Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (90 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৩-২০১৪

বড়োভূমিতে জঙ্গি হানায় হত ২৩

বড়োভূমিতে জঙ্গি হানায় হত ২৩

গুয়াহাটি, ০৩ মে- হাতে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, মুখে কালো কাপড়। রাতের অন্ধকারে ২০-২৫ জন জঙ্গি ঢুকল জঙ্গল-পাহাড়ে ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। এক একটি বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল। তার পর চড়াও হল পাশের বাড়িতে।

২০০৯ সালের ভীমাজুলি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ফের নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যা করল বড়ো জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি। সে বার হামলা হয় রঞ্জন দৈমারির নেতৃত্বে। প্রাণ হারান ১২ জন অ-বড়ো গ্রামবাসী। এ বারও গুলির নিশানায় তারাই। দু’টি জায়গায় হানা দিয়ে ২৪ ঘন্টায় মোট ২৩ জনকে খুন করেছে জঙ্গিরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাক্সা জেলার কিছু অংশে আজ সন্ধে থেকে রাত কার্ফু বলবৎ করার পাশাপাশি, উত্তেজনা প্রবণ এলাকাগুলিতে শান্তি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বাক্সা ও কোকরাঝাড়ের কিছু অংশে রাতে ফ্ল্যাগ মার্চ করেছে সেনাবাহিনী।

রঞ্জন দৈমারি শান্তি আলোচনার রাস্তায় এগিয়েছেন। কিন্তু সংবিজিতের নেতৃত্বে এনডিএফবি-র একটি বড় অংশ এখনও নাশকতার পথে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারাই গত রাতে হামলা চালায়। দিল্লিতে উত্তর-পূর্বের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্মসচিব শম্ভু সিংহের বক্তব্য, “বড়ো জঙ্গিরা আরও এক জনজাতি সংঘর্ষ লাগাতে চাইছে। যে কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হত্যালীলা চালানো হয়েছে।” তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ওই এলাকায় আরও ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওখানে ৩৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এবং বিপিএফ প্রধান হাগ্রামা মহিলারি মানুষকে আতঙ্কিত না-হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। নিহতদের নিকটাত্মীয়কে ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবেরাজ্য সরকার।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বাক্সা জেলার আনন্দবাজারে। পুলিশ জানায়, কালাপানি নদীর তীরে নরসিংহবাড়ি গ্রামে রাত ৮টা নাগাদ হানা দেয় ৪ জঙ্গি। একে ৪৭ রাইফেল ছিল তাদের কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা সাইকেলে এসেছিল। প্রথমে সোনা মিয়াঁর ঘরে ঢুকে গুলি চালাতে থাকে। গুলিতে মৃত্যু হয় সোনা মিয়াঁ, তাঁর স্ত্রী রুমিসা খাতুন ও আত্মীয় চম্পা বেওয়ার। গুলিবিদ্ধ হলেও সোনার দুই মেয়ে রসিদা খাতুন (১২) ও তসলিমা খাতুন (৩) বেঁচে গিয়েছে। তাদের মৃত ভেবে জঙ্গিরা চলে যায়। দু’জনেই বরপেটা হাসপাতালে ভর্তি। তসলিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রথম ঘটনার পরই বড়োভূমিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়। কিন্তু রাত সওয়া ১১টা নাগাদ ফের আঘাত হানে জঙ্গিরা। কোকরাঝাড়ের পর্বতঝোরা জঙ্গলের লাগোয়া বালাপাড়ায় চড়াও হয় জনা পঁচিশ জঙ্গি। মহম্মদ শেখ আলি জানান, জঙ্গিরা তাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ঢোকে। বিপদ বুঝে খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন আলি। কিন্তু তাঁর মা, স্ত্রী, মেয়েকে বাঁচানোর সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, “অন্ধকারে পর পর গুলির শব্দ শুনতে পাই। প্রথমে আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চিৎকার শুনি। তার পর আমার মা, মেয়ের। কিছুই করতে পারিনি। জঙ্গিরা বেরিয়ে গেলে, ছেলেকে নিয়ে পালাই।” গুলিতে জখম ফরিদ আলি জানান, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিএসএফ বাহিনী এলাকায় টহল দিয়ে যায়। তার কিছু ক্ষণ পরই জঙ্গিরা গ্রামে ঢোকে। পাঁচটি বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকেছিল তারা। দু’টি বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ওই গ্রামে জঙ্গি হামলায় নিহত হন ৫ জন মহিলা, দু’টি শিশু। অন্য দিকে, গত কালই অফিস থেকে ফেরার সময় জঙ্গিদের সামনে পড়ে যান সাংবাদিক ধনঞ্জয় নাথ। জঙ্গিরা তাঁকেও গুলি করে। জখম অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তামুলপুরেও দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম হন এক জন। বাক্সা-কোকরাঝাড় সীমানায় একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় জঙ্গিরা। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৬টি বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।

কোকরাঝাড়ের এসপি সুনীল কুমার জানান, হত্যাকারীদের সন্ধানে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। সম্ভবত, এনডিএফবি জঙ্গিরা ঘটনায় জড়িত। বড়োভূমিতে যাতে ফের গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু না-হয়, হামলাকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। প্রাক্তন আলফা জঙ্গি তথা কোকরাঝাড়ের অ-বড়ো মঞ্চ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হীরা শরনিয়া বলন, “প্রমীলা রানি ব্রহ্ম অ-বড়োদের যে ভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন, তাতে সন্দেহের তির বিপিএফের দিকেই যাচ্ছে। ওদের হাতেও হাজারখানেক অস্ত্র রয়েছে।” এবিআমসু নেতা লাসিকুল ইসলামের দাবি, ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। তাঁরও অভিযোগ, বিপিএফ-ই ওই ঘটনায় জড়িত। অ-বড়োদের তাড়াতেই ষড়যন্ত্র করছে বিপিএফ। আমসু সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, “সরকারি উদাসীনতার জন্যই এই ঘটনা ঘটল। বড়োভূমিতে জঙ্গিদের সমান্তরাল প্রশাসন চলছে। অবিলম্বে বিটিসি ভেঙে দিয়ে এখানে সেনা শাসন জারি করা হোক।” আবসু সভাপতি প্রমোদ বড়ো বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ইউনিফায়েড কম্যান্ডের প্রধান। তার পরেও কেন নাশকতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?”

আসাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে