Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯ , ১০ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৬-২০১২

‘খায় দায় নজিরুদ্দি মোটা হয় জব্বার’: সুরঞ্জিত

‘খায় দায় নজিরুদ্দি মোটা হয় জব্বার’: সুরঞ্জিত
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি: রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘‘রেলওয়ের জমিতে ৫ তারা হোটেল রেডিসন, আর মালিক সেনাবাহিনী। মেট্রো রেল নির্মাণের দায়িত্ব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আর পরিচালনা করতে হবে রেল মন্ত্রণালয়কে। আসলে দেশে এমনই এক অবস্থা যে ‘‘খায় দায় নজিরুদ্দি আর মোটা হয় জব্বার। ’’
 
তিনি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় ‘ব্যবসা সম্প্রসারণে রেলওয়ে সম্ভাবনার পুনরুজ্জীবন’’ শীর্ষক ঢাকা চেম্বারের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
 
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্টান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়েল সচিব ফজলে কবির। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এম. রহমাতুল্লাহ।
 
বক্তব্য রাখেন রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক আতিক হোসেন খান, প্রফেসর এ.কে.এম. সাইফুর রশীদ, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এম. শাহজাহান, ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আফতাবুল ইসলাম, প্রফেসর এম. শামিম জেড বসুনিয়া, ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান, সৈয়দা মুনা তাসনিম প্রমুখ।
 
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “আমি আইন-বিচার ও সংসদের লোক হিসেবে রেলমন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেয়ার পর কিছুটা ইতস্তত বোধ করেছিলাম। তবে ধীরে ধীরে এ মন্ত্রণালয়েল বিশালতা বুঝতে পারছি। বাংলাদেশে এখন কোনো জমিদারি ব্যবস্থা না থাকলেও রেলওয়ের জমিদারি এখনো রয়েছে। তবে সে জমিতে অনেকে আবেগে স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা স্থাপন  করেছেন।”
 
তিনি ঢাকায় অবস্থিত হোটেল রেডিসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এটা তৈরি করা হয়েছে রেলওয়ের জমিতে আর তার মালিক সেনাবাহিনী। এ যেন ‘খায় দায় নজিরুদ্দি আর মোটা হয় জববার’।”
 
তিনি বলেন, “রেল মন্ত্রণালয় পৃথক হওয়ার পরেও মেট্রো রেল নির্মাণের কাজ দেয়া হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে আর পরিচালনা করা হবে নাকি রেল মন্ত্রণালয়কে। নির্মাণে কমিশন খাবেন আপনারা আর তার দয়িত্ব নিতে হবে আমাকে। অন্ধ পাত্রী দিবেন আর তাই চালাতে হবে আমাকে? এখানেও তিনি বলেন, ‘‘খায় দায় নজিরুদ্দি আর মোটা হয় জব্বার’’।
 
রেল মন্ত্রালয়কে যোগাযোগ মন্ত্রালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্য এটা ছিল সবচেয়ে বিভ্রান্তিমূলক ও আত্মঘাতী সিদ্ধাদ্ধ। যা আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছে।”
 
তিনি বলেন, “রেলব্যবস্থার উন্নয়ন বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য। যা রাষ্ট্র পরিচালনায়, আর্থসামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত।”
 
তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে টিকিটিং ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনা হবে বলে জানান।
 
তিনি বলেন, “গত ২০ বছর রেলের কোনো ভাড়া বাড়ে নি। অথচ দেশে সবকিছুর মূল্য বেড়েছে। ভাড়া না বাড়ায় টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে।  এ অবস্থার পরিবর্তন আনা হবে।”
 
ফজলে কবির বলেন, রেলওয়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬ হাজার ছয়শত কোটি টাকার ৩৪ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আটটি নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। এতে দেশে বর্তমানে ২৮০টি ট্রেন চলাচল করছে।
 
তিনি বলেন, রেলওয়ে’তে জনবল সঙ্কট চরম পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থারর উত্তরণে সাত হাজার ২৭৫টি শূন্য পদে নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে ১৩৫টি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
 
আসিফ ইব্রাহিম বলেন, “বর্তমানে ঢাকা নগরির তীব্র যানজট ক্রমাগত কর্মঘণ্টা হ্রাস করেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে রেলের বিকল্প নেই।”

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে