ষ (লিপ ইয়ার) হওয়ায় এবারের মেলা চলবে ২৯ দিন। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে এবং ২১ ফেব্র“য়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

মেলা চলাকালীন বাংলা একাডেমী মঞ্চে প্রতিদিন আলোচনা সভাও হবে। মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান জানান, এবারের মেলায় আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ‘ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর’।

বাংলা লায়ন ওয়াইম্যাক্সের সহযোগিতায় বইমেলা প্রাঙ্গণ ওয়াইফাইয়ের আওতায় থাকবে। বাংলা একাডেমী ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাশাপাশি আরো দুটি ওয়েবসাইটে মেলার প্রতিদিনের তথ্য প্রচার করা হবে।

এবারের মেলায় ৪২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩০টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে