Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.9/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-১৮-২০১৪

ভারতে পাচারের জন্যই বাংলাদেশে স্বর্ণ আসে

ভারতে পাচারের জন্যই বাংলাদেশে স্বর্ণ আসে

ঢাকা, ১৮ মে- ভারতে পাচারের জন্যই বাংলাদেশে স্বর্ণ আসে। দেশের অভ্যন্তরের যে চাহিদা তা মেটাতে স্বর্ণ পাচারের প্রয়োজন হয় না। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিমানবন্দরে যে পরিমাণ সোনা আটক করা হচ্ছে তার চাহিদা বাংলাদেশে নেই। একই মত বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ব্যবসায়ীদেরও।

জানা যায়, প্রতিবেশি দেশে চাহিদা থাকায় এক ধরনের অসাধু চক্র দেশে অবৈধ পথে স্বর্ণ এনে তা ভারতে পাচার করে দিচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত ভারতীয় পাচারকারীরাও।

বিমানবন্দর কাস্টমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে বিমানবন্দর থেকে ১২ কেজি, ২০১০ সালে ৯ কেজি, ২০১১ সালে ৪ কেজি, ২০১২ সালে ২৪ কেজি, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ কেজি স্বর্ণ আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশে আটককৃত ১২৪ কেজি, ১০৭ কেজি এবং ১০৫ কেজির স্বর্ণের তিনটি বড় চালান ছিলো।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিমানবন্দরে যে পরিমাণ সোনা আটক করা হচ্ছে তার চাহিদা বাংলাদেশে নেই। একই মত বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ব্যবসায়ীদেরও।

রিসাইকেলিং করে পাওয়া সোনা আর বিদেশে থেকে যাত্রীদের অবৈধভাবে আনা সোনাই দেশে জুয়েলারি ব্যবসার মূল উৎস। এর বাইরে ব্যবসায়ীরা কোনো স্বর্ণ আমদানি করেন না।

সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে গোলাম হোসেন বলেন, ভারতে স্বর্ণ আমদানির ওপর বিধি-নিষেধ জারি করায় একটি গ্রুপ ভারতে স্বর্ণ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে।

আগে ভারতে যেকোনো সংস্থা স্বর্ণ আমদানি করতে পারতো। তবে ২০১৩ সালে ঢালাওভাবে স্বর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ করে কয়েকটি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। গত বছরের আগস্টে স্বর্ণ আমদানির ওপর ছয় শতাংশ শুল্ক তিন দফায় বাড়িয়ে তা ১০ শতাংশ ধার্য করে দেশটির সরকার(সূত্র: ব্লুমবার্গ)।

এ হিসাবে, বাংলাদেশে ১০ গ্রাম স্বর্ণ আমদানির জন্য ১৫০ টাকা আর সমপরিমাণ স্বর্ণের জন্য ভারতে ৪ হাজার ২০০ টাকা শুল্ক গুনতে হয়।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য নিরাপদ মনে করেন। কারণ, বাংলাদেশের বিমানবন্দরে স্বর্ণের চালান আটক করলে আসামির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র কাস্টমস বিভাগ ব্যবস্থা নেয়।

তবে ভারতে অবৈধভাবে স্বর্ণ প্রবেশ করালে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর কাস্টমস বিভাগের পাশাপাশি সিবিআই (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন), দুর্নীতি দমন কমিশন ও আয়কর বিভাগ একযোগে ব্যবস্থা নেয়। শুধু স্বর্ণের চালান নয়, একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীর সব সম্পদ জব্দ করে নেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে ভারতে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ১০৫ কেজি স্বর্ণ আটকের পর এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, বিমানের ফ্লাইটে যেভাবে স্বর্ণগুলো রাখা হয়েছে, এতেই স্পষ্ট যে, এটি কোনো ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা করানো। কারণ, চেম্বার খুলে যাত্রীর পক্ষে স্বর্ণ রাখা সম্ভব নয়।

এপিবিএনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধের জন্য বিভিন্ন উড়োজাহাজের ৩৪ জন বিমানবালা, ২ জন কাস্টমস কর্মকর্তা, ৬ জন এয়ারলাইন্স কর্মকর্তা ও বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার ৭১ জনকে আটক করা হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে