Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৬-২০১২

বিরোধী জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু

বিরোধী জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু
বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো নবম জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন। স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে গতকাল বিকালে এ অধিবেশন শুরু হয়। বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার কোন প্রচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি সমপ্রতি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়ায় সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনা হবে ৪০ ঘণ্টা। এদিকে স্পিকার তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বিরোধী দলকে আবারও সংসদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। নবনির্বাচিত পাঁচ নারী সংসদ সদস্য বেবী মওদুদ, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, পিনু খান, হাসিনা মান্নান ও ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী প্রথমবারের মতো সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৭ কার্যদিবসের অধিবেশন চলবে আগামী ৮ই মার্চ পর্যন্ত। এদিকে নবম জাতীয় সংসদের তিন বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালের এদিনে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। আর সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো  প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানের ভাষণ সরাসরি সমপ্রচার করেছে ‘সংসদ বাংলাদেশ’ বা সংসদ টিভি।
স্পিকারের আহ্বান: এর আগে অধিবেশনের শুরুতে দেয়া স্বাগত বক্তব্যে স্পিকার বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দেয়ার আবারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসে জনগণের কথা বলা এমপিদের পবিত্র দায়িত্ব। তাই আমি আশা করবো সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যগণ জনপ্রত্যাশা পূরণে সংসদকে সকল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে অব্যাহত প্রয়াস চালাবেন। স্পিকার বলেন, সংসদ জাতীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। কারণ সংসদ জনগণের। জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও তাদের প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণের জন্য সংসদই হচ্ছে প্রধান ক্ষেত্র। সংসদকে কাজে লাগিয়েই সরকারি ও বিরোধী দলের মাননীয় সদস্যগণ তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে পারেন। সংসদ কার্যকর থাকলেই গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সুসংহত হয়। সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সংসদে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারে এবং সরকার পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। আমি প্রধান বিরোধী দলের মাননীয় সংসদ সদস্যগণকে অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক কিন্তু জাতীয় স্বার্থে একে অন্যের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় স্বার্থে একযোগে কাজ করবে- নতুন বছরে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
সভাপতিমণ্ডলী নির্বাচন: স্বাগত বক্তব্যের পর স্পিকার চলতি অধিবেশনের জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী নির্বাচিত করে তাদের নাম ঘোষণা করেন। এরা হচ্ছেন- আবদুল মতিন খসরু, মো. মুজিবুল হক, আকম মোজাম্মেল হক, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও নাজমা আক্তার। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তারা অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
শোক প্রস্তাব: এরপর স্পিকার সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জাতীয় অধ্যাপকসহ ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরা হচ্ছেন- সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বর্তমান সংসদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ রাশেদ মোশাররফ, সাবেক হুইপ আবদুর রউফ, সাবেক সংসদ সদস্য শামসুর রহমান খান শাহজাহান, আটজন সাবেক সংসদ সদস্য এমএ কফিল উদ্দিন, ভাষাসৈনিক এমএ ওহাব, এডভোকেট মো. হামিদুজ্জামান সরকার, উইং কমান্ডার (অব.) মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম আর মজুমদার, নজরুল ইসলাম, আবদুল হাই, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নিত্যানন্দ দাস চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক রশীদ তালুকদার, সংসদ সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. আবুল হোসেন ও সহকারী সচিব মো. নাজিম উদ্দিন খন্দকার, ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেন, আবদুল খালেক, বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা স্যামসন এইচ চৌধুরী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অমল বোস। এদিকে আবদুর রাজ্জাকের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েক জন এমপি আলোচনায় অংশ নেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাজ্জাক সাহেব মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। সংগঠন করার মতো ভাল শক্তি ছিল তার। আমরা সাংগঠনিকভাবে দক্ষ একজন দেশপ্রেমিক নেতাকে হারিয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হলে আমার মা ছাত্রলীগকে পরিচালনা করতেন। রাজ্জাক ভাই তাকে সহযোগিতা করতেন। প্রত্যেক আন্দোলন-সংগ্রাম, মিটিং-মিছিলে তার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেমেয়েকে স্নেহবঞ্চিত করে বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র ফিরে আসে তার জন্য দেশে আসি। সাংগঠনিকভাবে আমি রাজ্জাক সাহেবের ওপর খুব ভরসা করতাম। ১৯৮৩ সালে তিনি একটি পর্যায়ে আমাদের দল ছেড়ে চলে যান। তখন সত্যিকার খুব দুঃসময় ছিল পার্টির জন্য। তিনি চলে যাওয়ার জন্য পার্টিকে গড়ে তোলা কঠিন হয়। তারপরও দলকে সুসংগঠিত করি। এক পর্যায়ে ১৯৯৩ সালে আবার ফিরে আসেন। তাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তাকে পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেই। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করি। আলোচনায় অংশ নেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, এডভোকেট রহমত আলী, আমির হোসেন আমু, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, রাশেদ খান মেনন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রমুখ। এসময় তারা প্রয়াত আবদুর রাজ্জাকের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পরে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।
অধ্যাদেশ উপস্থাপন: এদিকে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচটি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে- মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ-২০১১, পাবলিক সার্ভেন্ট (রিটায়ারমেন্ট) (্‌অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স-২০১১, অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা অধ্যাদেশ-২০১২, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০১২ ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১২। সংসদ অধিবেশন না চলা অবস্থায় আইনের আলোকে  কোন বিষয়ে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনে সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে  প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।  কোন অধ্যাদেশ প্রণয়নের পরে তা সংসদের পরবর্তী প্রথম বৈঠকে উত্থাপনের নিয়ম রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উত্থাপনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে তা তামাদি হয়ে যায়।  সেক্ষেত্রে ৫টি অধ্যাদেশ যে এ অধিবেশনেই আইনে পরিণত করা হবে তা নিশ্চিত।  প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর অধিবেশন আগামী ২৯শে জানুয়ারি রোববার বিকাল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে