Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (56 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০১-২০১২

আরব আমিরাতে গিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বিপদে

মনির হোসেন


আরব আমিরাতে গিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বিপদে
একক ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দুবাই গিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক নানা বিপদের মধ্যে রয়েছেন বলে খোদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বেশির ভাগ নিয়োগকারী কোম্পানি চুক্তি মোতাবেক বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না বলে শ্রমিকেরা দূতাবাসে গিয়ে অভিযোগ করছেন। ব্যক্তিগত ভিসায় গিয়ে প্রতারিত কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় সমপ্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস'ান মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘একক ভিসায়’ বিদেশ গমনকারীদের ডকুমেন্ট হাইকমিশন বা দূতাবাস থেকে অবশ্যই সত্যায়ন করতে হবে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সভাপতি আবুল বাশারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দুবাই ছাড়া এ মুহূর্তে আমাদের আর কোনো বাজার খোলা নেই। এ দু’টি দেশের নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনে ৫-১০ জন শ্রমিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিচ্ছে। কিন' প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একক ভিসার সার্কুলার জারি হওয়ায় বিদেশগামীদের সংখ্যা আরো কমবে। তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিদেশে যেভাবে লোক যেতে পারে সরকারের উচিত হবে সে অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা। তার মতে, একটি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে মন্ত্রণালয় ও বিদেশগামীরা। তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত একক ভিসায় যেসব কর্মী বিদেশ গিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে একক ভিসায় গমনকারী শ্রমিকদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলা হচ্ছে। এর জবাবে তিনি বলেন, এটা মোটেও সঠিক নয়; একক ভিসা নিয়ে যারা বিদেশ গিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের তথ্য জনশক্তি কর্মসংস'ান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে রেকর্ড রয়েছে। তা ছাড়া স্মার্ট কার্ডেও নিয়োগকারী কোম্পানির নাম এন্ট্রি রয়েছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? বায়রা সভাপতি বলেন, একক ভিসায় যাওয়া কর্মীর নাম দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে সত্যায়ন করার নির্দেশ বিষয়টিকে আরো জটিল করে ফেলবে। তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে বৈঠক করব, প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তুলব।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস'ান সূত্র জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস'ান মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা-৮ এর উপসচিব মো: মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠি প্রত্যেক রিক্রুটিং অ্যাজেন্সিতে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে, বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী একক ভিসায় বিদেশে গমন করছেন। এসব বিদেশগামী কর্মীর নিয়োগকর্তা, মজুরি ও কাজের পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয় অবহিত নয় বিধায় কর্মীদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া এক দিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্য দিকে দূতাবাসও এসব কর্মীর সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করতে পারছে না। এ অবস'ায় এসব কর্মীর চাকরির নিরাপত্তা বিধান, প্রতিশ্রুত মজুরিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট দেশে অবসি'ত হাইকমিশন বা দূতাবাস কর্তৃক নিয়োগসংক্রান্ত ডকুমেন্টের সত্যায়ন প্রয়োজন। এখন থেকে একক ভিসায় বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়ন করতে হবে। তা ছাড়া হাইকমিশন বা দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়িত একক ভিসার তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটিকে জানাতে হবে। এ আদেশ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাউনাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, একক ভিসা নিয়ে যারা বিদেশে এসেছেন তাদের মধ্যে হাজার হাজার শ্রমিক দূতাবাস ও দুবাইয়ের কনসাল জেনারেল অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, নিয়োগকারী কোম্পানির মালিকের কাছ থেকে তারা চুক্তি মোতাবেক বেতনভাতা পাচ্ছেন না। ১০০০ দিরহাম বেতনের কথা বলে আনলেও এখন বেতন দিচ্ছে মাত্র ৪০০ দিরহাম। তিনি বলেন, একক ভিসায় যারা আসছেন তাদের কোনো রেকর্ড দূতাবাসে নেই, যার কারণে প্রতারিত শ্রমিকদের অভিযোগ পাওয়ার পরও দূতাবাস থেকে কোনো ব্যবস'া গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এসব কারণে বাংলাদেশ সরকার একক ভিসা নিয়ে বিদেশগামীদের ডকুমেন্ট সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমার মনে হয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম চালুর এক সপ্তাহ যাওয়ার পর বোঝা যাবে জনশক্তি রফতানির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে কি না। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নতুন নিয়ম চালু হলে দূতাবাসে বাড়তি জনবল প্রয়োজন হবে। এখন কর্মীর তুলনায় জনবল কম। লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মনে করি যারা একক ভিসা নিয়ে বিদেশে আসছেন তাদের একটি তালিকা অবশ্যই দূতাবাসে থাকা দরকার। আর কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সত্যায়ন করারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছেন, যা মোট জনশক্তি রফতানির অর্ধেক।

আরব আমীরাত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে