Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২১-২০১৪

জোছনাকে ১৬০০ টাকায় এনেছিলাম

জোছনাকে ১৬০০ টাকায় এনেছিলাম

চট্টগ্রাম, ২১ মে- জোছনাকে ১৬০০ টাকায় ভাড়ায় এনেছিলাম। কথা ছিল সারারাত থাকবো হোটেলে। রুম ভাড়া নিয়ে ওর সঙ্গে থাকবো। সকালে যে যার মতো চলে যাব। কিন্তুরুম ভাড়া নেয়ার সময় সে বেঁকে বসে।

এ নিয়ে দু’জনার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। জোছনা হুমকি দেয় সকাল হলে সবার সামনে রাতের কথা বলে দেবে। এসময় মাথায় রক্ত উঠে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই ধারালো ছুরিটা কোমর থেকে বের করে ওর পেটে ঢুকিয়ে দেই।
 
এভাবেই বর্ণনা দেন চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেলে খুন হওয়া তরুণীর ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন। গতকাল সোমবার সকালে ওই তরুণীকে হত্যার পর দ্রুত রুমের দরজা লাগিয়ে দেন হোটেলের কর্মচারীরা।

পরে পুলিশে খবর দিলে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে তার কাছ থেকে। তাকে আটক করে নিয়ে যায় কোতোয়ালি থানায়।

জাকির সাংবাদিকদের জানায়, জোছনা মেয়েটির ছদ্ম নাম। কখনও সে জোছনা বেগম, আবার কখনও জোছনা আক্তার। পেশায় সে নিশিকন্যা। তবে অন্য মেয়েদেও থেকে আলাদা। চাইলে তাকে পাওয়া খুব দুষ্কর। তবে টাকার প্রতি মেয়েটি ছিল দুর্বল।

তিান জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টায় তারা স্টেশন রোড এলাকায় যায়। সেখানকার রেয়াজুদ্দিন বাজারের হোটেল আল-আরাফাতের একটি কক্ষ ভাড়া নেয়া হয়। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠে তারা।

রাত ৩টার দিকে জোছনা তার প্রাপ্য চেয়ে বসলে বিপাকে পড়ে জাকির। তার পকেটে সেসময় পুরো টাকা ছিল না। জোছনা তখন বলে, টাকা না থাকলে আমাকে আনছিস‌ কেন? এখন কিন্তু সবার সামনে সব বলে দেব। তখন মুখ দেখাতে পারবি না। আমি অন্য জায়গার সময় নষ্ট করে তোর সঙ্গে এসেছি।

জোছনার উত্তেজনা জাকির থামানোর চেষ্টা করলে প্রচণ্ড রেগে যায়। এর একপর্যায়ে জাকির ধারালো ছুরি দিয়ে জোছনাকে আঘাত করে। প্রথমে তার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

জাকির বলে, আমি জোছনাকে চুপ করতে বললে সে আমার মা-বাবা ধরে গালিগালাজ করে। হোটেলের লোকজনকে সব বলে দেয়ার হুমকি দেয়। তার মুখ বন্ধ করতেই পেটে ছুরি চালাই। এরপরও দেখলাম সে বেঁচে আছে, গোঙরাচ্ছে। আওয়াজ বন্ধ করতে এরপর গলায় ছুরি বসিয়ে দেই। বুকেও ছুরি মারি।

ঘটনা ঘটার পরই হোটেল আল-আরাফাতের কর্মচারীরা দরজা লাগিয়ে তাকে আটকে রাখেন। পরে কোতোয়ালি পুলিশে খবর দিলে তাকে আটক করে।

হোটেল আল-আরাফাতের ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর বলেন, ওরা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রুম ভাড়া নিয়েছিল। তবে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের রুম থেকে চিৎকার আসে। আমরা দৌড়ে যাই। রুমের কাছাকাছি গিয়ে শুনতে পাই, একটি মেয়ে বাঁচার জন্য চিৎকার করছে।

তিনি বলেন, মেয়েটি ভেতর থেকে জোরে জোরে বলছিল, আমাকে ছাড়। নইলে সব ফাঁস করে দেব। প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও এর ১৫ মিনিট পর গোঙানির আওয়াজ শুনতে পাই। বুঝতে পারি, কিছু একটা হয়েছে। পরে বাইর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

কোতোয়ালি থানা সূত্র জানায়, খুনি জাকির ধরা পড়েছে। তার কাছ থেকে রক্ত মাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘাতক জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে। সে নগরীর বাজারের একটি জুতার দোকানের কর্মচারী। তবে খুন হওয়া জোছনার পরিচয় জানা যায়নি। সুত্র: এমটিনিউজ২৪

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে