Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ১ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৮-২০১৪

দুই বন্ধুর অভিন্ন গল্প

ভূবন রায় নিখিল


দুই বন্ধুর অভিন্ন গল্প
লিটন চন্দ্র রায় (বাঁয়ে) ও আবদুল হান্নান

নীলফামারী, ১৮ মে- হান্নান আর লিটন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনই দরিদ্র ঘরের সন্তান। হোটেল আর কৃষিকাজের পাশাপাশি তারা লেখাপড়া করছে। দুজনই পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছিল। সেই টাকার কিছু অংশ সংসারে দেওয়ার পাশাপাশি তারা পড়ার খরচ মিটিয়েছে। এ অবস্থায়ও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে তারা। দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে নীলফামারী সদরের সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ওই দুই বন্ধুর লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। এ জন্য পড়তে চায় দেশের ভালো কোনো কলেজে। কিন্তু দারিদ্র্য কি তাদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে দেবে?

শনিবার ফল প্রকাশের পর সফল অন্য বন্ধুরা যখন আনন্দে আত্মহারা, তখন ওই দুই বন্ধুকে দেখাচ্ছিল বিমর্ষ। ভবিষ্যতের লেখাপড়ার অর্থের জোগান নিয়ে চিন্তিত তারা। এ সময় তারা বলে, 'শ্রম বিক্রির আয়ে গ্রামের স্কুল থেকে লেখাপড়া করেছি। এখন কলেজে পড়ার অর্থ জুটবে কিভাবে?'

আবদুল হান্নানের বাড়ি নীলফামারী সদরের সংগলশী ইউনিয়নের ছোট সংগলশী গ্রামে। মাদ্রাসা শিক্ষক বাবা আতাউর রহমানের সামান্য আয়ে চলত তাদের সংসার। ২০০৭ সালে তার বাবা মারা যান। মানসিক রোগী মা রাহে জান্নাত খাতুন তাকে ছেড়েছেন পাঁচ বছর বয়সে। সেই থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় আবু রায়হান নানাবাড়িতে থেকেছে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। আর হান্নান পালিত হয়েছে তার বাবার পালিত মেয়ে শাবানা বেগমের কাছে।

হান্নান জানায়, লেখাপড়ার খরচ জোটাতে কৃষিজমিতে দিনমজুরি করেছে সে। বিদ্যালয় ছুটির পর প্রায় দিনই হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেছে। কাজের অভাবে অনেক সময় মুচির দোকানে জুতা সেলাইয়ের কাজেও নামতে হয়েছে তাকে। তার লক্ষ্য লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হওয়া। আর ডাক্তার হয়ে সে প্রথম রোগী হিসেবে চিকিৎসা করতে চায় তার মায়ের।

হান্নানকে লালন-পালনের দায়িত্ব পালনকারী শাবানা বেগম বলেন, 'আমাকে ছোটবেলায় এ বাড়িতে আশ্রয় দেন হান্নানের বাবা। ওর মায়ের অনুপস্থিতিতে ওকে লালন-পালন করেছি নিজ ভাইয়ের মতো। এখন আমি তাকে দেখতে চাই অনেক বড় করে।' পরীক্ষায় ভালো ফলে আনন্দের মাঝেও দুঃখ বিরাজ করছিল তাঁর মনে। এ সময় তিনি বলেন, 'পরীক্ষার মধ্যেও ভালো খাবার খাওয়াতে পারিনি ওকে।'

অন্যদিকে লিটন চন্দ্র রায়ের বাড়ি জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের উলটপাড়া গ্রামে। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সে। বাবা সুবাস চন্দ্র রায় অসুস্থ হয়ে হারিয়েছেন কর্মক্ষমতা। তার মা তরু বালা রায়ের মুড়ি বানানোর আয়ে চলে আট সদস্যের সংসার। অভাব অনটনে লিটন লেখাপড়ার ফাঁকে কাজ করেছে এলাকার বিভিন্ন হোটেলে। সে চায় ডাক্তার হতে। সুস্থ করে তুলতে চায় তার অসুস্থ বাবাকে। আর ছেলেকে অনেক বড় করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন মা তরু বালা রায়। ছেলের সাফল্যে আনন্দের মাঝেও বেদনা লুকাতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, 'কোনো দিনও একমুঠ ভালো খাবার দিতে পারিনি ছেলেকে।'

সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিভূতিভূষণ রায় উত্তম জানান, ছোটবেলা থেকে ওই দুজন মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণীতে দুজনই সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। অষ্টম শ্রেণীতে হান্নান ট্যালেন্টপুলে এবং লিটন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। তাদের মেধার কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য। ওই দুই মেধাবীকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিনা বেতনে প্রাইভেট পড়িয়েছেন। তিনি বলেন, 'ওই দুই মেধাবীকে আমরা পার করেছি বিদ্যালয়ের গণ্ডি। এখন তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে আরো সহযোগিতার প্রয়োজন।' অদম্য ওই দুই বন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দেশের সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে