Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (33 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৮-২০১২

বিএনপির মিছিলে গুলি, নিহত ৪

বিএনপির মিছিলে গুলি, নিহত ৪
ঢাকা, জানুয়ারি ২৯ - বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচিতে বাধার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় রোববার বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের গুলিতে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে চারজন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- চাঁদপুরের লিমন (২৫) ও আবুল হোসেন গাজী (৫৫) এবং লক্ষ্মীপুরের মো. রুবেল (২২) ও আবুল কাশেম (৫০)।

এদের মধ্যে লিমনের বাসা চাঁদপুর শহরের গোয়াখোলা এলাকায়। আর আবুল হোসেন গাজীর বাবুরহাট এলাকায়। তিনি পেশায় রিকশাচালক।

আর আবুল কাশেম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। জেলা বিএনপির দাবি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা রুবেলও যুবদল কর্মী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এক জনসভা থেকে ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

কিন্তু আওয়ামী লীগ একই দিনে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিলে রোববার সব ধরনের সভা সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাতেও। এছাড়া বগুড়া, হবিগঞ্জ, সিরাগঞ্জ ও পাবনাতে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলোর গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দেয় বিএনপি। তবে জেলায় জেলায় রোববারের কর্মসূচি বহাল থাকে। সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বগুড়াও তাদের গণমিছিল একদিন পিছিয়ে দেয়।

ঘোষণা অনুযায়ী সকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এসব ঘটনায় আহত হয় তিন শতাধিক।

সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নাটোর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গুলির ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক বিশ্বাস আফজাল হোসেন ও চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর আলম মিনাকে প্রধান করে দুটি কমিটি করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তাও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহা পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার।

গণমিছিলে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষের জন্য সরকারকে দায়ী করে প্রধান বিরোধী দল বলেছে, নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যই সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে ঢাকায় গণমিছিল করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

চাঁদপুর

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা বিএনপি সকাল সোয়া ১১টার দিকে জেলা কার্যালয় থেকে মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এর পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এক পর্যায়ে শহরের কালীবাড়ি, লেকেরপাড়, নতুনবাজার, চিত্রলেখা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করা হয়। শহরের লেকের পাড় এলাকায় পুলিশ গুলি চালালে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুন্নবি মাসুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনজনেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে লিমন ও আবুল হোসেন গাজী নামে দুজন মারা যান।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমীর জাফর সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেজিস্ট্রেট শামীমুল হক পাভেলের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছে।

মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পুরো শহরে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এদিকে মিছিলে বাধা ও দুই জন নিহত হওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে সোমবার আধাবেলা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি।

লক্ষ্মীপুর

সকাল ১১টার দিকে শহরের দক্ষিণ তেমোহিনীর রামগতি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াত মিছিল বের করে। মিছিল শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাতে বাধা দেয়। বাধা উপক্ষো করে মিছিলটি শহরের আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হাসপাতাল রোডের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘর্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা আদর্শ সামাদ সরকারি বিদ্যালয় ও আশপাশে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় পুলিশের উপরও হামলা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। লক্ষ্মীপুর-রামগতি গোটা সড়ক তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনজন আহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত হয় আরো প্রায় ২০ জন। এদের অনেককে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে ভর্তি করার পর রুবেল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কাশেমও মারা যান বলে সাংবাদিকদের জানান সদর থানার ওসি মো. সরওয়ার।

তিনি জানান, রবিউল আহসান (১৭) নামে গুলিবিদ্ধ আরেকজনকে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জমসেদ সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬৮ রাউন্ড শট গানের গুলি ও ২০ টি টিয়ার শেল ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছে।

তিনি জানান, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কর্মীদের হামলায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাসার, আব্দুর রহিম, মো. ইয়াকুবসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাটোর

পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধায় নাটোরে মিছিল করতে পারেনি জেলা বিএনপি। এসময় অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি।

জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, সাড়ে ১১টার দিকে শহরে মিছিল বের করার উদ্যোগ নিলে পুলিশ ও আওয়ামলী লীগের কর্মীরা বাধা দেয়। তারা শহরের ছায়াবাণি, মাদ্রাসা, হরিশপুর ও রসুলের মোড়ে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে জখম হয়েছেন বলে দাবি করেন রুহুল।

তিনি জানান, এরমধ্যে এরশাদ আলী (৪০) নামের এক কর্মীর পায়ের রগ কাটা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতা-কর্মীদের বহনকারী অন্তত ২৫টি মোটরযান ভাংচুর করে।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম এবং সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন হামলার কথা অস্বীকার করেন।

বাগেরহাট

সকালে পুলিশের বাধায় গণমিছিল করতে না পেরে নেতা-কর্মীরা বেলা ১১টার দিকে মুনিগঞ্জে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পথসভা করেছে জেলা বিএনপি’র একটি অংশ।

দুপুর ১২টার দিকে অপর একটি পক্ষ শহরের হাসপাতাল মোড়ে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এসময় পুলিশ শহরের হাড়িখালী বটতলা এলাকা থেকে বিএনপির ৬ নেতা-কর্মীকে আটক করে।

পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, অটককৃতরা হামলার পরিকল্পনা করছিল। তাদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ

গণমিছিলকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্র্ষে সাংবাদিক, পুলিশসহ আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপসহ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।

মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, পুলিশ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আমীরুজ্জামান ও হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন, ইব্রাহিম মোল্লা, জামান, সাদ্দাম, মঞ্জুর, নয়ন, মেরাজ, হাবিবুর, তানভীর, নফিক, শরীফ ও সোহেল নামে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৯ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।


মাদারীপুর

জেলা বিএনপি সকাল ১১টায় মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদ পারভেজ অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়েছে। আহত নাছিমা বেগম, কামাল হোসেন, রাজীব, আল-আমিনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, পুলিশ বাধা দিয়েছে মাত্র।

টাঙ্গাইল

পূর্ব নির্ধারিত মিছিলে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ হামলা চালালে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি।

জেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ আযম খান জানান, পুলিশের ছত্রছায়ায় গণমিছিলে আসার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।

আহতদের মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল আজিজ চাঁন খা, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস ও নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাককে স্থানীয় সেবা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে হামলার কথা অস্বীকার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

বান্দরবান

জেলা বিএনপি সকালে মিছিল বের করলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে বিএনপি মিছিল বের করলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সমানে পুলিশ বাধা দেয় ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এসময় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকান-পাট ক্ষণিকের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরে আওয়ামী লীগও মিছিল বের করে এবং জেলা কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বিএনপি ও চারদলীয় জোটের গণমিছিলে পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি এড. হারুন আল রশীদ বলেন, নেতাকর্মীরা সকালে রেল গেইট জেলা কার্যালয়ের সামনে মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয় বলে জানান হারুন আল রশীদ।

সদর থানার ওসি আব্দুর রব জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসময় তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এছাড়া নেত্রকোনা ও পটুয়াখালীতেও পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।


জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে