Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯ , ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (52 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৮-২০১২

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। ৯ জানুয়ারি বিএনপি চট্টগ্রাম থেকে আজ গণমিছিলের কর্মসূচির ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পাল্টা জনসভার ঘোষণা দেয়। বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নাশকতার আশংকা করে আসছিল। আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় সংঘাত প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। রাজনীতি হয়ে ওঠে আরও উত্তপ্ত। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন। পরে রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুলিশ। একই ধরনের পরিস্থিতির আশংকায় চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জেও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। রাজশাহীতে ৬৬ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ নিষেধাক্কা প্রত্যাহার করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দেয়ার দাবি জানিয়ে সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটি শনিবার বিকালে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে গণমিছিল কর্মসূচি রোববারের পরিবর্তে সোমবার পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা করেন, সরকার যদি ফের পাল্টা কর্মসূচি দেয় তাহলে বৃহস্পতিবার হরতালের ডাক দেয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেয়া সরকারি দলের ঠিক হয়নি। তাদের মতে, এতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শুধু উত্তপ্ত হবে। দেশ একটা সংঘাতের দিকে এগোবে। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে পাল্টা কর্মসূচি দেয় আওয়ামী লীগ। বিএনপির আজকের গণমিছিল কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ তড়িঘড়ি করে জনসভা আহ্বান করে। যাতে পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করার সুযোগ পায়। অন্য একটি সূত্র জানায়, গণমিছিলকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার আশঙ্কা থেকেই সরকারের নীতিনির্ধারকরা এমন কৌশল গ্রহণ করেন। তার আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, বিএনপি গণমিছিল কর্মসূচির নামে ঢাকায় নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে। এ তথ্য জেনে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে কোনোরকম ছাড় না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা যুগান্তরকে বলেন, তাদের তড়িঘড়ি বর্ধিত সভা আহ্বান করতে বলা হয়। সভা শুরুর আগে নির্দেশ দেয়া হয়, একই দিন জনসভা আহ্বানের। ওই নেতা জানান, তারা ভেবে পাচ্ছিলেন না বিরোধী দলের এত বড় কর্মসূচির দিন তাদের কর্মসূচি কীভাবে সফল হবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপ করলে তাকে ওই নেতা কোন কিছু পরিষ্কার না করে বলেন, জনসভা সফল করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে বিরোধী দলের আজকের গণমিছিল নিয়ে সরকারি দলের নেতারা বরাবরই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছেন। শুক্রবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, তারা বিরোধী দলকে আও ছাড় দেবেন না। তিনি জানান, বিরোধী দলের ধ্বংসাÍক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির গণমিছিলে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৪ দলের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এ বৈঠকে বিরোধী দলের নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড, সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা গতরাতে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকের মাধ্যমে ১৪ দলকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তাদের উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে মোকাবেলায় আগের মতো রাজপথে ১৪ দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
সূত্র জানিয়েছে, বিরোধী দলকে মোকাবেলায় ডিসিসির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের রাজপথে থাকতে বলা হয়েছে। প্রচারণাকে কৌশল হিসেবে নিয়ে ঢাকার মাঠ গরম রাখতে বলা হয়েছে তাদের। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার।
এদিকে আওয়ামী লীগও শনিবার রাতে তাদের জনসভার কর্মসূচি স্থগিত করেছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দু’দল কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও মিছিল সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এর আগে শনিবার দুপুরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশংকায় ঢাকা মহানগরীতে মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সে অর্পিত ক্ষমতাবলে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। রোববার দেশের বৃহৎ দুটি দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সহিংস ঘটনা মোকাবেলায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আজ রাজধানীতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
ডিএমপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোববার ঢাকায় বিএনপির গণমিছিলের কর্মসূচি রয়েছে। ওই মিছিলে চারদলীয় শরিক জোট ও সমমনা ১৬ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবে বলে জানা গেছে।
একই দিন বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ জনসভার ডাক দিয়েছে। পরস্পরবিরোধী দুটি দল পাল্টাপাল্টি গণমিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি আহ্বান করায় অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আশংকা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়াতে ও শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের (অর্ডিন্যান্স নং-ওওও/৭৬) ২৮ ও ২৯ ধারায় রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সকল প্রকার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, গণ-অবস্থান, সভা-সমাবেশ, মিছিল, সকল প্রকার ছড়ি বা লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোন ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল করা যাবে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সূত্রগুলো বলেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে আজ রাজধানীতে র‌্যাব ও পুলিশের প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। দেশের বৃহৎ দুটি দল মুখোমুখি সংঘর্ষে যাতে জড়াতে না পারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এজন্য নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
৯ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামের সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২৯ জানুয়ারি এই গণমিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করেন। রোববার বেলা আড়াইটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ গণমিছিল শুরু হয়ে শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামোটরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ যুগান্তরকে বলেছেন, দুটি দল একই দিনে কর্মসূচি দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে