Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ , ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৭-২০১২

নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ: লাভ হলো কার?লিখেছেন: ভাষ্যকার(ব্লগ নেম) -অন্তরনামা ব্লগ

নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ: লাভ হলো কার?লিখেছেন: ভাষ্যকার(ব্লগ নেম) -অন্তরনামা ব্লগ
মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে সংলাপ সাফল্যজনকভাবে শেষ করেছেন তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি সুখকর সংবাদ। এই সংলাপের সাফল্য- ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মনে হতে পারে এই সংলাপ ব্যর্থ অথবা সফল ফলাফলের দিক দিয়ে কিন্তু একটি ব্যাপারে সাফল্য এসেছে যে পরস্পর বিবদমান দুই রাজনৈতিক দল একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এসেছিলো। আওয়ামীলীগ আসবেই তা জানা কথা ছিলো কারণ তারাই এখন রুলিং পার্টি এবং তাদের দলীয় মনোনিত লোক রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন। অনেক জল্পনা ছিলো বিএনপিকে নিয়ে। অনেকেই ধারণা করছিল বিএনপি আসবেনা কিন্তু তারা এসেছে শক্তিশালী একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে এবং যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া।

এটা ঠিক যে বেশ কিছুদিন ধরে রাজনীতিতে একটি জোর কথা ছিলো, বিএনপির বর্তমান রাজনীতির হলো জিয়া পরিবার এবং জামায়াতের প্রধান নেতাদের বাঁচাবার প্রয়াস। রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশগ্রহণ করে তারা এই নেতিবাচক ধারা থেকে কিছুটা সরে আসতে পেরেছে। সে সংলাপে তারা যদি পূর্বের ন্যায় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অংশগ্রহণ না করতো সত্যিকারভাবেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটা পর্যায়ে এসে থমকে দাড়াতো। ধন্যবাদ বিএনপিকে তারা এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সম্মান এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক পদকে সম্মান জানিয়েছে।

সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপি বরাবরের মতোই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পূনপ্রবর্তনের দাবি জানিয়েছে। এই দাবি জানানোর ব্যাপারটি খুব স্বাভাবিক ছিলো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানতো মূল আলোচনার বাইরে গিয়ে তাদের আলোচনার ক্ষেত্র এটাই থাকবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছাড়াও নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর বিরধিতা ছাড়াও দলীয় নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়ন নিয়েও তারা কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ধৈর্য সহকারে তাদের কথাগুলো শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সে বার্তা পৌছে দেবেন বলে জানিয়েছেন। সংলাপ শেষে বিএনপি’র প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে যা একইভাবে জানানো হয়েছে। বিএনপির রাষ্ট্রপতি বৈঠকের পরে আওয়ামীলীগ এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আওয়ামীলীগ দলীয় এই প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক অর্থে আমি দেখিনা। এটা ঠিক সংলাপের বাইরে বিএনপি বেশিরভাগই কথা বলেছে। এটা তারা বলতেই পারে। যেহেতু তারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে আসীন লোকের সাথে কথা বলছে তাই তাদের দাবি-দাওয়া জানানো দোষের কিছু না। আওয়ামীলীগের এই প্রতিক্রিয়া যদি হয় নীতি নির্ধারনের আলোকে তাহলে বুঝতে হবে তারা কোন সুষ্ঠু সমাধান দিতে আগ্রহী না।

বিএনপি যদি আলোচনায় না আসতো তাহলে দেশে সত্যিকার অর্থেই একটা প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দেখা দিতো। সাধারণ চোখে মনে হতে পারে এই আলোচনার কোন ফলাফল নাই কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী লোক যখন কোন আলোচনা এবং সংলাপ ডাকেন তখন এমনিতেই এর তাৎপর্য বেড়ে যায়। বিএনপি দেশকে এই সংকটের মুখে ফেলে দেয়নি এটা অনেক বড় অর্জন।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য ভালো একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এবং তা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। সংলাপ ডাকার আগে বিএনপি সহ অনেকেই বলেছে এই সংলাপ রাষ্ট্রপতি না ডেকে প্রধানমন্ত্রী ডাকলেই ভালো হতো। আবার সংলাপ শেষে বিএনপি বলেছে এই সংলাপ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ডেকেছেন তাহলে তাদের কথানুযায়ী বলা যায় প্রধানমন্ত্রী সবার মতামত নিতে চেয়েছেন বলে এই সংলাপ হয়েছে। যদি প্রধানমন্ত্রী এই সংলাপ নিজে ডাকতেন তাহলে কি হতো? নিশ্চিতভাবেই বলা যায় বিএনপি তাতে অংশগ্রহণ করতো না। এতে করে সংলাপের আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির অজুহাত আসতো। এবং কোন প্রকার মতামতই আসতো না। এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। এজন্য আলোচনার অংশ নেবার জন্য বিএনপিকে সাধুবাদ জানাবার পাশাপাশি একটা ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পেতেই পারেন।

সংলাপ শেষ হয়েছে সফলভাবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির জয় হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এখন দেখা যায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠন হয়। সারা দেশের মানুষ সেদিকেই তাকিয়ে আছে।

খালেদা-জিল্লুর

লেখকঃ আইনজীবি।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে