Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৭-২০১২

ভারতের জটিল শর্ত : সড়কের চার, রেলের তিন প্রকল্প বাদ

পার্থ সারথি দাস


ভারতের জটিল শর্ত : সড়কের চার, রেলের তিন প্রকল্প বাদ
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী ট্রানজিট উপযোগী অবকাঠামো তৈরির জন্য সড়ক খাতে নেওয়া সব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এ ছাড়া রেলওয়ের জন্য নেওয়া তিনটি প্রকল্পও বাদ পড়তে যাচ্ছে। ভারতীয় ১০০ কোটি ডলার ঋণের জটিল শর্তের কারণে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ভারতীয় ঋণের আওতায় নেওয়া সড়কে অবকাঠামো নির্মাণের চারটি প্রকল্প বাদ দিয়ে যন্ত্রপাতি কেনার দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সওজ। আর রেলের তিন প্রকল্পের মধ্যে দুটি চীনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব তৈরি করেছে রেলওয়ে।
সওজের চার প্রকল্প প্রায় দুই বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও সওজে দফায় দফায় বৈঠকের পর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং শেষ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় পক্ষের সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছিল মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় সওজ প্রকল্প পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি সওজের প্রধান প্রকৌশলী যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের সচিব বরাবর এ প্রস্তাব পাঠান। ওই প্রস্তাবপত্রে সওজ ঋণ চুক্তির জটিলতার কারণে ভারতীয় ঋণের আওতায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে মত দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই ঋণের শর্তের কারণে গ্রহণ করা চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে এসব প্রকল্পের পরিবর্তে সওজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা যায়। এ বিষয়ে সওজের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, 'যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছ থেকেও আমরা মতামতের অপেক্ষা করছি।' ভারতীয় ১০০ কোটি ডলার ঋণের চুক্তি হয় ২০১০ সালের ৭ আগস্ট। ওই চুক্তি সই হয় ভারতের এঙ্মি ব্যাংক ও বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারতীয় ঋণের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর ৮৫ শতাংশ পণ্য কিনতে হবে ভারত থেকে। ভারতীয় সরবরাহকারীরাই এসব পণ্য সরবরাহ করবেন। তবে সরবরাহকারী প্রয়োজন মনে করলে ১৫ শতাংশ পণ্য যেকোনো দেশ থেকে কিনতে পারবেন। দরপত্র আহ্বান ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ভারতে নিবন্ধিত ও কমপক্ষে ভারতের ৫১ শতাংশ মালিকানাধীন কম্পানি দরপত্রে অংশ নেবে। দরপত্র আহ্বানকারীরা নিজস্ব পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে সরবরাহকারীর (ঠিকাদার) সঙ্গে চুক্তি করবে। তবে ওই চুক্তির অনুলিপি ভারতের এঙ্মি ব্যাংকে পাঠাতে হবে। প্রকল্প গ্রহণের পর তা অবহিত করতে হবে ভারতীয় হাইকমিশনকে।
সওজের কর্মকর্তারা জানান, এসব শর্ত মেনে ঋণ চুক্তি করা হলেও প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ শর্তগুলোই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য মাটি, ইট ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন সামগ্রীর সংগ্রহ স্থান সম্পর্কে চুক্তিতে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। 'সওজের প্রস্তাবপত্রে সড়ক খাতে নেওয়া নির্মাণ প্রকল্পগুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবসম্মত নয়'_এ মন্তব্য করে চারটি প্রকল্প অন্য কোনো দাতা সংস্থার অর্থে বা সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ চারটি প্রকল্পের পরিবর্তে সড়ক-মহাসড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সওজের অধীন সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্যে সড়ক-মহাসড়কের প্রয়োজনীয় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ট্রাক, মোবাইল এসফল্ট প্লান্ট, রোলার নেই উল্লেখ করে এ ধরনের যন্ত্রপাতি কেনার প্রস্তাব করা হয়। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয় দুটো প্রকল্পের।
যে চার প্রকল্প বাদ দেওয়ার প্রস্তাব : যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণের আওতায় যোগাযোগ খাতে ১৮টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসবের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় প্রকল্প নেওয়া হয় চারটি। এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড়-সাবরুম স্থলবন্দর সংযোগ সড়ক। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি। ব্যয় ধরা হয় ২০৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ইশতেহারে ভারতের সাবরুমের সঙ্গে বাংলাদেশের-রামগড় স্থলবন্দর সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। এ স্থলবন্দর সক্রিয় করতে হলে যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ অবকাঠামো গড়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ইশতেহারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সামনে রেখে সরাইল-বি.বাড়িয়া-সুলতানপুর-চিনাইর-আখাউড়া-সেনারবাদি স্থলবন্দর সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার জন্য ২৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। একনেকে এটি অনুমোদন হয় ২০১০ সালের ১২ আগস্ট।
ট্রানজিটের অবকাঠামো তৈরির জন্য লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৮ মার্চ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫৫৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া রাজধানীর জুরাইন রেলক্রসিংয়ে একটি ওভারপাস নির্মাণের জন্য ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। এটি একনেকে অনুমোদন হয়েছিল ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। সওজের প্রস্তাবে এ চারটি প্রকল্পই ভারতীয় ঋণের আওতায় বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে মত দেওয়া হয়েছে।
রেলের তিনটি : ভারতীয় ১০০ কোটি ডলার ঋণের আওতায় রেলের প্রকল্প আছে ১২টি। মিটারগেজ লাইনে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর জন্য পৃথকভাবে নেওয়া ১৫০টি ও ২৬৪টি যাত্রীবাহী কোচ এবং ১০ সেট ডিইএমইউ ক্রয় প্রকল্পে পরপর দুইবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তার পরও ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। এ তিনটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী, ভারতীয় ঋণের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর ৮৫ শতাংশ পণ্য কিনতে হবে ভারত থেকে। ভারতের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষই যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভ তৈরি করে থাকে। রাইটস ইন্ডিয়া নামের প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় রেলওয়ের প্রতিনিধি হিসেবে দরপত্রে অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠান দরপত্রে সাড়া দেয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ে এ অবস্থায় পৃথকভাবে নেওয়া ১৫০টি ও ২৬৪টি যাত্রীবাহী কোচ ভারতীয় কম্পানি থেকে সংগ্রহ না করে চীনের কোনো কম্পানি থেকে সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রেলওয়ে এ প্রস্তাবনা তৈরি করে। রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, এ তিনটি প্রকল্প ভারতীয় ঋণের আওতায় বাস্তবায়ন নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই অফিসিয়ালি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে