Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-০৫-২০১৪

কাহালুর কৃষক করিম কীটনাশক ছাড়াই লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন

কাহালুর কৃষক করিম কীটনাশক ছাড়াই লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন

বগুড়া, ৫ মে- বগুড়ার কাহালুর সফল কৃষক আব্দুল করিম আকন্দ বিনা কীটনাশকে সাচি লাউয়ের চাষ করে একদিকে যেমন তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন তেমনি অপরদিকে তার নিজ এলাকাসহ উপজেলায় সবজির চাহিদা পুরণ করার সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
কৃষক আব্দুল করিমের বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায়। তার বর্তমান বয়স ৫০ বছর। ১৯৮০ সালে তিনি কাহালু উপজেলার মালঞ্চা মাঠপাড়া গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। করিম এইচএসসি পাস করার পর প্রথমে তিনি বাড়িতে মুরগির ফার্ম গড়ে তোলেন। তিন বছর মুরগি পালন করাকালে ব্যবসায় ধস নামায় তিনি ওই ব্যবসা বাদ দিয়ে ২০১০ সালে মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লাউ চাষ শুরু করেন। এরপর এক বিঘা এবং পরবর্তীতে ৭ বিঘা জমিতে মিষ্টি লাউয়ের চাষ করে সাফল্য অর্জন শেষে এবছর তিনি বাড়ির পাশের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ৩ বিঘা জমিতে বাঁশের মাচা দিয়ে বিনা কীটনাশকে সাচি লাউয়ের চাষ করেন।
কৃষক আব্দুল করিমের লাউ ক্ষেতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ক্ষেতে মাচার নিচে শত শত সাচি লাউ ঝুলছে। আব্দুল করিম জানান, প্রতিদিন ১৫০ পিসের উপরে তিনি পাইকারি দামে লাউ বিক্রি করে থাকেন। লাউ বিক্রি করার জন্য তাকে কোথাও যেতে হয় না বাইরের ব্যবসায়ীরা তার জমিতে এসে লাউ কিনে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫ হাজার পিচ লাউ বিক্রি করেছেন। তার লাউ কাহালু বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। লাউ উৎপাদনের শুরুতে প্রতি পিস লাউ তিনি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করেন এবং বর্তমানে প্রতি পিছ লাউ ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষক করিম জানান লাউ লাগানোর উপযুক্ত সময় হলো ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বিক্রি শুরু হয়। তিনি জানান, লাউ চাষে খরচ খুবই কম। শুধুমাত্র মাচা তৈরি করার বাঁশ, সুতলি তেনম কোন সার বা কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়না । তিনি লাউ ক্ষেতে কোন কীটনাশক ব্যবহার না করে শূধু বরুন সার (ভিটামিন জাতীয়) আর চুন (ক্যালশিয়াম জাতীয়) ব্যাবহার করেছেন। তবে তার এবারের লাউ চাষে আনুমানিক খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
লাউ বিক্রি হবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে লাউয়ের ফলন এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই তিনি বর্তমানে লাউয়ের জমির উত্তর পাশে আড়াই বিঘা জমিতে নতুন জাতের লাউ চাষ শুরু করেছেন। বাংলা জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে এ লাউয়ের উৎপাদন ও বিপণন শুরু হবে বলে তিনি জানান।
কৃষক আব্দুল করিমের নিজস্ব তেমন জমি নেই, পত্তনি নিয়ে সর্বমোট ৯ বিঘা জমিতে ধান, মেন্টাল জাতের বেগুনসহ তিনি বিভিন্ন ফসলের চাষ করে থাকেন। শুধু তাই নয় তার বাড়িটিও 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের মতো। তার বাড়িতে রয়েছে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, ডালিম, আতা, জলপাই, বেদানা, আমড়াসহ আরও অনেক ফলের গাছ। এছাড়াও তার গোয়ালে রয়েছে দুধেল গাভীসহ ৪টি গরু। আরও রয়েছে হাঁস, মুরগি, কবুতরসহ মাছ চাষ করার নিজস্ব ১টি পুকুর।

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে