Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯ , ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (44 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৪-২০১১

বাইরে থেকেই শাহরিয়ারদের জবাব

বাইরে থেকেই শাহরিয়ারদের জবাব
প্রস্তুতি ম্যাচে আট-নয় হাজার দর্শক। প্রত্যাশাতীত! তবে ম্যাচটা যখন টি-টোয়েন্টি এবং সেটা হয় অফিস সময়ের পর, ক্রিকেটীয় বিনোদনের আশায় গ্যালারিতে দর্শকের এমন ভিড়টাকে অস্বাভাবিক লাগে না। তা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল ফ্লাডলাইটের উজ্জ্বল আলোয় কী দেখল দর্শক? দেখল, ২০ ওভারের ক্রিকেটটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দলে থাকাদের চেয়ে দলের বাইরে থাকারাই বেশি ভালো খেলেন!
লাল দলের আড়ালে থাকা জাতীয় দলকে শুধু ৯ উইকেটে হারায়ইনি শাহরিয়ার নাফীসের সবুজ দল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতাটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল আরেকবার। ২০ ওভার ব্যাটিং করে হাতে ৪ উইকেট রেখেও ১১৯ রান লাল দলের পরিকল্পনাহীন ব্যাটিংয়েরই প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে সবুজ দলের শাহরিয়ার-রকিবুল-মমিনুলদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে, টি-টোয়েন্টি দলে বুঝি তাঁদেরই বেশি দরকার ছিল। সবুজ দলের এক অলক কাপালি ছাড়া কেউই নেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টির দলে। মোহাম্মদ আশরাফুল অবশ্য ছিলেন, কিন্তু জ্বরের কারণে কাল খেলতে পারেননি ম্যাচটা।
উইকেট ব্যাটিং-স্বর্গ। ১২০ রানের জয়ের লক্ষ্য তাই মোটেই বড় ছিল না সবুজ দলের সামনে। রকিবুল হাসানের সঙ্গে অধিনায়ক শাহরিয়ারের উদ্বোধনী জুটি শুরু থেকেই চড়াও হয় লাল দলের বোলারদের ওপর। রাজ্জাকের বলে রকিবুল পয়েন্টে নাসিরের ক্যাচ হওয়ার আগেই ৫ ওভার ৩ বলে দুজনের ৪৫ রানের জুটি। টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং পারেন না?এই অপবাদ কাল কিছুটা ঘোচালেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা রকিবুল। ১৪ বলে ২৩ রান, পেসার নাজমুলের এক ওভারেই ১৪। লংঅন দিয়ে দুর্দান্ত এক ছক্কার সঙ্গে দুটি চার ওই ওভারে। রকিবুল বাউন্ডারি মেরেছেন আরও দুটি।
মমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটজুটিতে শাহরিয়ারই শেষ করে দিয়েছেন ম্যাচ, খেলার বাকি তখনো ১৯ বল। ১২ ওভার ২ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটিতে এই দুজন যেন টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটাই শেখালেন লাল দলের ব্যাটসম্যানদের। ৫৫ বলে অপরাজিত ৬১ রান শাহরিয়ারের। মমিনুল ৩২ বলে অপরাজিত ৩৫। দুই বাউন্ডারির সঙ্গে লংঅন দিয়ে মমিনুল দুটি ছক্কা মেরেছেন রুবেল আর মোহাম্মদ ইলিয়াসকে। শাহরিয়ারের চার সাতটি, ছক্কা একটি। নিজের ইনিংসের ৪২তম বলে নাঈমকে ওই ছক্কাটি মেরেই ফিফটি পূর্ণ করেছেন বাঁহাতি ওপেনার।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লাল দলের কিছুটা হলেও সম্মানজনক স্কোরের কৃতিত্ব মাহমুদউল্লাহ আর একাডেমির ক্রিকেটার তানভীর হায়দারের। তবে ৬৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়াতেই হয়তো টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও বেশ সংযমী ছিলেন দুজন। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৪ রানের জুটি তাঁদের, একসঙ্গে থেকেছেন ৮ ওভার। ৩৫ বল খেলে দুটি বাউন্ডারিসহ অপরাজিত ৩০ রান মাহমুদউল্লাহর। শাহাদাতের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৮ বলে ২৬ করেছেন তানভীর। কোনো বাউন্ডারি না মারলেও অলক ও সোহরাওয়ার্দীকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন মিড উইকেট দিয়ে।
এর আগ পর্যন্ত দেশসেরা ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলই দেখেছে শেরেবাংলার দর্শক। শাহাদাতের করা ইনিংসের প্রথম বলেই ২ রান, পরের বলে পয়েন্ট দিয়ে দুর্দান্ত বাউন্ডারি দেখে মনে হয়েছিল তামিম বুঝি খুলছেন। কিন্তু ওই ওভারেরই পঞ্চম বলে ব্যক্তিগত ৬ রানের মাথায় ফ্লিক করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ হলেন নূর হোসেনের। এক ছক্কা আর তিন বাউন্ডারিতে ১৫ বলে ১৯ রান করে ইমরুল কায়েস কট বিহাইন্ড হয়েছেন নূর হোসেনের বলে। এরপর নাঈম, মুশফিক, নাসিররাও ব্যর্থ হলে মাহমুদউল্লাহ-তানভীরের ওই জুটিটাই হয়ে থাকল লাল দলের ইনিংসের হাইলাইটস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ লাল: ২০ ওভারে ১১৯/৬ (তামিম ৬, ইমরুল ১৯, নাঈম ১, মুশফিক ১০, মাহমুদউল্লাহ ৩০*, নাসির ৯, তানভীর ২৬, রাজ্জাক ১০*। বোলিং: শাহাদাত ৩-০-১২-২, রবিউল ৪-০-৩৪-০, আলাউদ্দিন বাবু ২-০-১৪-২, নূর হোসেন ২-০-১৫-১, সোহরাওয়ার্দী ৪-০-১৯-০, অলক ৩-০-১৩-১, নাজমুল অপু ২-০-৮-০)। বাংলাদেশ সবুজ: ১৬.৫ ওভারে ১২১/১ (শাহরিয়ার ৬১*, রকিবুল ২৩, মমিনুল ৩৫*। বোলিং: শফিউল ২-০-১৬-০, রুবেল ২-০-২১-০, রাজ্জাক ২.৫-০-১৪-১, নাজমুল ১-০-১৪-০, নাঈম ৩-০-২৩-০, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১৪-০, নাসির ৩-০-৮-০, ইলিয়াস ১-০-১১-০)।
ফল: বাংলাদেশ সবুজ ৯ উইকেটে জয়ী।

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে