Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (39 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-১৩-২০১৪

নীলফামারীতে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ শুরু

নীলফামারীতে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ শুরু

নীলফামারী, ১৩ মে- চলতি বোরো মৌসুম থেকে নীলফামারী জেলায় জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ শুরু হয়েছে। চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে জেলার ৫০ কৃষক প্রদর্শণী প্লট করে যাত্রা শুরু করেছেন জিংক সমৃদ্ধ জাতটির।

প্রদর্শণী প্লটের চাষ পদ্ধতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণের জন্য সোমবার দুপুরে নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নিত্যানন্দী গ্রামে মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মছিরত আলী শাহ ফকিরের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আরডিআরএস বাংলাদেশ নীলফামারী জেলার কর্মসূচি সমন্বয়কারী রাশেদুল আরেফিন এবং কৃষি ও পরিবেশ সমন্বয়কারী মামুনুর রশিদ মাঠ দিবসের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন।

আলোচনা সভায় হারভেস্ট প্লাস চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামের পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’র মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ৪০ ভাগ শিশু যাদের বয়স ৫ বছরের নিচে তারা অপুষ্টিতে ভুগছে এবং তাদের মধ্যে ৪৪ ভাগ আবার জিংক স্বল্পতায় ভুগছে।

এছাড়া প্রায় ৬০ ভাগ মহিলা জিংক স্বল্পতাজনিত রোগে ভুগছে। যেহেতু ধান আমাদের প্রধান খাদ্য, তাই জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ এবং এর ভাত খেয়ে সহজে জিংক’র ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হারভেস্ট প্লাস চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. খায়রুল বাশার জানান, আগামী আমন মৌসুমে সারাদেশে ১০ হাজারের বেশি জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৬২ এর প্রদর্শণী প্লট স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে স্বল্পসময়ে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারিত হবে।

এ বিষয়ে হারভেস্টপ্লাস চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রাম ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং এর আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন নতুন জিংক সমৃদ্ধ ধান উদ্ভাবনে কাজ করছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী জেলায় খাদ্য উৎপাদনে একটি উদ্বৃত্ত জেলা, কিন্তু এখানে অনেক শিশু ও গর্ভবতী মা পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এই জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষের মাধ্যমে জেলায় খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেরামত আলী, টুপামারী সমাজকল্যান ফেডারেশন সভাপতি আরতি রানী রায়, ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ভবানী মোহন রায়, আরডিআরএস’র সহকারী  সমন্বয়কারী (কৃষি) নুহেরা বেগম ও সিনিয়র কৃষি অফিসার নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

আরডিআরএস নীলফামারী সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, কার্যক্রমের আওতায় আরডিআরএস বোরো মৌসুমে নীলফামারী সদর ও জলঢাকা উপজেলার ৫০ জন কৃষকের জমিতে জিংক সমৃদ্ধ ধানের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয় চাষাবাদের জন্য।

মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় কিষাণী মিনা রানী রায় জানান, ধানের ফলন ভালো এবং উপকার বেশি হওয়ার কারণে প্রদর্শণী প্লট দেখে স্থানীয়রা উদ্বুদ্ধ হয়ে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষাবাদে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

তিনি জানান, তার ৪৫ শতাংশ জমিতে প্রদর্শনী প্লটের ধান কর্তন করে সেগুলো বীজ হিসেবে ব্যাপক আকারে চাষাবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে