Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (107 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-১৬-২০১৪

নকলা-নাকুগাঁও দুই লেন সড়কের জমি অধিগ্রহণ ফসলি জমিতে হঠাৎ করেই স্থাপনা

নকলা-নাকুগাঁও দুই লেন সড়কের জমি অধিগ্রহণ
ফসলি জমিতে হঠাৎ করেই স্থাপনা

শেরপুর, ১৬ মে- শেরপুরের নকলার সড়কের দুই পাশের উঁচু-নিচু এমনকি ফসলি জমিতে কাঁচা-পাকা ঘর তৈরির হিড়িক পড়েছে৷ এরই মধ্যে সড়কের পাশের জমির মালিকেরা নকলার ছত্রকোনা থেকে নালিতাবাড়ীর তালতলা বাজার পর্যন্ত ১২০টি কাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন৷
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী নাকুগাঁও স্থলবন্দর থেকে নকলা পৌর শহর পর্যন্ত সাড়ে ২৯ কিলোমিটার দুই লেন সড়কের জন্য এসব জমি অধিগ্রহণ করা হবে৷ আর জমি অধিগ্রহণের সময় বেশি ক্ষতিপূরণ পেতেই সড়কের পাশের ফসলি জমিতে স্থাপনা তৈরির হিড়িক পড়েছে৷ এরই মধ্যে নকলা থেকে ছত্রকোনা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে৷ শিগগিরই বািক জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে৷
প্রতি শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য নিচু ও ফসলি জমির জন্য ১২ হাজার টাকা, উঁচু জমির জন্য ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা, টিনের ঘরের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার, পাকা ঘরের জন্য ৮০ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ধরা হয়েছে৷ ওই দুই লেন সড়ক বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর৷ এরই মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া কয়েকজন জমির মালিক অভিযোগ করেন, দুই লেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় শতকরা পাঁচ টাকা অগ্রিম ঘুষ দিতে হয়েছে৷
নকলার ছত্রকোনা থেকে নালিতাবাড়ীর বাটকামারী পর্যন্ত সড়কের জমি এখনো পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা হয়নি৷ ক্ষতিপূরণ বেশি পাওয়ার আশায় গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সড়কের দুই পাশের ওই জমিতে অল্প খরচের ১২০টি কাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে৷ সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কঘেঁষে ভবন তোলার জন্য পিলার নির্মাণ করা হয়ছে৷ পিলারগুলোতে রডের সংখ্যা খুবই কম৷ বাটকামারি সেতুসংলগ্ন সড়কঘেঁষে পশ্চিম ও পূর্ব পাশে ৫০-৬০ ফুট লম্বা ভবন তোলার কাজ চলছে৷ এতেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ধানখেতের ওপর বেশ কয়েকটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে৷
ছত্রকোনা গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ‘বেশি টেহা পাওয়ার লাইগা অনেকেই সুধে টেহা আইন্না দিন-রাইত দেধারছে কোনরহম ঘর বানাইতাছে৷’ মো. হারুন অর রশিদ বলেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য যাঁরা ঘুষ দেন, তাঁরা টাকা বেশি পান৷ নয় শতাংশ জমি, একটা টিনের ঘর এবং গাছপালার জন্য তিনি এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পেয়েছেন৷ জমি খারিজ করার পর ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় তিনি অগ্রিম ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিয়েছেন৷ জুলফিকার আলী বলেন, ‘সরকার জমির যে দাম নির্ধারণ করছে, এর বাইরে যাওনের কোনো সুযোগ নেই৷ তাই ক্ষতিপূরণ বেশি পাওয়ার আশায় সবাই ঘর তোলতাছে৷ আমরাও তুলছি৷’
সওজের শেরপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শোয়েব আহম্মেদ বলেন, দুই লেন প্রকল্পের জন্য জমি নির্ধারণের সময় একটি জরিপ করা হয়েছে৷ এর ভিত্তিতেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে৷ যাঁরা বাড়তি টাকার আশায় দ্রুত ঘর নির্মাণ করে চলেছেন, তাঁদের বাড়তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা নয়৷
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, শিগগিরই ছত্রকোনা থেকে বাটকামারি পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা হবে৷ বাড়তি ক্ষতিপূরণের আশায় সড়কের দুই পাশে ঘর তৈরি করা হচ্ছে৷ এরই মধ্যে ঘর তুলতে নিষেধও করা হয়েছে৷ জায়গা নির্ধারণের সময় জমির ভিডিও করা হয়েছে৷ সেই ফুটেজ দেখেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে৷ জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

 

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে