Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-১২-২০১৪

নূর হোসেনের বেতনভুক্ত কিলারের সংখ্যাই শতাধিক

নূর হোসেনের বেতনভুক্ত কিলারের সংখ্যাই শতাধিক

ঢাকা, ১২ মে- নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় জড়িতরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা সবাই এলাকাছাড়া। কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেনের শতাধিক কিলার রয়েছে। তারা নূর হোসেনের বেতনভুক্ত। ৭ জনের লাশ উদ্ধারের পর থেকে তারা এলাকা থেকে পালিয়েছে। এর আগ পর্যন্ত এসকল কিলার এলাকায় ঘোরাফেরা করেছে বলে স্বজনহারাদের দাবি। এক পুলিশ কর্মকর্তাও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এদিকে, নজরুলসহ ৭ জনের লাশ দুই কিলার সেলিম ও সালাহউদ্দিনের বন্দর উপজেলার বাড়ির অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হয়েছে বলে নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

৭ হত্যা মামলার বাদি নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, নূর হোসেনের বাহিনীতে শতাধিক কিলার রয়েছে। তাদের কাজই ছিল হত্যা করা। কিলাররা ৭ জনকে অপহরণ করে লাশ গুম করা পর্যন্ত এলাকায় ছিল। যেদিন লাশ উদ্ধার হয়েছে সেইদিন থেকে তারা এলাকা ছাড়া। ৭টি হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। একজন কিলারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কিলার সেলিম ও সালাহউদ্দিন সবচেয়ে ভয়ংকর। তারা হাসতে হাসতে মানুষকে খুন করে। নজরুলসহ ৭ জনকে অপহরণ থেকে হত্যা এবং লাশ গুম করা পর্যন্ত খুনিদের মধ্যে সেলিম ও সালাহউদ্দিন সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এ দুই খুনির তথ্যানুযায়ী ৭টি লাশ শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বর নদীর সংযোগ স্থলে ইট বেঁধে ফেলা হয়। লাশ ফেলার ডাম্পিং পয়েন্ট সম্পর্কে এ দুই খুনি ভাল জানে। তারা একটি বিশেষ বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করে বলে তারা জানান।

নিহত স্বপনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খান গতকাল রবিবার বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। নিজ সন্তানকে হত্যা করবে এজন্য তো আমি মুক্তিযুদ্ধ করিনি। স্বপন ইপিজেড এলাকায় ঝুট কাপড় কেনাবেচার ব্যবসা করত। এই এলাকায় নজরুলের ব্যবসা তার পুত্র দেখাশুনা করতো। নূর হোসেনের শতাধিক পেশাদার কিলার আছে। কিলার সেলিম মানুষ হত্যা করে প্রকাশ্যে মস্তক দিয়ে বল খেলেছে। কিলার আবুল বাসার নূর হোসেনের ক্যাশিয়ার। চিটাগাং রোডে পরিবহনের চাঁদা তুলতো। সানাউল্লা সানু মাদক ব্যবসার ক্যাশিয়ার। আরিফুল হক হাসানও চাঁদা আদায়ের ক্যাশিয়ার।

একই এলাকায় স্বপনের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর আলমের বাসা। তার বাসায় গিয়ে তার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী সামসুন নাহার নূপুরের (২৩) সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ২৭ এপ্রিল সকালে ঘটনার দিন নাস্তা না খেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন। এর আগে জাহাঙ্গীর মা মেহেরুন নেছাকে বলে, মা আমাকে ১০ টাকা দাও। মায়ের ব্যাগ খুঁজে ৫ টাকা পেয়েছে জাহাঙ্গীর। নাস্তা না খেয়ে ওই ৫ টাকা পকেটে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে জাহাঙ্গীর স্ত্রীকে জানায় যে, স্বপন ভাইয়ের গাড়ি চালালে জীবন হারাতে হবে বলে হুমকি আসে। জাহাঙ্গীর ১লা মে বেতন পাওয়ার পর আর স্বপনের গাড়ি চালাবে না বলে স্ত্রী নূপুরকে বলেছিল। মাত্র ৩ দিন বাকি থাকতে ২৭ এপ্রিল সাতজনের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার হয়। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় জাহাঙ্গীর মা পুত্রের ছবি বুকে নিয়ে অঝোরে কাঁদতে ছিলেন। নূপুর জানান, ১০ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। স্বামীর আয়ের উপর সংসার চলে। ঘটনার দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। দলীয়ভাবে কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের আর্থিক সহযোগিতা পাননি বলে তিনি জানান।

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে