Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৬-২০১২

সেনা নয়, গণঅভ্যুত্থানেই সরকারের পতন ঘটানো হবে...

সেনা নয়, গণঅভ্যুত্থানেই সরকারের পতন ঘটানো হবে...
সেনা নয়, গণঅভ্যুত্থানেই সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’র আলোচনায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পুরনো পথেই হাঁটছে। বিদেশী প্রভুদের গোলামির জিঞ্জির পরে তারা অভিনব কায়দায় একদলীয় শাসনে ফেরার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে তরুণ-যুবকদের নেতৃত্বে দিতে হবে। তবে কোন সেনা অভ্যুত্থান নয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশী নির্যাতনের ঘটনায় ভারতের পত্রিকা দ্য হিন্দু ভারত সরকারকে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছে। কি দুর্ভাগ্য আমাদের। ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশী নাগরিক নির্যাতনের প্রতিবাদ করলেও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, এটি স্বাভাবিক ঘটনা। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বলা হচ্ছে ‘এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’ মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবাদ করবে কি করে? তারা গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে তাদের হাত তো শেকলে বাঁধা। সুতরাং আসুন, কোন সেনা অভ্যুত্থান নয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার উৎখাত করি। আওয়ামী লীগের চরিত্র ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, হিউম্যান রাইট ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সরকারের মদতে দেশে গুম-খুনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। মানুষ লাশের কোন হদিস পাচ্ছে না। এমনকি জনগণ আদালতে বিনা বিচারে হত্যা, গুমের বিচার চেয়েও পাচ্ছে না। তিনি বলেন, সংবাদপত্রে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি বিষয়ে সত্য কথা প্রকাশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন- সাংবাদিকরা এসব কি লিখছে! দেশের বুদ্ধিজীবীরা সরকারের ব্যর্থতার কথা টেলিভিশনের টকশোতে আলোচনা করলে তিনি দ্বিমত পোষণ করছেন। আগামী ২৯শে জানুয়ারি গণমিছিল ও ১২ই মার্চ ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করুন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি ঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে কোন ঘটনার জন্ম দিলে দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন- গুপ্তহত্যা, গুম, খুন ও মামলার ভয়ে গণতন্ত্র আজ কাঁপছে। ’৭২-৭৫-এর শাসন আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকারের শাসনের মধ্য দেখা যাচ্ছে অপূর্ব মিল। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম দেখেনি ’৭২-৭৫-এ কি হয়েছিল? আজকের আওয়ামী লীগ নানা রকম উদ্যোগ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কোমলমতি শিশুদের শেখ মুজিব সম্পর্কে জানায়। কিন্তু তার সর্বশেষ দর্শন বাকশাল সম্পর্কে কিছু শেখায় না। সেদিনও বিরোধীদলকে দমন করা হয়েছে, এখন তা হচ্ছে ভয়াবহ মাত্রায়। এ সরকারের ৩ বছরের শাসনামলে খুন হয়েছে ৯৪০০ জন, অপহরণ হয়েছে ১২৮০ জন, ক্রসফায়ার হয়েছে ৪০৪ জন,  রাজনৈতিক খুন হয়েছে ৬০০ জন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ হয়েছে ২৩ জনের এবং সরকারি দলের মামলা প্রত্যাহার হয়েছে ৭১০০টি। এ ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে জাতি আবারও ’৭২-৭৫-এর মতো একটি আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ ’৭২-৭৫-এর শাসন সম্পর্কে জানে না। ২৪ বছরের আন্দোলনের ফসল ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন এ দেশটিকে আওয়ামী লীগ লুটে নিয়েছে। ’৭৫-এর ২৫শে জানুয়ারিতে মাত্র ১১ মিনিটে জাতীয় সংসদে কালো আইন পাস করে সব দলকে বিলুপ্ত করে বাকশাল কায়েম করা হয়। জানুয়ারি মাসকে এদেশে কালো মাস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বারবার তা আওয়ামী লীগই হত্যা করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগের লুটপাট ও দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এক বছরে ৩৩টি ব্যাংকে ডাকাতি, এক মাসে ১৯টি থানায় হামলা, ৪০০ অস্ত্র লুট এবং ১৬ মাসে ১৯টি গুপ্তহত্যা করা হয়। বর্তমান সরকার এবং ’৭২ থেকে ’৭৫ সালের সরকার মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। মাহমুদুর রহমান বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের পর এ জাতির অপমানের আর কিছু বাকি থাকে না। এখন তরুণ প্রজন্মকে সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নামতে হবে। প্রফেসর ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, মুক্তিসংগ্রামের চেতনাকে বাকশালের মাধ্যমে শেখ মুজিব কবর দিয়েছিল। এবার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নতুন কবর খুঁড়েছেন। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. খলিলুর রহমান, ডিইউজে (একাংশের) সভাপতি আবদুস শহীদ, শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালের প্রফেসর ডা. সিরাজউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আখতার হোসেন খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবদুল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
একদলীয় শাসনকে রুখতে
হবে: আনোয়ার
এদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে এ ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘এক দলীয় শাসনব্যবস্থা, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন, জনগণ চারবেলা খাবার খাচ্ছে। এর চেয়ে জঘন্য মিথ্যাচার আর হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের চেলা-চামুণ্ডারা হয়তো ঠিকই চারবেলা খাচ্ছেন, তবে জনগণ নয়। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে