Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (33 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-০৮-২০১৪

সারিয়াকান্দিতে বাঁধে আশ্রিতদের উচ্ছেদের নোটিশ যমুনার ভাঙনে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে আতঙ্ক

সারিয়াকান্দিতে বাঁধে আশ্রিতদের উচ্ছেদের নোটিশ যমুনার ভাঙনে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে আতঙ্ক

বগুড়া, ৮ মে- 'বান্দের উপর কি হামরা শখ করে আছি। অদের মধ্যে গরমে বান্দের উপর বাস করা খুবই কষ্ঠের, কিন্তু কি আর করমু। অন্য কোন উপায় থাকলো হিনি তাইলে আগেই জমি কিনে বাড়ি করলেম হিনি। সরকারের লোকেরা আংগেরে বাড়ি ঘর ভাঙগে দিবের চাচ্ছে। শুক্রবারের মধ্যে যুদি হামরা ঘর না ভাংগি তাইলে সরকারের লোকেরা পুলিশ এনে ঘর দুয়ের ভাংগে দিবি। এখন তোমরাই কও দেখি বাবা, হামরা এখন কুনটি যামু।'
সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে এক নাগারে কথাগুলো বললেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় নবনির্মিত বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত বৃদ্ধা বিধবা সোনাভান ওরফে ফুরকুনি (৭০)। কথাগুলো তার একার নয় ওই বাঁধে আশ্রিত সহাস্রাধিক পরিবারের সকলের মুখে একই কথা। রাক্ষুসী যমুনা নদীর ভাঙনে কয়েক দফা ঘরবাড়ি হারিয়ে সহাস্রাধিক পরিবার কুতুবপুর ইউনিয়নের নিজকর্ণীবাড়ির নিকট পুরাতন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বসবাস করত। কিন্তু ভাঙন কবলিত নদীর তীরে বসবাসরত সেসব মানুষের এক সময় ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে যাওয়ার আতংকে চোখে ঘুম আসতো না। যমুনার অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ায় ওই পরিত্যক্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হতে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে নতুন বাঁধে বসতি গড়েও উচ্ছেদ আতংকে তাদের চোখে ঘুম নেই। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সারিয়াকান্দি পওর উপ-বিভাগ নতুন বাঁধে আশ্রিত মানুষ তাদের ঘরবাড়ি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সরিয়ে নিতে নোটিশ জারি করেছে। নোটিশ হাতে পাওয়ার পর হতেই সেখানে আশ্রয় নেয়া সহাস্রাধিক পরিবার উচ্ছেদ আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। জানা গেছে, ২০১২-২০১৩ ও ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় উপজেলার কুতুবপুর হতে রৌহদহ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭শ' মিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বাঁধটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরেই পুরাতন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় সেখানে বসবাসরত গৃহহীন পরিবারগুলো নবনির্মিত বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। যমুনার ভাঙনে একের পর এক বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর নতুন আরেকটি বাঁধে বসতি স্থাপন করেন তারা। তাদের কোন উপায় না থাকায় বাঁধকেই তারা আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা হিসাবে বেছে নেয়। যুগযুগ ধরে এভাবেই বসবাস করে আসেছে বহু ভূমিহীন, গৃহহীন লোকজনেরা। নদী ভাঙা এসব অধিকাংশ মানুষের দিনমজুরি একমাত্র পেশা। বাঁধে আশ্রিতরা সব সময় মানবেতর জীবন যাপন করে। অভাবের কারণে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চান না। আবার স্কুলে আসলেও পরণের ময়লা জামা কাপড় দেখে সহজেই অনুমান করা যায় কি অভাব অযত্নে তারা বেড়ে উঠে। গত বছর বন্যায় যমুনার ভাঙনে কুতুবপুর ইউনিয়নের নিজকর্ণী বাড়ির বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পশ্চিম পাশ দিয়ে বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। মাস তিনেক আগে সেখানে ওই সব ছিন্নমূল বাঁধবাসী নতুন করে ওই বাঁধে অনেকেই পঞ্চম কিংবা সপ্তম বারের মত বাঁধে ঘর-দরজা তোলার উদ্যোগ নেয়। বাঁধে আশ্রিতরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রথমে বাঁধে ঘর উঠাতে দিতে না চাইলেও পরে প্রতি হাত জায়গার জন্য এক শত টাকা থেকে দেড়শ' টাকা চাঁদা দিয়ে ঘর উঠানো হয়। একেকটি বসতবাড়ির জন্য ওই হারে চাঁদা প্রদান করতে গিয়ে একেক জনকে ৭-৮ হাজার টাকা চাঁদা প্রদান করতে হয় প্রভাবশালীদের। এরপর বাঁধে এক এক করে সহাস্রাধিক পরিবার ঘর তুলে মাথা গোঁজার আশ্রয় খুঁজে পায়। কিন্তু ঘর তোলার পরপরেই বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। এরই মধ্য সেখানে বসবাসরত পরিবারের বসতঘর উচ্ছেদের জন্য তোলপাড় শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আগামী শুক্রবারের মধ্য স্ব-উদ্যোগে বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের দু'দফা জরুরি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এব্যাপরে বাঁধে আশ্রিত কাশেম প্রামানিক, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খলিল জানান, সরকার আমাদের ঘর উঠে দিয়ে এ জায়গায় গাছের বাগান করতে চাইছে। এর আগেও বাঁধে অনেক বাগান করা হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীরা গাছ কেটে নিয়ে গেলেও সে দিকে কারোর কেন ভ্রক্ষেপ নেই।
আমাদের বাঁধের ধারে আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। উচ্ছেদের নোটিশ পেয়ে আমাদের এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। আমরা জান দেব তবুও বাঁধ ছাড়ব না। বাপাউবো সারিয়াকান্দির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশল মো ঃ আরিফুল ইসলাম জানান, বাঁধটি এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। এছাড়াও বন বিভাগের বনায়ন কর্মসূচি, বর্ষা মৌসুমে বাঁধের নিরাপত্তা ও বাঁধের স্থায়িত্ব সব মিলিয়ে এলাকার সার্থে আশ্রিতদের উচ্ছেদ করাটাই জরুরি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান খানের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাঁধে আশ্রয় নেয়া নদী ভাঙা মানুষদের উচ্ছেদ করলে তারা যাবে কোথায়। আগে তাদের যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সংসদ সদস্য যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেভাবে কাজ করা হবে। তার সাথে কথা না বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কিছুই করা হবে না।

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে