Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (78 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২১-২০১৪

শিউলীর স্বপ্ন পূরণ হবে তো ?

শিউলীর স্বপ্ন পূরণ হবে তো ?

লালমনিরহাট, ২১ মে- ফারজানা আক্তার শিউলী। মায়ের সঙ্গে ক্ষেত-খামারে দিনমজুর খেটেও পড়াশোনা চালিয়ে এসেছে। তবুও যেনতেন নয়। এবছর মানবিক শাখায় এসএসসি’তে জিপিএ ৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের ধুবনী গ্রামে ছোট জীর্ণশীর্ণ কুটিরে তার বাস। কুড়েঁ ঘরে থেকেই স্বপ্ন বুনছিল সেই শৈশব থেকে। যেন বড় হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। সেই স্বপ্ন পূরণে চাঁদের আলো উঁকি দিয়েছে তার ঘরে।

সেই গ্রামের দিনমজুর দম্পতি ফজলুল হক- নবিরন নেছার মেয়ে শিউলী। দু’বোনের মধ্যে শিউলী ছোট। বেড়ে উঠার পথে তার চোখে লেগে ছিল ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন। সে স্বপ্ন ডালপালা মেলে আরো বেড়েছে এখন। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অভিষ্ঠ লক্ষে এগিয়ে যেতে চায় অদম্য এই মেধাবী।

নিজের প্রতি প্রখর আত্মবিশ্বাস তার। কে জানে হয়তো এই বিশ্বাসই একদিন তাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের শিখরে।

তার মতে, চা বিক্রেতা থেকে মোদী যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, তাহলে দিনমজুরের মেয়ে হয়ে ব্যারিস্টার হতে পারবে না কেন?

শিউলীর বাবা-মা দু’জনেই দিনমজুরের কাজ করলেও বছর খানিক আগে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অসুস্থ বাবা। মায়ের সামান্য আয় দিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে সংসার চলত। কিন্তু সংসারের টানাপড়েনে বন্ধ হয়ে যায় শিউলীর লেখাপড়া। অর্থাভাবে নির্বাচনী পরীক্ষাই দেয়া হয়নি তার।

এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ক্ষেত-খামারে দিন মজুরের কাজ শুরু করে। কিছু টাকাও জমিয়ে ফেলে। ওই টাকা ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এসএসসির ফরম পূরণ হয় তার। দিনে অন্যের জমিতে মায়ের সঙ্গে দিনমজুরি, রাতে লেখাপড়া। এভাবেই অংশ নেয় এসএসসি পরীক্ষায়।

জিপিএ ৫ পেয়ে সেই পরিশ্রম সার্থক হয়েছে শিউলীর। ভালো ফল করলে সবাই অনন্দ করে মিষ্টি খায়। কিন্তু অভাবী শিউলীর সে কপাল নেই। ভাগ্যে ঈদ ছাড়া মাংস জোটে না। মিষ্টি তো দূরের কথা। কিন্তু আনন্দ করতে তো আর পয়সা লাগে না! তাই ফলাফল পেয়ে বাবা মাকে নিয়ে জয়ী হওয়ার আনন্দ করেছে শিউলী। এরপর?

থেমে নেই শিউলী। বাস্তব তাকে কঠিন করে দিয়েছে। তাই এসএসসি পাশের পর শুরু হয়েছে দ্বিতীয় যুদ্ধ। যে করেই হোক একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে। সেই খরচ যোগাড় করতেই এখনো দিনমজুরি করে যেতে হচ্ছে তাকে।

শিউলীর স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা কতখানি জানতে চাইলে গডিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, শিউলী মেধাবী। লেখাপড়ার প্রতি রয়েছে তার তীব্র আগ্রহ। অবশ্যই সহযোগিতা পেলে শিউলী তার স্বপ্ন পুরণ করতে পারবে।

এলাকার চেয়ারম্যান এম জি মোস্তফা বলেন,  শিউলীর এটা ছাত্রী জীবন নয়, যুদ্ধ ক্ষেত্র। সে লেখাপড়ায় ভালো, বিধায় মাঝেমধ্যে তার পরিবারকে সহায়তা করা হয়। ইচ্ছা থাকলেই শেষ অবধি যেতে পারবে সে।

শিউলীকে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ। কিন্তু অভাবী জীবনের কতোটুকুই বা আর সঙ্গতি। তবুও শিউলিকে ঘিরে স্বপ্ন বোনে দিনমজুর মা। স্বপ্ন চিকচিক চোখে তার অকপট জিজ্ঞাসা,‘ বেরিস্টার হতে কত টাকা নাগে বাহে? হামার শিউলী বেরিস্টার হবার চায়। কোনটে পামু এত টেকা?’
 
মায়ের মত এ প্রশ্ন তার পরিবারের। প্রথম যুদ্ধে জয়ী হলেও জীবনের বাকী যুদ্ধে জিততে পারবে তো শিউলী?

লালমনিরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে