Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৬-২০১২

আরেকটি ১/১১ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদল চাই

আরেকটি ১/১১ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদল চাই
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, তিনি দেশে আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন চান না। গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে তিনি এটা প্রত্যাশাও করেন না। তিনি চান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদল। তবে এ কথা সত্য যে, দেশে একটা সংঘাতময় পরিস্থিতির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তাই অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হলে গণতান্ত্রিক নিয়ম-নীতি মেনেই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা কিংবা ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারায় প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে যায়যায়দিনের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মহাজোট সরকারের তিন বছর শেষে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এই সময়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেছে, বিএনপিরও বাড়ছে না। কিন্তু জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, এ দেশের জনগণ সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা দুটি দলের দুইবার করে সরকার পরিচালনা দেখেছে। এই সময়ের মধ্যে তারা মূল্যায়ন করতে পেরেছে, কোন দল এ দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এবং জনগণকে শান্তি, স্বস্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা দিয়েছে। সেই বিবেচনায়ই দেশের মানুষ এখন আবার জাতীয় পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটবে। কারণ, জনগণ ভুল করে না। জাপা নেতাদের অভিযোগ, মহাজোটে থেকেও তারা কোনো মূল্যায়ন পাননি। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি দলকে মূল্যায়ন করবে দেশের জনগণ। জাতীয় পার্টি জনগণের সেই মূল্যায়ন পেয়েছে এবং পাচ্ছে। এটাই তাদের বড় পাওয়া। সব জরিপই বলেছে, জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর চেয়ে বড় মূল্যায়ন আর কী হতে পারে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এককভাবে লড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। জাতীয় পার্টি একটি নির্বাচনমুখী দল। তাদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। কারণ, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং সরকার পরিবর্তনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল হয়েছে, এখন দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কিনা জানতে চাওয়া হলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ কেন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, জনগণ যাদের নির্বাচিত করে দেশের দায়িত্ব অর্পণ করে, তারা সততার সঙ্গে একটি নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে না, এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। সব গণতান্ত্রিক দেশেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারাও চান একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন। এখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে শুধু রাষ্ট্রের রুটিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। নির্বাচনী কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। এছাড়া অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। জাতীয় পার্টি সবসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়েছে। দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তার কোনো নিজস্ব পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে এরশাদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এখানে দলীয় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। তারা নির্বাচনী নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান। সব দল যদি নির্বাচনী অনুশাসন মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, সেটাই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সহায়ক হয়। তিনি আশা করেন, সব দলই তাদের মতো নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচন হবে। এটা কিভাবে সম্ভব_ এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে, এ ধরনের কথা তিনি কখনো বলেননি। তার বক্তব্য ছিল, কে নির্বাচনে আসবে, কে আসবে না, সেটা তাদের দেখার বিষয় নয়। নির্বাচন হলে তারা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বিএনপি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কিনা এবং হলে সেক্ষেত্রে তার এবং তার দলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাওয়া হলে এরশাদ বলেন, তিনি তো মনে করেন, সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কেউ যদি নির্বাচনে না আসে, তার জন্য তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। রাজনৈতিক সঙ্কট মোচনে জাতিসংঘের মহাসচিব রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি কী মনে করেন, সংলাপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এর উত্তরে তিনি বলেন, অন্যের পরামর্শ নিয়ে তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো দৈন্য সৃষ্টি হয়নি। তবে জাতীয়ভাবে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে সংলাপ হতেই পারে। মহাজোটে জাতীয় পার্টি থাকছে না_ এটা চূড়ান্তভাবে বলার সময় এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, তিনি কখনো বলেননি, তারা মহাজোটে নেই। মহাজোট একটি নির্বাচনী জোট। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেই তারা কোনো জোটে থাকবেন কিনা কিংবা নতুন কোনো জোট গঠন করবেন কিনা, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সেই সময় এখনো আসেনি। বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে, আপনি বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন; এটা কতটা সত্য_ জানতে চাওয়া হলে জাপা নেতা উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, তাহলে গত নির্বাচনে বিএনপি কি বিরোধী দল হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল? কিংবা ২০০১ সালে আওয়ামী লীগও কি বিরোধী দল হতে চেয়েছিল? তেমনিভাবে তারাও বিরোধী দল হওয়ার জন্য রাজনীতি করেন না। অতীতে তারা ক্ষমতায় ছিলেন, আগামীতেও ক্ষমতায় যাওয়ার আশা রাখেন। তাছাড়া এবার জাতীয় পার্টির সামনে সুবর্ণ দিন অপেক্ষা করছে। কারণ, ১৯৯০ সালের পর শুধু ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে; জনগণের প্রত্যাশার কোনো প্রাপ্তি ঘটেনি। তাই দেশবাসী উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রাজনীতি দেখতে চায়, যা জাতীয় পার্টি ৯ বছরে উপহার দিয়েছিল। এ কারণেই আশা করতে পারেন, আগামী নির্বাচনে তারাই বিজয়ী হবেন। গত নির্বাচনের আগে মহাজোট আপনাকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এই সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আবার যদি কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, তাহলে তা রাখার গ্যারান্টি কী? সেক্ষেত্রে আপনি কী ভূমিকা রাখবেন_ এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা ভাবছেন না। রাষ্ট্রপতি তিনি ছিলেন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা ছিল তার হাতে। সেখান থেকে শুধু নামমাত্র রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছা তার নেই। তিনি দেশ এবং জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। তার জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা প্রয়োজন। তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণের জন্যই রাজনীতি করেন। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়, আপনি নাকি ভারতের কথায় ওঠেন-বসেন, আর ভারত থেকে এসেই টিপাইমুখ লংমার্চ করেছেন, কিছুদিন পর তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ করছেন_ এটা কি পরিকল্পিত, না ভারতের পরামর্শে_ জানতে চাওয়া হলে এরশাদ বলেন, এটা তার কাছে একটা অবান্তর প্রশ্ন বলে মনে হয়। তিনি ভারতে গিয়েছিলেন খাজা বাবার মাজার শরিফে। তার কাছে দোয়া চাইতে। সেখানে রাজনীতির কিছু ছিল না। যারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করেনি এবং ভারতের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে টিপাইমুখে বাঁধ দেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কথা বলেনি, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের গণমুখী কর্মসূচির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে অবাস্তব ও অবান্তর অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে। সেদিকে কর্ণপাত করার অভিরুচি তার নেই। তিনি কারো কথায় বা পরামর্শে রাজনীতি করেন না। ভারত টিপাইমুখে বাঁধ দিতে চায়, তিনি এর বিরোধিতা করেছেন। বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়ার বিষয়টি সুরাহা করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে। এসব কথা কি ভারত বলে দেবে? তিনি রাজনীতি করেন দেশ এবং জনগণের স্বার্থে। তার সব কর্মসূচি ও কর্মকা- দেশবাসীকে নিয়ে। তারাই তার রাজনীতির মূল্যায়ন করবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে